বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কলকাতার ৭ উইকেটে ১৬৫ রান তাড়া করে ৩ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জেতে পাঞ্জাব। যে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক উঠেছে, সেটি পাঞ্জাবের ইনিংসে ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে। শিবম মাভির বলে মিডউইকেট তুলে মারার চেষ্টা করেন পাঞ্জাবের লোকেশ রাহুল।

কলকাতার ফিল্ডার রাহুল ত্রিপাঠি দৌড়ে এসে ডাইভ দিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন। টিভিতে দেখে মনে হয়েছে, বল মাটি থেকে কয়েক মিলিমিটার ওপরে থাকা অবস্থায়ই সেটি তালুবন্দী করেন ত্রিপাঠি। কিন্তু মাঠের আম্পায়ার নিশ্চিত হতে পারেননি। সরাসরি তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দেন।

তৃতীয় আম্পায়ার অনিল দান্দেকার বেশ সময় নিয়ে ভিডিও রিপ্লে বারবার নানা কোণ থেকে দেখেন। এর মধ্যে একটি কোণ থেকে দেখে মনে হয়েছে, বল ত্রিপাঠির হাতে জমা পড়ার আগে মাটি ছুঁয়েছে।

দান্দেকার এরপর রায় দেন, লোকেশ রাহুল আউট হননি। যদিও কয়েকটি কোণ থেকে দেখে মনে হয়েছে, ফিল্ডারের হাত বলের নিচে ছিল। এরপরই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাবেক ক্রিকেটাররা।

এবার আইপিএলে ‘সফট সিগন্যাল’ নেই। অর্থাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় থাকলে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে যাওয়ার আগে মাঠের আম্পায়ার তাঁর চোখের দেখায় কী মনে হয়েছে, সেটি জানিয়ে দেয়। তৃতীয় আম্পায়ারও নিশ্চিত হতে না পারলে তখন তিনি মাঠের আম্পায়ারের ‘সফট সিগন্যাল’ বলবৎ রাখতে পারেন। কিন্তু এ নিয়ম এবার আইপিএলে নেই।

কিন্তু এমন দুরূহ ক্যাচ নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে যে সফট সিগন্যালের দরকার, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন ভারতের খ্যাতিমান ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে। তৃতীয় আম্পায়ার ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে মনে করেন হার্শা, ‘সফট সিগন্যাল তুলে নেওয়ার পর এমন কিছু ঘটাই স্বাভাবিক।’

টুইটে মন্তব্যের ঘরে আরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন হার্শা, ‘আজ (কাল) রাহুল আউট ছিলেন। ক্রিকেটে অনেক দিন ধরে আছেন, এমন যে কেউ বুঝবেন, বলের নিচে (ফিল্ডারের) আঙুল ছিল। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত দিতে অকাট্য প্রমাণ দরকার ছিল। মাঠের মধ্যে (গ্রাউন্ড লেভেল) ক্যামেরা ছাড়া এটা পাওয়া কখনো সম্ভব নয়। আম্পায়ারকে এ ক্ষেত্রে নিজেদের সহজাত ভাবনার ওপর নির্ভর করতে হয়। এ জন্যই সফট সিগন্যাল—প্রযুক্তি শতভাগ সঠিক না হওয়া পর্যন্ত আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হবে।’

রাহুল ত্রিপাঠির এই ক্যাচ নিয়ে ক্রিকইনফোর সঙ্গে কথা বলেছেন আইপিএল খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেইন, ‘(ভিডিও) রিপ্লে দেখার সময় মনে হয়েছে, বলটা মাটিতেই পড়েছে। ভেবেছিলাম নটআউট। কিন্তু রিয়েল টাইম ভিডিও দেখার পর মনে হয়েছে, সে ক্যাচটা নিতে পেরেছে। যখন ধীরলয়ে চালিত কোনোকিছু দেখবেন, তখন যেসব বিষয় অনুপস্থিত, সেগুলো সবাই খুঁজে থাকে। আমি মনে করি ওটা আউট ছিল। বলের নিচে তাঁর হাত ছিল।’

কলকাতার জন্য বিষয়টি মোটেও ভালো লাগার কথা না। পাঞ্জাব ১০ বলে ১১ রানের দূরত্বে থাকার সময় ক্যাচটা দিয়েছিলেন লোকেশ রাহুল। তৃতীয় আম্পায়ার তাঁকে আউট না দেওয়ার পর ওই ওভারেই বাউন্ডারি মেরে লক্ষ্যটা (৬ বলে ৫ রান) সহজ করে ফেলেন এই পাঞ্জাব ব্যাটার। ম্যাচে ধারাভাষ্য দেওয়া সুনীল গাভাস্কারও তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেননি, ‘কোনো সফট সিগন্যাল নেই। আমার কাছে এটি আউট।’

গাভাস্কারের সঙ্গে একমত ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার কেভিন পিটারসেনও, ‘আমিও তা-ই মনে করি। সে বলটা ধরেছে, আঙুলগুলো বলের নিচে ছিল। কয়েকটি রিপ্লে দেখলেই বোঝা যায়।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপও বলেন, ‘আমিও মনে করি এটা আউট। বলের নিচে আঙুল ছিল।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন