যেদিন মাশরাফি 'সতর্ক'

ওয়ানডে সিরিজের আগে সতর্ক মাশরাফি। ছবি: প্রথম আলো
ওয়ানডে সিরিজের আগে সতর্ক মাশরাফি। ছবি: প্রথম আলো
>বাংলাদেশের হোয়াটইওয়াশ করানোর সম্ভাবনা আর তামিম ও সাকিবের দলে ফেরা...এই দুই প্রসঙ্গ মাশরাফি প্রত্যাশার মাত্রাটা নিচু সারিতে বেঁধে রাখলেন। কাল শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতেই বাংলাদেশ একটুর জন্য স্বাগতিকদের ধবলধোলাই করতে পারেনি। দ্বিতীয় ওয়ানডেটা মাত্র ৩ রানে হেরে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছিল ২-১-এ। এবার তাহলে নিজেদের মাটিতে কেন নয়?

আজ তাই সংবাদ সম্মেলনে অন্তত দুবার মাশরাফি বিন মুর্তজার দিকে হোয়াইটওয়াশের সম্ভাবনার প্রশ্নটি গেল। এদিক দিয়ে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মাশরাফির পার্থক্য। সাকিব কখনো কখনো সিরিজ নিয়ে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করে ফেলেন অকপটে। কিন্তু মাশরাফি একটু রয়েসয়ে খেললেন প্রশ্নটাকে নিয়ে। দুবারই হোয়াইটওয়াশের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন সতর্কভঙ্গিতে।

প্রথমত ওয়ানডে অধিনায়ক মনে করিয়ে গেলেন, খেলাটা টেস্ট নয় যে বাংলাদেশ অনায়াসে জিতবে। খেলার আকার যত ছোট হয়ে আসে, ক্যারিবীয়রা তত ভালো। কারণ? তাদের পেশিশক্তি। দলে বিগ হিটার আছে বেশ কজন। নির্দিষ্ট দিনে এদের একজন দাঁড়িয়ে গেলে বিশ্বের যেকোনো বোলিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে যায়।

মাশরাফি তাই হোয়াইটওয়াশ নিয়ে এখনই কথা বলতে রাজি নন, ‘এখনো ওয়ানডে একটাও শুরু হয়নি, হোয়াইটওয়াশের কথা তো মাথায় আসার সুযোগ নাই। তবে প্রথম ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যাক কাল কেমন হয়। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের আসলে পেশিশক্তি অনেক বেশি। এই ধরনের ফরম্যাটে এক-দুজন কিন্তু খেলা পাল্টে দেয়। এই জায়গাটায় ওদের কয়েকজন আছে এমন, প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করে দিতে পারে। ওদের জন্য ফরম্যাট যত ছোট হবে তত বেশি মানিয়ে নেবে। আমার কাছে মনে হয় প্রথম ম্যাচের দিকেই মনোযোগ থাকাটাই আপাতত সবচেয়ে ভালো।’

এ বছর বাংলাদেশ ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ফর্মে আছে। ১৭ ওয়ানডে খেলে ১১টাতেই জিতেছে। সর্বশেষ ৬ ম্যাচের ৫ টিতেই জয় নিয়ে কাল নামবে বছরের শেষ সিরিজ খেলতে। মাশরাফি মানছেন, কিছু অপ্রাপ্তি থাকলেও বছরটা ভালো গেছে, ‘এই বছরে আমাদের সাফল্যের হার বেশ ভালো। শুধু দুইটা ফাইনাল বাদ দিলে...অবশ্যই একটা ফাইনাল জিততে পারলেও ভালো হতো, বিশেষ করে এশিয়া কাপ ফাইনাল। এ ছাড়া আমার কাছে মনে হয় এই বছর আমাদের রেটিং (র‍্যাঙ্কিংয়ে) খুব ভালো আছে। আর অবশ্যই, ভালোভাবে শেষ করতে পারলে খুব ভালো হবে। বিশেষ করে সামনের বছর শুরু থেকে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। শেষটা ভালো করলে এই বছরটাও খুব ভালোভাবে শেষ হবে।’

এ কারণেই আসছে হোয়াইটওয়াশ প্রসঙ্গ। মাশরাফি ব্যাখ্যা করলেন, এখনই বেশি দূরে তাকিয়ে চাপ নিতে চান না, ‘একটা একটা ম্যাচ ভাবা ছাড়া সুযোগ নেই। প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগে তিনটা ম্যাচ নিয়ে ভাবলে অনেক চাপ আসে। প্রথম ম্যাচটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরেরটা পরে ভাবা যাবে।’

বাংলাদেশের শক্তিও বাড়ছে। জিম্বাবুয়ে সিরিজ দলের মূল দুই ভরসা ছিলেন অনুপস্থিত। সাকিব-তামিম দুজনই ওয়ানডে দলে ফিরে আসছেন। মাশরাফি তামিমকে নিয়েও একটু সতর্ক থাকতে বলছেন, ‘সাকিব তামিম দলে থাকা আমাদের জন্য বিরাট সুবিধা। প্রস্তুতি ম্যাচেও তামিম দারুণ খেলেছে, এটা তামিমের জন্যও স্বস্তি, আমাদের জন্যও স্বস্তি। একই সঙ্গে বলব যে ইনজুরি থেকে ফেরা এবং এসে পারফর্ম করা কিন্তু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তামিম আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছে বলে প্রত্যাশা করতে পারেন না যে পরের ম্যাচে নেমেও এক্সট্রা অর্ডিনারি ইনিংস খেলবে। এর থেকে ভালো ইনিংস খেলতে পারে, খারাপও হতে পারে। চোট থেকে ফিরলে কিন্তু বেশ কিছু দিন লাগে মানিয়ে নিতে। দুই মাস থেকে আড়াই মাস পর্যন্ত বাইরে ছিল। এটাও গুরুত্বপূর্ণ। সাকিব হয়তো দুইটা টেস্ট ম্যাচ খেলে কিছুটা মানিয়ে নিয়েছে। তামিমের কিছুটা সময় লাগতে পারে।'