ইডেন গার্ডেনে গত বছর গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচটা শুধুই বাংলাদেশ-ভারতের আরেকটি ব্যাটে-বলে লড়াই ছিল না, এই টেস্ট ঘিরে কলকাতা পরিণত হয়েছিল উৎসবের শহরে। টেস্টটা দেখতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ২০০০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট খেলা খেলোয়াড়দেরও। সবুজ ব্লেজার ও ক্রেস্ট উপহার দিয়ে বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছিল অভিষেক টেস্টে খেলা উপস্থিত খেলোয়াড়দের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা এক খেলোয়াড় অবশ্য আফসোস নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের অভিষেক টেস্ট খেলা খেলোয়াড়দের এক করে সৌরভ (গাঙ্গুলী) যে সম্মান জানাল, এটিই বিসিবি গত দুই দশকে করতে পারেনি।’

default-image

ইডেনের অনুষ্ঠানে অভিষেক টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে উপস্থিত থাকতে পারেননি দুই প্রবাসী আমিনুল ইসলাম আর আল শাহরিয়ার। অভিষেক টেস্টের সবাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও বেশির ভাগই এখনো ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে। টেস্ট অভিষেকের দুই দর্শক পূর্তির সময় সেই ১১ জন এখন কে কোথায়...

বিজ্ঞাপন

নাঈমুর রহমান

অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান বর্তমানে জাতীয় সংসদের সদস্য, বিসিবির একজন প্রভাবশালী পরিচালক। নাঈমুর বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগের প্রধান। খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিক ও ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা নাঈমুর ভালোভাবেই খেলাটার সঙ্গে জড়িয়ে।

আকরাম খান

বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়কও জড়িয়ে আছেন ক্রিকেটে। তিনিও বিসিবির একজন পরিচালক। বর্তমানে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম সাত-আট বছর আগে প্রধান নির্বাচক হিসেবেও কাজ করেছেন। ক্রিকেট সংগঠকের পাশাপাশি ব্যবসায়ী পরিচয়ও আছে আকরামের।

আমিনুল ইসলাম

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী আমিনুলও ক্রিকেটের সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন। কাজ করছেন আইসিসির এশিয়া গেম ডেভেলপমেন্ট ব্যবস্থাপক হিসেবে। এর আগে কাজ করেছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলেও (এসিসি)।

default-image

হাবিবুল বাশার

অভিষেক টেস্টের দলে জায়গা পাওয়া না-পাওয়া নিয়ে কম নাটক হয়নি হাবিবুলকে নিয়ে। হাবিবুল নিজেকে প্রমাণ করেছেন অভিষেক টেস্টেই। পরে তো বাংলাদেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। খেলা ছাড়ার পরও ক্রিকেটের সঙ্গে ভালোভাবেই সম্পৃক্ত রেখেছেন। গত সাত বছর তিনি বিসিবির নির্বাচক প্যানেলের একজন সদস্য।

খালেদ মাসুদ

২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া মাসুদ বর্তমান ক্রিকেট থেকে একটু দূরে আছেন। মাঝে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। জাতীয় লিগে রাজশাহীকে সফল দলে পরিণত করার অন্যতম কারিগর।

আল শাহরিয়ার

খেলোয়াড়ি জীবনে প্রতিভাবান আর স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত আল শাহরিয়ার দেশ ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে থিতু হয়েছেন এক যুগ হলো। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি দিয়ে এখন সপরিবার তিনি ‘সেটলড’ নেপিয়ারে। সেখানে ক্রিকেট কোচিংয়ের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন আল শাহরিয়ার।

default-image
বিজ্ঞাপন

মেহরাব হোসেন

বর্তমানে বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন। মাঝেমধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন দলের ম্যানেজার হিসেবেও সম্পৃক্ত হতে দেখা যায় তাঁকে।

শাহরিয়ার হোসেন

খেলা ছাড়ার পর পরিণত হয়েছেন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত শাহরিয়ার মাঝেমধ্যে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস ক্রিকেটে অংশ নিতে আসেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।

মোহম্মদ রফিক

খেলা ছাড়ার পর সতীর্থদের মতো ক্রিকেটে খুব একটা জড়িয়ে থাকতে পারেননি। একটু যেন নিভৃতেই সময় কাটে তার। বিপিএলের দুই মৌসুমে রংপুর রাইডার্সের হয়ে স্পিন পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে তাঁকে।

হাসিবুল হোসেন

ক্রিকেটের সঙ্গে হাসিবুলের বন্ধনটা এখনো অটুট। বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের একজন নির্বাচক। আকবর আলীদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ে তাঁরও অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিকাশ রঞ্জন দাস

ধর্মান্তরিত হয়ে বিকাশ রঞ্জন এখন মাহমুদুর রহমান। অভিষেক টেস্ট দলের তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, খেলা ছাড়ার পর যাঁর পথ ক্রিকেট থেকে দূরে সরে গেছে। বর্তমানে কাজ করছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে।

রাজিন সালেহ

বাংলাদেশ অভিষেক টেস্ট দলের দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে খেলা রাজিন এখনো খুব ভালোভাবেই ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বছর দুয়েক আগে পেশাদার ক্রিকেট ছাড়া রাজিন এখন ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচ হিসেবেই বেশি পরিচিত।

মন্তব্য পড়ুন 0