এশিয়ান গেমসে থাকার জায়গা নেই, অ্যাথলেটদের ‘নিজের ব্যবস্থা’ করতে বলল জাপান
এশিয়ান গেমস শুরুর আর তিন সপ্তাহও বাকি নেই। অথচ অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের থাকার জায়গা নিয়ে বিপাকে পড়েছে আয়োজক জাপান। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অংশগ্রহণকারী বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে বলেছে আয়োজক কমিটি।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের নাগোয়া ও আইচিতে হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। শুরুতে প্রায় ১৫ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে এশিয়ান গেমসের আয়োজক সংস্থা অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) জানিয়েছে, এবারের গেমসে অংশ নিতে পারেন প্রায় ১৭ হাজার মানুষ—১১ হাজার অ্যাথলেট ও ৬ হাজার কর্মকর্তা।
এই বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে এখন আবাসনসংকটে পড়েছেন আয়োজকেরা। আয়োজক কমিটির সভাপতি ও আইচি প্রিফেকচারের গভর্নর হিদেয়াকি ওমুরা বলেছেন, বাড়তি সদস্যদের ব্যবস্থা করার মতো অর্থ ও জনবল কোনোটিই তাদের নেই। শুক্রবার এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আয়োজক শহরের চুক্তিতে ১৫ হাজার সদস্যের প্রতিনিধিদলের কথা বলা হয়েছে। এর বেশি মানুষের জন্য আমরা কোনো বাজেট রাখিনি। থাকার জন্য আসলে জায়গাই নেই।’
বিবিসি জানিয়েছে, অন্যান্য প্রতিযোগিতার মতো এবারের এশিয়ান গেমসে আলাদা কোনো অ্যাথলেট ভিলেজ থাকছে না। খরচ কমাতে আয়োজকেরা অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন। ইতালির প্রমোদতরি কোস্টা সেরেনায় থাকবেন ৪ থেকে ৫ হাজার অ্যাথলেট। আরও প্রায় ২ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা থাকবেন জাহাজে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত কনটেইনারের আদলে তৈরি অস্থায়ী কক্ষে।
অন্যরা থাকবেন বিভিন্ন হোটেলে। সাঁতার, ডাইভিং ও অশ্বারোহণের মতো কয়েকটি ইভেন্ট হবে টোকিওতে। সেসব ইভেন্টের অংশগ্রহণকারী ও কর্মকর্তাদেরও টোকিওর হোটেলে রাখার পরিকল্পনা করেছেন আয়োজকেরা।
এশিয়ান গেমসের ক্রীড়া তালিকায় এ বছর নতুন করে যুক্ত হয়েছে টেকবল ও প্যাডেল। ফুটবল ও টেবিল টেনিসের সমন্বয়ে তৈরি টেকবল এবং প্যাডেলের অন্তর্ভুক্তির পরই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বড় আকারে বেড়েছে।
নাগোয়ার মেয়র ও স্থানীয় আয়োজক কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইচিরো হিরোসাওয়া বলেছেন, বাড়তি মানুষকে জায়গা দেওয়াটা সময় ও জায়গা দুই দিক থেকেই কঠিন। আর্থিক চাপও আছে, ‘আমরা খুব সীমিত বাজেটে কাজ করছি।’
এমন পরিস্থিতিতে আয়োজকেরা অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন কি না প্রশ্নে ‘না’ বলেছে স্থানীয় আয়োজক কমিটি। তাদের বক্তব্য, কিছু দলের কর্মকর্তাকে নিজেদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ওমুরার কথায়, ‘তাঁরা যদি তবু আসতে চান, তাহলে তাঁদের নিজেদের ব্যবস্থা করতে হবে।’
আয়োজক কমিটির দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রতিদিনই পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ এবারের এশিয়ান গেমসে অংশ নেবেন—এটা এখন প্রায় নিশ্চিত।