অক্সিজেনের জন্য ১ কোটি রুপি দিলেন শচীন টেন্ডুলকার।
অক্সিজেনের জন্য ১ কোটি রুপি দিলেন শচীন টেন্ডুলকার।ছবি: এএফপি

কেউ আইসিইউতে একটা বেড খুঁজছেন হন্যে হয়ে। কেউবা অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য এ দুয়ার ও দুয়ার করছেন। কারও দরকার ওষুধপত্র, কারও চলছে অর্থের টানাটানি। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা ভারতকে একেবারে নুইয়ে দিয়ে যাচ্ছে! প্রতিদিন তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, মারা যাচ্ছেন দু-তিন হাজার। শ্মশানগুলোতে লাশের সারি, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজ, হাসপাতালে স্বজনের আহাজারি...মন খারাপ করে দেওয়া সব দৃশ্য ভাসছে সংবাদমাধ্যমে।

এমন অবস্থায় হাত গুটিয়ে বসে থাকা তো যায় না! করোনার মধ্যে আইপিএল চলতে থাকা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে ঠিকই, তবে আইপিএলের সঙ্গে জড়িত অনেকে ভারত সরকারের করোনা তহবিলে অর্থ সাহায্য দিয়েছেন। কাল আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানের দল রাজস্থান রয়্যালস ও আরেক দল দিল্লি ক্যাপিটালসও অর্থ সাহায্য করার ঘোষণা দিয়েছেন। তা আইপিএলের সঙ্গে জড়িত না হলেও ভারতের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নাম শচীন টেন্ডুলকার আর কীভাবে বসে থাকেন!

ভারতীয় কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানও কাল সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন। ১ কোটি রুপি দান করেছেন অক্সিজেন সরবরাহের কাজে নেমে পড়া দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘মিশন অক্সিজেন’কে।

default-image
বিজ্ঞাপন

এখন পর্যন্ত করোনায় ভারতে দেড় কোটির বেশি মানুষ আক্রান্ত। মারা গেছেন দুই লাখের বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩ হাজার ৬৪৫ জন। নির্বাচন, কুম্ভমেলা...কত কারণই আছে ভারতে চলমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের। এ ঢেউয়ে টালমাটাল ভারতকে সাহায্য করতে এরই মধ্যে অনেকে তহবিল সংগ্রহ করছেন, দান করে চলেছেন। দাতব্য অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে একটি হচ্ছে মিশন অক্সিজেন।

‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ভীষণ চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে। কোভিডে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বেশি পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করা এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি। অন্তত এটা দেখে খুব ভালো লাগছে যে এ মুহূর্তে অনেক মানুষ কীভাবে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। ২৫০-এর বেশি তরুণ উদ্যোক্তা মিশন অক্সিজেন চালু করেছেন, যাতে অর্থ সংগ্রহ করে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আমদানি করা যায়, দেশজুড়ে হাসপাতালগুলোকে দেওয়া যায়’—কাল টুইটে লিখেছেন টেন্ডুলকার।

এই প্রতিষ্ঠানে দান করার পাশাপাশি টেন্ডুলকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিকে সাহায্য করার, যাতে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি অর্থ পায়, তাতে অক্সিজেনের সরবরাহ আরও বেশি দেওয়া যাবে। ‘আমি এই কাজে কিছু অনুদান দিয়ে সাহায্য করেছি। আশা করি, তাদের এই মহৎ প্রচেষ্টা শিগগিরই ভারতজুড়ে আরও অনেক হাসপাতালে পৌঁছে যাবে। যখন মাঠে ক্রিকেট খেলতাম, আপনাদের সমর্থন আমার জন্য অমূল্য ছিল। আমার সাফল্যের বড় কারণ সেটি। আজ এ মহামারির সময়ে যাঁরা এভাবে কঠোর পরিশ্রম করছেন, তাঁদের সমর্থনেও আমাদের সবাইকে এক হতে হবে।’

টেন্ডুলকার তো আর মুখ ফুটে নিজের অনুদানের অঙ্ক জানানোর কথা নয়, সেটি জানা গেছে মিশন অক্সিজেনের বিবৃতিতে, ‘এ প্রয়োজনের সময়ে দেশজুড়ে হাসপাতালগুলোতে জীবন বাঁচানো অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সরবরাহ করার লক্ষ্যে মিশন অক্সিজেনের প্রচেষ্টায় তাঁর (টেন্ডুলকার) এক কোটি রুপির অনুদান অনেক অনেক বেশি মন ছুঁয়ে যায়।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, দিল্লিভিত্তিক কয়েকজন উদ্যোক্তার যৌথ উদ্যোগ এ মিশন অক্সিজেন। গতকাল পর্যন্ত হিসাব, এরই মধ্যে সংগঠনটি সাড়ে ১৩ কোটি রুপির বেশি অর্থ জোগাড় করেছে। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ১৫ কোটি রুপি জোগাড় করা। এ অর্থ দিয়ে ১০ লিটারের ১ হাজার অক্সিজেন কনসেনট্রেটর চীন থেকে আমদানি করবে সংগঠনটি। যেগুলো বিনা মূল্যে দেওয়া হবে হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে।

এখন পর্যন্ত চীন থেকে ১ হাজার ৩৬৫ অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আমদানির ক্রয়াদেশ দিয়েছে মিশন অক্সিজেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, সেগুলো এরই মধ্যে জাহাজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল থেকে সেগুলো হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা শুরু করার কথা ছিল মিশন অক্সিজেনের। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারতের সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের অনেক পক্ষসহ নানা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এরই মধ্যে তারা করেছে বলে জানিয়েছে মিশন অক্সিজেন।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন