বিজ্ঞাপন
default-image

কলকাতা ও চেন্নাইয়ের পর দিল্লি ক্যাপিটালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদেও করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়ায় আইপিএল স্থগিত করা হয়েছিল। তবে করোনা এভাবে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কলকাতার দায়ই দেখা হচ্ছিল। বলা হয়েছিল, দিল্লিতে বরুণ চক্রবর্তীর হাতের স্ক্যান করাতে গিয়ে ঝামেলা বাধানো হয়েছে। ওদিকে চেন্নাইয়ে কীভাবে করোনা ছড়াল, সেটা নিয়ে দ্বিধান্বিত সবাই। ১ মে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বরুণ। ১১ মে করোনামুক্ত হলেও এখনো দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।

ওদিকে ২ মে আক্রান্ত হয়েছিলেন বরুণের আশপাশে না যাওয়া বালাজি। বরুণের তুলনায় একটু ভালো অবস্থায় আছেন সাবেক ভারতীয় পেসার বালাজি। ১৪ মে করোনামুক্ত হওয়া এই কোচ অবশ্য এখনো করোনায় সংক্রমিত সময়ের কথা ভেবে আতঙ্কিত হন, ‘করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় যখন আইসোলেশনে ছিলাম, তখন একটা ভাবনা মাথায় এসেছিল। কোভিড থেকে সেরে ওঠার শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা অনেকটা ম্যান ভার্সেস (ডিসকভারি চ্যানেলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, যেখানে বিরুদ্ধ পরিবেশে লড়াই করেন বিয়ার গ্রিলস)।’

default-image

বালাজি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন বিশদভাবে। বলেছেন, জৈব সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে থেকেও কীভাবে আক্রান্ত হলেন, সেটা এখন বুঝে উঠতে পারছেন না, ‘২ মে, একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। শরীরে ব্যথা করছিল এবং নাক বন্ধ হয়ে এল। সেদিন দুপুরেই আমার পরীক্ষা করা হলো। ৩ মে সকালে আমার ফল আসে পজিটিভ। খুবই অবাক হলাম। জৈব সুরক্ষাবলয়ের নিয়ম ভেঙে আমার বা অন্যদের ক্ষতি করার মতো তো কিছুই করিনি আমি।’

মুম্বাই ও চেন্নাই পর্ব শেষে দিল্লিতে যাওয়ার পরই আইপিএলকে থমকে দাঁড়াতে হয়েছে। সেখানেই আচমকা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সবাই। বালাজির তথ্য অনুযায়ী, অন্য দুই ভেন্যুতে যেভাবে নিয়ম মেনে চলেছেন, দিল্লিতেও সেটাই করেছেন তাঁরা, ‘মুম্বাই থেকে ২৬ এপ্রিল দিল্লি পৌঁছাই আমরা। পরদিনই আমাদের করোনা পরীক্ষা হয়। ২৮ তারিখ একটা ম্যাচ খেলি। পরদিন আবার একটা পরীক্ষা দিয়েছি। ১ মে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে একটা ম্যাচ খেললাম। তাই আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, আমার শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা যথেষ্ট ভালো এবং করোনাভাইরাসকে দূরে রাখতে পারবে। ২ মের পরীক্ষায় আমার সঙ্গে কাশি বিশ্বনাথন ও সহকারী এক কর্মীও পজিটিভ হন। এটা ভুল কি না, সেটা নিশ্চিত হতে সেদিন আবার পরীক্ষা করাই, দ্বিতীয়বারও পজিটিভ আসে। দ্রুত হোটেলের আরেক তলায় নেওয়া হয়। দলের সবার থেকে আলাদা রাখা হয় আমাকে।’

default-image

এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন, ধীরে ধীরে অস্বস্তিগুলো কাটিয়ে উঠছেন কিন্তু কীভাবে আক্রান্ত হয়েছেন—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে পাচ্ছেন না বালাজি, ‘মাইকেল হাসিরও (দলের ব্যাটিং কোচ) করোনায় আক্রান্তের খবর পেলাম। এখনো জানি না কীভাবে আমরা আক্রান্ত হয়েছি। মার্চে যখন প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হয়েছে, তখন থেকেই জৈব সুরক্ষাবলয় কড়াভাবে মেনেছি আমরা। ২০২০ আইপিএলে চেন্নাই দলে করোনায় আক্রান্তের খবরের পর ফ্র্যাঞ্চাইজি এবার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছিল। চেন্নাই ও মুম্বাই থেকে যাওয়ার পথেও কড়াকড়িভাবে এটা মানা হয়েছে।’

বালাজি এটাও বুঝতে পারছেন না, যদি সুরক্ষাবলয় ঠিকভাবে মানা না হয়, তাহলে কেন দলের অন্য সবাই আক্রান্ত হননি, ‘দিল্লিতেও আমরা নিয়ম মেনেছি। আমি জানি না কীভাবে আক্রান্ত হলাম। মাঠে হয়েছিল? নাকি অনুশীলন মাঠে? কিন্তু সেটাও তো সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর সেটা হলেও শুধু দুজন কেন আক্রান্ত হব?’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন