পিকে, ফ্যাব্রিগাসদের বন্ধু বাংলাদেশ সম্পর্কে কী বললেন?

>বর্তমান বার্সেলোনার জেরার্ড পিকে, চেলসির সেস্ক ফ্যাব্রিগাসদের সঙ্গে ২০০৪ সালে স্পেন অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে খেলেছেন বসুন্ধরা কিংসে নাম লেখানো জর্জ গোটর ব্লাশ
বাংলাদেশ ভালো লাগে?
‘হ্যাঁ।’
বাংলাদেশের মানুষ?
‘খুব ভালো।’
বাংলাদেশের ফুটবল?
এ প্রশ্নে আটকে গেলেন জর্জ গোটর ব্লাশ। কী রেখে কী বলবেন, বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে এক গাল হাসি দিয়ে বললেন, ‘ফাইট, টু মাচ ফাইট।’
বর্তমান বার্সেলোনার জেরার্ড পিকে, চেলসির সেস্ক ফ্যাব্রিগাসদের সঙ্গে ২০০৪ সালে স্পেন অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে খেলেছেন বসুন্ধরা কিংসে নাম লেখানো স্প্যানিশ গোটর। স্পেনের প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব জারাগোজা, এসপানিওল ও গেটাফের ‘বি’ দলের জার্সিতে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে তাঁর। স্বাভাবিকভাবে এমন হাইপ্রোফাইল স্প্যানিশ ফুটবলারের কাছে বাংলাদেশের ফুটবলের স্বাদটা তো ভিন্ন হবেই। নিজ ক্লাবের অনুশীলন মাঠে বসে কোনো রাখঢাক না রেখেই প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা, ‘বাংলাদেশের ফুটবলে মারামারিটা একটু বেশি। পাসিংয়ের মান ভালো না। খেলোয়াড়দের টেকনিকেও সমস্যা আছে, যা অন্যান্য দেশে দেখা যায় না। তবে শুনেছি আগের চেয়ে এখন খেলার মান ধীরে ধীরে ভালোর দিকে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ পর্ব প্রথম হলেও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সম্পর্কে গোটরের ভালোই জানা। বসুন্ধরায় নাম লেখানোর আগে এক মৌসুম খেলেছেন মালদ্বীপ চ্যাম্পিয়ন নিউ রেডিয়ান্টে। বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ফুটবলের পার্থক্যটাও করলেন যথার্থই, ‘বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ফুটবলের মান অনেকটা কাছাকাছি। কিন্তু মালদ্বীপে একাডেমি থাকার সুফলটা পাচ্ছে। ওদের খেলোয়াড়েরা অনেক স্কিলফুল হওয়ায় খেলাটাও সুন্দর।’

স্পষ্ট, বাংলাদেশের ফুটবল গোটরের রোচে না। আর বাংলাদেশি খাবার ঝাল ও মসলাযুক্ত হওয়ায় মুখে তোলা হয় না। ঢাকার যানজট নিয়েও আছে তাঁর অসন্তুষ্টি। কিন্তু দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষকে ভালো লেগেছে । বর্তমানে তারকা হয়ে ওঠা বন্ধুদের সঙ্গে কয়েক বছর আগে যোগাযোগ থাকলেও এখন আর নেই। সেই তারকা বন্ধুদের নিয়ে কিছুটা দুঃখও ঝরল কিংসের ডিফেন্ডারের মুখে, ‘পিকে, ফ্যাব্রিগাস, আদানসহ (রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক গোলরক্ষক) ইউরোপিয়ান ফুটবলে আমার অনেক তারকা বন্ধু আছে। পাঁচ বছর আগেও তাদের সঙ্গে অনেক যোগাযোগ ছিল। এখন আর নেই। এই সময়ে আমাদের সবার মোবাইল নম্বরই বদলে গেছে।’
কিশোর বয়সের সতীর্থ বন্ধুরা বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় তারকা। ইউরোপের কোনো পর্যায়ে তো নয়ই, গোতরকে খেলতে হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের ফুটবলে। এই নিয়ে আফসোস হয় না? বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিলেন ৩১ বছর বয়সী ডিফেন্ডার, ‘ফুটবল থেকে যা পেয়েছি, আমি সন্তুষ্ট। ইউরোপিয়ান পর্যায়ে খেলা অনেক কঠিন। আমি আমার ধারাটা ধরে রাখতে পারিনি।’
বিশ্বের অন্যতম সেরা স্টেডিয়াম সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে বসুন্ধরা ডিফেন্ডারের। কোপা ডেল রের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঠেকানোর স্মৃতি তাঁর এখনো তরতাজা, ‘সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলার রোমাঞ্চ আমি এখনো অনুভব করি। কোপা ডেল রেতে আমার বিপক্ষে রোনালদো, রামোস, বেনজামারা খেলছেন; অন্য রকম অনুভূতি। বাংলাদেশে আসার পর সেই গল্পগুলো অনেকেই শুনতে চায়।’
গায়ে স্প্যানিশ রক্ত। ফলে, সেন্টারব্যাক হলেও ধুমধাড়াক্কা ফুটবলে পারদর্শী নন গোতর। রক্ষণভাগ সামলে নিচ থেকে বিল্ডআপ আক্রমণ গড়েন। তাঁর নিখুঁত পাসিং দেখে গ্যালারিতে বসে খুব সহজেই আলাদা করা যায় গোটরকে।