ভারত না খেলায় অদ্ভুত এক ফাইনাল হয়েছিল সেদিন

সেই এশিয়া কাপ ফাইনালে ফিফটি তুলে নেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ছবি: টুইটার
সেই এশিয়া কাপ ফাইনালে ফিফটি তুলে নেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ছবি: টুইটার
>১৯৮৬ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালটি ছিল আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ

ক্রিকেটে অদ্ভুত কত কিছুই তো ঘটে। যার কিছু নিতান্তই পাকেচক্রে ঘটে। আর কিছু আছে যার পেছনে বড় দায় থাকে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কর্তাদের। ১৯৮৬ সালের এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালটাই যেমন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের সেই ফাইনালটি ছিল আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ!

১৯৮৬ সালের এই এশিয়া কাপ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশের। ১৯৮৪ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েই ১৯৮৬ এশিয়া কাপের টিকিট পেয়েছিল বাংলাদেশ।

হওয়ার কথা ছিল চার দলের এশিয়া কাপ। কিন্তু ১৯৮৪ সালে প্রথম এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন ভারত খেলেনি ১৯৮৬ সালে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের চেয়ে যাতে বড় ভূমিকা ছিল শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তামিলদের সঙ্গে জাতিগত সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগুরু সিংহলি জনগোষ্ঠী। সোজা কথায় গৃহযুদ্ধই চলছিল দেশটিতে। ব্যাপারটি রাজনৈতিকভাবে খুব স্পর্শকাতর ছিল ভারতের জন্য। তাই শেষ পর্যন্ত না খেলার সিদ্ধান্তই নেয় ভারত।

ভারতের না খেলা নিয়ে আরেকটি তত্ত্বও প্রচলিত। ১৯৮৫ সালে শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট সিরিজে হেরে যায় ভারত। তিন ম্যাচের সিরিজটা দুলীপ মেন্ডিসের দল জেতে ১-০ ব্যবধানে। লঙ্কানদের ওটাই ছিল প্রথম কোনো টেস্ট সিরিজ জয়। ভারতীয়রা অভিযোগ করে আম্পায়ারদের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তাদের হারের অন্যতম কারণ। অসন্তুষ্ট খেলোয়াড়েরা নাকি শ্রীলঙ্কায় যেতে রাজি হননি।

যাই হোক, ভারত না আসার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অদ্ভুত এক সিদ্ধান্তই নেয় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। এশিয়া কাপ চলাকালেই পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে আরেকটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে তারা। এশিয়া কাপের নাম ছিল জন প্লেয়ার এশিয়া কাপ, অন্যটি জন প্লেয়ার ত্রিদেশীয় সিরিজ।

এশিয়া কাপ শুরু ৩০ মার্চ শুরু হয়ে শেষ হয় ৬ এপ্রিল। ত্রিদেশীয় সিরিজটি শেষ হয় মাত্র তিন দিনেই—৫ এপ্রিল শুরু হয়ে ৭ এপ্রিল শেষ। আয়োজকেরা ধরেই নিয়েছিলেন বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠতে পারবে না। এমনভাবে সূচি বানানো হয় যাতে এশিয়া কাপের ফাইনালটা ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচ হয়ে যায়। আয়োজকদের ঝামেলায় ফেলার মতো কোনো পারফরম্যান্সই করতে পারেনি বাংলাদেশ। বাজেভাবে হেরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েই বাড়ি ফেরে গাজী আশরাফ হোসেনের দল।

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড। ৪৩ ওভারের ম্যাচটিতে মাত্র ১৩৭ রান করেছিল লঙ্কানরা। রানটা ৪০ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। সেই শ্রীলঙ্কা পরের দিন এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো ওয়ানডে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়।

এশিয়া কাপের দুঃখটা পরের দিনই ভুলে যায় পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডকে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে ৪ উইকেটে হারায় পাকিস্তান। তিন দলেরই একটি জয়, পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় নেট রান রেটের হিসেবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রথম শিরোপা এটিই।