পাঁচ শ রান? ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলছে সম্ভব

>ওয়ানডেতে প্রথম দল হিসেবে ৫০০ রান তুলতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ওয়ানডে খেলার ধাঁচ বিবেচনা করলে চাওয়াটা মোটেও অলীক কোনো স্বপ্ন নয়। বিশ্বকাপের আয়োজক কর্তৃপক্ষও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে
একটা সময় ছিল যখন ২৫০ ছিল অনেক কিছু! ২৭০-২৮০ রান উঠে গেলে আগে ব্যাটিং করা দল জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যেত। ৩০০ হলে তো কথাই নেই। রান তাড়াটা হয়ে যেত নিছক আনুষ্ঠানিকতা। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে নিউপ্লাইমাউথে জিম্বাবুয়ে-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটির কথা মনে আছে? আগে ব্যাটিং করে জিম্বাবুয়ের স্কোরবোর্ড তুলল ৩১২। কিন্তু সে সংগ্রহই লঙ্কানরা টপকে গেল অনায়াসে। সেই রান তাড়া ঠাঁই পেয়েছিল ইতিহাসে। এর ঠিক ছয় বছর পর ঢাকায় ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের ৩১৬ রানের সংগ্রহ টপকে নতুন রেকর্ড গড়েছিল ভারত। সৌরভ গাঙ্গুলীর সেঞ্চুরি অন্যতম সেরা ওয়ানডে ইনিংসের মর্যাদা পেয়েছিল।
দিন বদলে গেছে অনেক আগেই। ওয়ানডেতে ৩০০ রানের সংগ্রহ এখন আর বড় কিছু নয়। আজ থেকে ১৩ বছর আগে, ২০০৬ সালেই ওয়ানডে ক্রিকেট দেখেছিল ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়া ইনিংস। আগে ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ৪৩৪ রান তুলে তৃপ্তিতে ঢেকুর তোলারও সময় পায়নি। সে সংগ্রহই দক্ষিণ আফ্রিকা টপকেছিল দারুণ ব্যাটিং করে। সাম্প্রতিককালে ওয়ানডেতে ৩৫০-৩৭০ হরহামেশাই হচ্ছে। কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বকাপে ৫০০ রান তোলার যে কথাবার্তা হচ্ছে, সেটি কতটা বাস্তবসম্মত? ব্রিস্টলে কালই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২১ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হাবভাবে তারা জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপেই নিজেদের দিনে সংগ্রহকে পাঁচশ ছাড়িয়ে নেওয়ার ইচ্ছে ও লক্ষ্যটা পুরোদমেই আছে ক্যারিবীয়দের।
৪২১ তো হয়েছেই, আর ৭৯ রান। খুব কি অসুবিধা হওয়ার কথা? দলে ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, শাই হোপ, আন্দ্রে রাসেল আর কার্লোস ব্রাফেটের মতো খুনে মেজাজের ব্যাটসম্যান থাকায় ওয়ানডেতে এক ইনিংসে ৫০০ রান তোলা অসম্ভব কিছু না। প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করা শাই হোপ সে কথাই জানালেন, ‘এটা (৫০০ রান) অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য এবং একসময় তা অর্জন করতে চাই। প্রথম দল হিসেবে ৫০০ রান টপকে যাওয়া হবে দারুণ ব্যাপার। আমি নিশ্চিত, যে ব্যাটিং শক্তি আছে তা দিয়ে এটি অর্জন করা সম্ভব।’
ওয়ানডেতে প্রথম ৩০০ রানের ইনিংস দেখা গেছে কিন্তু বিশ্বকাপেই। সেটি ১৯৭৫ প্রথম বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-ভারত ম্যাচে। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩৩৪ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। পরের ধাপে অর্থাৎ দলীয় সংগ্রহকে ৪০০ রানের কোটায় উন্নীত করতে সময় লেগেছে দীর্ঘ ৩১ বছর।

স্বাভাবিকভাবেই এখন কথা উঠছে ৫০০ রান করা নিয়ে। তবে ২০০৬ থেকে এই ১৩ বছরে ৪০০ রানের খতিয়ান ঘাঁটলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাবনা কিন্তু কমই দেখা যায়। অন্তত পরিসংখ্যান তা–ই বলে। মানে ৫০০ রানের মাইলফলক গড়তে আগে ৪০০ করার অভ্যাসটা থাকতে হয়। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ক্যারিবীয়রা এখনো ৪০০ রান তুলতে পারেনি। ওদিকে প্রোটিয়ারা ৪০০ রানের দেখা পেয়েছে ছয়বার, ভারত পাঁচবার ও ইংল্যান্ড চারবার। এর মধ্যে গত বিশ্বকাপের পর থেকে ওয়ানডে খেলার ধাঁচ পাল্টে দেওয়া ইংল্যান্ড বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছে দুবার। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৮১ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। ইশ, মাত্র ১৯ রানের জন্য সেদিন হয়নি!
ইংল্যান্ড ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানীয় দলও। তাঁদের ব্যাটিং লাইনআপ রীতিমতো বিস্ফোরক, যেমনটা ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও। বিশ্লেষকদের মতে, এবার ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে কিংবা ভবিষ্যতে কোনো দল ৫০০ রান তুলতে পারলে সেটি হয় ইংল্যান্ড নতুবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপে কোনো দল ৫০০ রান তুলতে পারে, এ ভাবনা থেকে কিন্তু আয়োজকেরা প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন। ইংল্যান্ডের ভেন্যুগুলোতে চমৎকার একটি প্রথা চালু আছে। দিনের খেলা শেষে বা ম্যাচ শেষে একজন দর্শক চাইলে এক বা দুই পাউন্ড দিয়ে সেদিনের স্কোরবোর্ডটা প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে পারেন। সমর্থকদের জন্য এটি এক ধরনের স্মারক। সেই স্কোরকার্ডেই এখনকার খেলার ধাঁচের কথা ভেবে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ইসিবি। ব্রিটিশ পত্রিকা ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ‘ম্যাচে ভক্তরা যে স্কোরকার্ড কেনেন, সেটায় রানের টালি থাকে যাতে টিক দেওয়া যায়। বিশ্বকাপের জন্য প্রথমে ৪০০ পর্যন্ত রানের টালি রাখা হয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্টের পরিচালক স্টিভ এলওর্দির সঙ্গে আলোচনা করে সবাই বুঝতে পেরেছে এটা ৫০০ পর্যন্ত তুলে আনা দরকার।’
৫০০ হয়ে গেলে এলওয়ার্দিই কিন্তু দারুণ খুশি হবেন!