কিন্তু পরের দুই ইনিংসে দুটি শূন্য। এ টেস্টের প্রথম ইনিংসেও আউট হয়েছিলেন মাত্র ২ রান করে। তাঁর উইকেট বাংলাদেশের শুরুর ধসের মাত্রাই বাড়িয়েছিল শুধু। দ্বিতীয় ইনিংসে যখন নামলেন, বাংলাদেশ যে তখন চাপে ছিল, সেটি বলা যাবে না। তবে নাজমুলের জন্য হয়তো চাপ ছিল।

নাজমুল সেটি খেললেন। তাঁর আক্রমণাত্মক ইনিংসই বাংলাদেশের আগেভাগে ইনিংস ঘোষণার পথটা সহজ করে দিল। নাজমুল বলছেন, অতীত নিয়ে ভাবেন না। এটাই তাঁর আজকের ইনিংস খেলা সহজ করে দিয়েছে, ‘আমি সব সময় বর্তমানে থাকার চেষ্টা করি। আগের চার ইনিংস খারাপ হয়েছে—ক্রিকেট খেলায় এমন তো হতেই পারে। আমার অবশ্যই চেষ্টা থাকে ধারাবাহিকভাবে রান করার, তবে অতীত নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করি না। আজকেও এদিনের ব্যাটিং নিয়েই চিন্তা করেছি শুধু।’

নাজমুলের ইনিংসটি এখন শতরানের ইনিংসগুলোর মাঝে বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্রুততম। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতির দাবিই মিটিয়েছেন, ‘পরিস্থিতিই এমন ছিল যে দ্রুত খেললে জেতার জন্য সময় বেশি পাওয়া যাবে। পরিকল্পনা ছিল তাই ইতিবাচক ব্যাটিং করার।’

সাদমান ইসলামের সঙ্গে তাঁর অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে উঠেছে ১৯৬ রান। দেশের বাইরে দ্বিতীয় উইকেটে যা বাংলাদেশের রেকর্ড। নাজমুলের আগেই সেঞ্চুরি পেয়েছেন, তাঁর সঙ্গী সাদমানও।

তবে নাজমুল বলছেন, তাঁদের কারও ভাবনাতেই সেঞ্চুরি ছিল না, ‘ব্যাটিংয়ে একে অপরকে সহায়তা করছিলাম, কীভাবে খেলা উচিত হবে বা কীভাবে এগোব। এটা আমাদের জন্য একটা ইতিবাচক ব্যাপার ছিল যে সেঞ্চুরি নিয়ে কেউই চিন্তা করিনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি শুধু। মূল মনোযোগ ছিল বল ধরে ধরে খেলার। দিন শেষে দুজনই বড় স্কোরও পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।’

সাদমানের সঙ্গে তাঁর জুটির পর জিম্বাবুয়েকে বড় লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর তিন উইকেটও নিয়েছে তারা। অবশ্য নাজমুলের মতে, কাজ বাকি এখনো, ‘উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। তাই বোলার ও ফিল্ডারদের অনেক খাটতে হবে। অবশ্য কাল শুরুতেই দু-তিনটি উইকেট তুলে নিলে কাজটা সহজ হয়ে যাবে। তবে আমার কাছে মনে হয়, পুরো দিনটাই আমাদের অনেক কষ্ট করতে হবে।’