'অ্যাওয়ে গোল' বাতিল করো, দাবি মরিনহো-ওয়েঙ্গারদের

>ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে (চ্যাম্পিয়নস লিগ) ‘অ্যাওয়ে গোল’ নিয়মের বাতিল চান কয়েকজন বিখ্যাত কোচ। উয়েফার সভায় এই দাবি নিয়ে আলোচনা হবে।
দুই লেগ মিলিয়ে দুই দলের গোল সমান হলেও প্রতিপক্ষের মাঠে বেশি গোল করা দলটি জয়ী। চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ সহ বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ফুটবলে নিয়মটি চালু আছে। কেমন হয় যদি এ নিয়মটি উঠে যায়?
‘অ্যাওয়ে গোল’-এর এই নিয়ম তুলে দেওয়ার পক্ষে ইউরোপের ডাকসাইটে কিছু ক্লাবের কোচ। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে (চ্যাম্পিয়নস লিগ) নিয়মটি তুলে দেওয়া যায় কিনা, তা উয়েফাকে পর্যালোচনা করে দেখার অনুরোধ করেছেন এসব কোচ। এ ছাড়া দলবদলের বাজার নিয়েও নিয়ম সংস্কারের দাবি তোলা হয়েছে। কোচদের দাবি, সব মহাদেশের শীর্ষস্থানীয় লিগে দলবদলের বাজার শেষ হোক একই সময়ে।
সুইজারল্যান্ডে এক বার্ষিক বৈঠকে এ দুটি দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন হোসে মরিনহো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি (এসি মিলান), কার্লো আনচেলত্তি (নাপোলি), উনাই এমেরি (আর্সেনাল), হুলেন লোপেতেগি (রিয়াল মাদ্রিদ), পাওলো ফনসেকা (শাখতার দোনেতস্ক), থমাস টুখেল (পিএসজি) ও আর্সেনালের সাবেক কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার।
কোচদের মতে, প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে গোল করা এখন আর আগের মতো কঠিন কোনো ব্যাপার না। নিয়মটি দুই দলের ক্ষেত্রে পরস্পর-বিরোধী বলেও মনে করছেন তাঁরা। এই নিয়মে নকআউট পর্বে স্বাগতিক দল ঢুকে যায় রক্ষণ খোলসে। কারণ, প্রতিপক্ষে ‘অ্যাওয়ে গোল’-এর সুবিধা পেয়ে গেলে বেশ পিছিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে সফরকারি দল ‘অ্যাওয়ে গোল’ তুলে নিতে আক্রমণাত্মক খেলে থাকে। উয়েফার ভারপ্রাপ্ত জেনারেল সেক্রেটারি গিওর্গি মারচেত্তি জানিয়েছেন, কোচেরা মনে করেন ‘এই ব্যাপারটা ভালোভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’
মরিনহো-অ্যালেগ্রিদের এই দাবি উয়েফার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছেন মারচেত্তি। তিনি বলেন, ‘কোচেরা মনে করেন, প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে গোল করা এখন আর আগের মতো কঠিন কোনো কাজ নয়। তাঁরা এ নিয়মটির পুনর্মূল্যায়ন চান এবং আমরা তা করব।’
১৯৬৫ সালে ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপে প্রথম ‘অ্যাওয়ে গোল’ নিয়ম চালু করা হয়। তখন প্রতিপক্ষে মাঠে গিয়ে খেলাটাই ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। লম্বা ভ্রমণ, বৈরী কন্ডিশনে ভোগান্তি পোহাতে হতো সফরকারি দলের খেলোয়াড়দের। কিন্তু এখন ব্যাপারটা রুটিনের পরিণত হয়েছে। এখন হরহামেশাই এক দল আরেক দলের মাঠে গিয়ে খেলছে।