default-image

আইপিএলের নিলামে কাল পেস বোলারদের নিয়ে টানাহেঁচড়া হয়েছে রীতিমতো। প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকান পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্রিস মরিসকে নিয়ে পাঁচ দলের টানাটানিতে তাঁর মূল্য আকাশ ছুঁয়েছে। আইপিএলের ইতিহাসে সব রেকর্ড ভেঙে তাঁকে কিনে নিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। মরিসের মূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ রুপি ওঠার পেছনে তাঁর পিঞ্চ হিটিংয়ের ক্ষমতার চেয়েও বেশি ভূমিকা রেখেছে কার্যকরী পেস বোলিং।

পেস বোলারদের নিয়ে কাল আইপিএলের নিলামে মূল মাতামাতিটা টের পাওয়া গেছে মরিসের নিলামের একটু পরই। নিউজিল্যান্ডের কাইল জেমিসন মাত্র চারটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তাতে তাঁর উইকেট মাত্র তিনটি। তাঁকে ১৫ কোটি রুপিতে কিনেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ না পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার রাইলি মেরেডিথকে পাঞ্জাব কিংস কিনেছে ৮ কোটিতে। এর আগেই আরেক পেসার পাঞ্জাবের ঝুলি থেকে খসিয়েছেন ১৪ কোটি রুপি।

অস্ট্রেলিয়ান ঝাই রিচার্ডসনকে পেতে এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিল পাঞ্জাব। অথচ অস্ট্রেলিয়ান পেসার এতটাই চিন্তিত ছিলেন যে নিলামের সময় বমি পাচ্ছিল তাঁর!

বিজ্ঞাপন

গতকাল যখন রিচার্ডসনের নাম উঠেছে নিলামে, অস্ট্রেলিয়ায় তখন মধ্যরাত। ওই সময়টা ভয়ংকর স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন রিচার্ডসন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার গতিতে ব্যাটসম্যানদের ভড়কাতে পারেন। তাঁর আউটসুইংও চমকে দেয়। কিন্তু কাল নিলামের সময় রিচার্ডসনের নিজের দক্ষতার কথা ভুলে যাওয়ার দশা হয়েছিল। নিলামে কোনো ক্রিকেটারের নাম ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে পেতে দলগুলোর টানাটানি শুধু ক্রিস মরিসের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। অন্য প্রায় সবার ক্ষেত্রেই সব দল একটু সময় নিয়ে নিলামে দর হাঁকিয়েছে। এই অপেক্ষার সময়টাই যেন অনন্তকাল মনে হচ্ছিল রিচার্ডসনের।

সে সময়টা কাটাতে নোটপ্যাডে আঁকিবুঁকি করছিলেন রিচার্ডসন। সে সঙ্গে মনে ভিড় করছিল একের পর এক প্রশ্ন। কেউ কি তাঁকে পেতে আগ্রহী? কেউ কি বিড করবে? কিনলে কত দিয়েই-বা কিনবে? সময়টায় যে ভয়ংকর স্নায়ুচাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটা এর আগে কখনো টের পাননি রিচার্ডসন, ‘কী হতে পারে সেটা জানতাম না, কেমন বমি বমি পাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল ২০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু কোনো দল প্যাডল তুলছে না। ১০ সেকেন্ড পরেই প্যাডল উঠেছিল কিন্তু মনে হচ্ছিল অনন্তকাল কেটে গেছে। এরপর শুধু আশা করেছি, এটা আরও ওপরে উঠুক।’

default-image

নিলামে যে দর উঠেছে, রিচার্ডসন নিজেও হয়তো সেটা আশা করেননি। যে মূল্য পেয়েছেন তাতে একলহমায় জীবনই বদলে গেছে। অস্ট্রেলীয় মূল্যমানে ২৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার শুধু আইপিএল খেলেই পেয়ে যাচ্ছেন এই ফাস্ট বোলার। রিচার্ডসনকে নিয়ে তবু আগ্রহের কারণ থাকতে পারে। ১৩ ওয়ানডের ছোট ক্যারিয়ারেই বিরাট কোহলিকে চারবার আউট করেছেন রিচার্ডসন। এই পেসারকে পেতে ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ তাই থাকতেই পারে।

সে তুলনায় রাইলি মেরেডিথের ক্যারিয়ারে এখনো কোনো অর্জন নেই। করোনার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পেয়েছিলেন। এ ছাড়া শেন ওয়ার্নের চোখে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ তারকা—এটাই ২৪ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলারের অর্জন। বিগ ব্যাশে নিজেকে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার বলে প্রমাণ করেছেন। নিউজিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে এই মুহূর্তে ক্রাইস্টচার্চে আছেন। সেখানেই হোটেল রুমে কোয়ারেন্টিন পার করতে করতে কাল নিলাম দেখছিলেন মেরেডিথ। যখন নিলামে তাঁর নাম উঠল, তখন বান্ধবীর সঙ্গে ভিডিও কলে ছিলেন। দুজন মিলে দেখছিলেন কীভাবে তাঁকে পেতে লড়াই চালাচ্ছে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। সে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী পাঞ্জাব কিংস।

বিজ্ঞাপন

জিতেছেন মেরেডিথও। গত বিগ ব্যাশে আলোচনায় ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া দলেও ডাক পেয়েছেন। তবু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের আগেই ১৪ লাখ ২০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার আয় করার কথা কল্পনায়ও ছিল না তাঁর, ‘ওই সময় আমি বান্ধবীর সঙ্গে ফেসটাইমে ছিলাম। দুজনের বিশ্বাসই হচ্ছিল না কী হচ্ছে। সত্যি বলছি, মনে হচ্ছিল এটা ভুয়া, দুজনই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম।’

ভারতের স্পিনবান্ধব উইকেটে পেস বোলাররা খুব বেশি সাহায্য পান না। কিন্তু সত্যিকারের ফাস্ট বোলাররা গতি দিয়ে সব সময়ই পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। দুই অস্ট্রেলীয় পেসারকে নিয়ে টানাটানি এ কারণেই হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতি তোলার মতো বোলার এখন কম। আর আইপিএলের অধিকাংশ দলে অস্ট্রেলীয় কোচের উপস্থিতিও এ দুজনের দাম বাড়ানোয় প্রভাব রেখেছিল। পাঞ্জাবের পেস বোলার দরকার ছিল। ওদিকে বেঙ্গালুরুর কোচ সাইমন ক্যাটিচ ও দিল্লি ক্যাপিটালসের রিকি পন্টিং স্বদেশি ফাস্ট বোলারকে পেতে নাছোড়বান্দা হয়ে উঠেছিলেন।

মেরেডিথের ক্ষেত্রেও পন্টিং চেষ্টা করেছিলেন শেষ পর্যন্ত। কিন্তু বিদেশি ক্রিকেটার কিনতে খরচের জন্য অঢেল অর্থ পড়ে থাকায় পাঞ্জাবই জিতেছে নিলামের এ লড়াইয়ে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন