ভারতে করোনার ভয়াবহতার মধ্যে আইপিএল চলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতে করোনার ভয়াবহতার মধ্যে আইপিএল চলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ছবি: আইপিএল

আইপিএলে জৈব সুরক্ষাবলয় অত সুরক্ষিত নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেটির জন্য সমালোচনা হয়েছিল। এখন আবার নিজের সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হলো অ্যাডাম জাম্পাকে।

বিরাট কোহলির দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে এবার খেলছিলেন জাম্পা। কিন্তু ভারতে করোনার ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া সরকার যখন দেশটির সঙ্গে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়, জাম্পা আইপিএল ছেড়ে ফিরে গেছেন দেশে।

যাওয়ার সময় বলেছিলেন, আইপিএলে যে জৈব সুরক্ষাবলয়, সেটি তাঁর কাছে নড়বড়ে মনে হয়েছে। ব্যস, আর যায় কোথায়! বেশ সমালোচনা শুনতে হয়েছিল তাঁকে।

বিজ্ঞাপন

এখন আবার নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার। নিজের কথা অনেকটা গিলতে হলো তাঁকে। এখন জাম্পা বলছেন, তিনি আইপিএলে জৈব সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে করোনা ঢুকে যাওয়ার কথা বোঝাননি।

কেইন রিচার্ডসন, অ্যান্ড্রু টাই, লিয়াম লিভিংস্টোন ও জাম্পা—ভারতে করোনার ভয়াবহতার কারণে এখন পর্যন্ত আইপিএল ছেড়ে যাওয়া চার বিদেশি। অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার পথেই ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে’ জাম্পা বলেছেন, ভারতে জৈব সুরক্ষাবলয় নড়বড়ে ছিল। পাশাপাশি এটাও যোগ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২০ আইপিএল যে জৈব সুরক্ষাবলয়ে হয়েছিল, সেটি এবারের আইপিএলের জৈব সুরক্ষাবলয়ের চেয়ে শক্তিশালী ছিল।

default-image

কিন্তু মন্তব্যের পর তাঁর সমালোচনা হয়েছে অনেক। এরপর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে (আরসিবি) এক বিবৃতি দিয়ে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাম্পা। বিবৃতিতে প্রথমত ধন্যবাদ দিয়েছেন বেঙ্গালুরু কর্তৃপক্ষকে, ‘আমাকে নিয়ে উদ্বেগ জানানো বার্তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। কেইন (রিচার্ডসন) ও আমি দুজনই নিরাপদে মেলবোর্ন পৌঁছেছি। প্রথমত, আরসিবির ব্যবস্থাপকদের ধন্যবাদ, তাঁরা যেভাবে পুরো পরিস্থিতি সামলে নিয়েছেন সেটির জন্য। যে মুহূর্তে আমাদের মনে হয়েছে যে বাড়ি ফিরে যাওয়াই আমাদের জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত, তাঁরা পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছেন সেটিকে এবং সাহায্য করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব সবই করেছেন। পরিস্থিতিটা তাঁরা যেভাবে বুঝতে পেরেছেন, সেটি পুরো ব্যাপারটাই আমাদের জন্য অনেক সহজ করে দিয়েছে।’

এরপর জাম্পা ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিজের আগের মন্তব্যের, ‘দ্বিতীয়ত, আইপিএলের নড়বড়ে জৈব সুরক্ষাবলয় নিয়ে আমি যখন মন্তব্য করেছি, সেটি ভাইরাসটা কোনোভাবে সুরক্ষাবলয়ের ভেতরে ঢুকে যাবে—এমন ভেবে বলিনি। বিসিসিআই (ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা) ও আরসিবি আমাদের নিরাপদ বোধ করাতে অনেক সতর্কব্যবস্থাই নিয়েছে। আমি এটা বিশ্বাস করি যে টুর্নামেন্টটা দক্ষ হাতেই পরিচালিত হচ্ছে, শেষ পর্যন্তও ঠিকভাবেই যাবে এটি।’

সিদ্ধান্তটা শুধুই তাঁর ব্যক্তিগত জানিয়ে জাম্পা সহমর্মিতা জানিয়েছেন ভারতীয়দের, ‘ভারতে (করোনা) পরিস্থিতির ব্যাপকতা আমি বুঝতে পারছি, পুরো দেশটার জন্য প্রার্থনা করছি। সেখান থেকে সরে আসাটা ছিল আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, সেটি নানা কারণেই।’

এর আগে আইপিএলের জৈব সুরক্ষাবলয় নিয়ে জাম্পা বলেছিলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত (বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলার জন্য) বেশ কয়েকটি জৈব সুরক্ষাবলয়েই ছিলাম এবং আমার কাছে মনে হয়েছে এটিই সবচেয়ে নড়বড়ে। আমার কাছে শুধু মনে হয়েছে যে দেশটা ভারত বলেই এমন হয়েছে। আমাদের সব সময় বলা হতো সেখানকার মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানে না, অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হতো আমাদের। আমার শুধু মনে হয়েছে এটা সবচেয়ে নড়বড়ে জৈব সুরক্ষাবলয়। ছয় মাস আগে দুবাইয়ে হয়ে যাওয়া আইপিএলেও সবকিছু এমন মনে হয়নি। সেখানে নিজেকে পুরোপুরি নিরাপদ মনে হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন