'তথ্য ছিল, ভারত সিরিজ বানচাল হবে'

ভারত সফর বানচাল করা হবে—এমন তথ্য ছিল বিসিবি প্রধানের কাছে। ছবি: প্রথম আলো
ভারত সফর বানচাল করা হবে—এমন তথ্য ছিল বিসিবি প্রধানের কাছে। ছবি: প্রথম আলো
>

ক্যাসিনো-কাণ্ডে পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার গ্রেপ্তার, ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট, বিসিবির অনুমতি না নিয়ে সাকিব আল হাসানের বিজ্ঞাপন চুক্তি-সব মিলিয়ে টালমাটাল এক পরিস্থিতি। কাল প্রথম আলোকে দেওয়া বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের সাক্ষাৎকারে পরিষ্কার, এখনো কাটেনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অস্থির সময়।

প্রশ্ন: বিসিবি সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছেন?
নাজমুল হাসান: বোর্ড পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা বুঝতে না-বুঝতেই আচমকা খেলোয়াড়দের ধর্মঘট! আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি প্রতিদিনই ওদের (খেলোয়াড়দের) সঙ্গে কথা বলি। আগে থেকে কিছু না জানিয়ে খেলা বন্ধ, এটা কোনো দিন হতে পারে! আমি মনে করি ওদের দাবি পূরণ করে আমি একটা অন্যায় কাজ করেছি। কোনোভাবেই উচিত হয়নি মানা। আমাদের বলা উচিত ছিল, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার না করবে আর বোর্ডে আবেদন না করবে, আমরা তোমাদের সঙ্গে বসব না। আইসিসির বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলে আমি বুঝেছি, এটাই করা উচিত ছিল। কিন্তু আপনারা (সংবাদমাধ্যম) আমাদের এমন অবস্থায় ফেলে দিলেন যে আর কিছুই করার ছিল না।

প্রশ্ন: খেলোয়াড়দের দাবিগুলো যৌক্তিক ছিল। আর ভারত সফরও তো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছিল...
নাজমুল: ভারত সফরের এখনো আপনারা কিছুই দেখেননি। দেখেন না কী হয়। আমি যখন বলেছি, এটার মধ্যে একটা ষড়যন্ত্র আছে...। আপনারা আমাকে এত বছর ধরে চেনেন, কখনো ভুল বা মিথ্যা বলেছি? এ রকম কথা যদি আমি বলে থাকি, নিশ্চয়ই এটার মধ্যে কিছু একটা আছে। আমার কাছে তথ্য ছিল যে ভারত সিরিজ বানচাল হবে।

প্রশ্ন: আপনি বলতে চাইছেন কেউ সিরিজটা বানচাল করতে চাইছে বা চাইছিল?
নাজমুল: অবশ্যই। আমরা খেলোয়াড়দের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়ায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা খুশি হয়েছে জানি। কারণ, খেলা হবে, ওরা তো খেলতে চায়। কিন্তু এটা কি ওখানে যারা ছিল, সবাই চায়? তামিম আমাকে প্রথমে বলেছিল ও ভারতের শেষ টেস্টটা খেলতে চাইছে না, কারণ ওই সময় ওর বাচ্চার ডেলিভারি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিটিং শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তামিম আমার রুমে গিয়ে বলল, ‘আমি যাব (ভারতে) না।’ আমি বললাম, ‘মানে কি, তোমার সঙ্গে তো কথা হলো শেষেরটায় থাকবে না। তাহলে এখন যাবা না কেন?’ ও তবু বলল, ও যাবে না। এখন সফরে যাওয়ার আগমুহূর্তে যদি শুনি আর কেউ যাবে না, তাহলে কেমন লাগবে?

প্রশ্ন: আর কেউ যাবে না বলেছে নাকি?
নাজমুল: আমার তো বদ্ধমূল ধারণা যাবে না এবং এমন এক সময় বলবে, যখন আমাদের কিছু করার থাকবে না।

প্রশ্ন: কে করতে পারে এ রকম?
নাজমুল: আমি তো জানি না। সাকিবকে ডেকেছি আজ (গতকাল)। দেখি ও কী বলে। আরও অনেকে হতে পারে। আমি জানি না কারা। তবে তথ্য ছিল ওরা যাবে না। এখন তো ঘুরে গেছে পরিস্থিতি। ওরা হয়তো ভাবেনি এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে। আমি কোনো বিশ্বস্ত সূত্র থেকে শুনে বলছি না। তবু ৩০ তারিখ যদি ওরা বলে যাবে না, তখন কী করব? তখন তো পুরো কম্বিনেশন বদলাতে হবে। আমি তখন অধিনায়ক কোথায় পাব! এদের নিয়ে আমি কী করব বলেন?

প্রশ্ন: সাকিবের বিজ্ঞাপন চুক্তি নিয়েও তো একটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে...
নাজমুল: খেলোয়াড়দের আমরা বলেছিলাম ওরা কোনো টেলকোর সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না। যেন সামনের বছর টেলকোগুলো টিম স্পনসরের দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। তবু জেনেশুনে কি সাকিব এই বেআইনি কাজটা করতে পারে? আমি কি যা খুশি তা-ই করতে দেব ওদের! সময়টাও দেখুন। জানুয়ারিতে আমি নতুন স্পনসরের দরপত্রে টেলকোকে আর পাব না। বা এলেও ওরা কম টাকা দিতে চাইবে। এভাবে যে আমাদের ফাঁদে ফেলল, এতে ক্ষতিটা কার? এতে শুধু একজন খেলোয়াড় লাভবান হলো, কিন্তু আমার ক্রিকেট দলের কী হবে?

প্রশ্ন: সাকিবকে কি বোর্ড এই চুক্তি প্রত্যাহার করতে বলতে পারে না?
নাজমুল: ওকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওর কোনো ব্যাখ্যা থাকলে সেটা আগে শুনি।