বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এত ভালো খেলেও বিপিএল ড্রাফটে দল পাননি। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সে সুযোগ পেলেন ড্রাফটের বাইরে থেকে। এ দুটি অভিজ্ঞতা নিয়ে জানতে চাই।

জাকির হাসান: যখন দল পাইনি, তখন প্রথমে হতাশ হয়েছিলাম। আমি প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে একটু পিছিয়ে গিয়েছিলাম। আমি ও রকমভাবে সুযোগ পাইনি। তাই কেউ দলে নেয়নি। পরে মনেপ্রাণে বিসিএলে ভালো করার চেষ্টা করছি। এখন দল পেয়েছি, তবে আগে এই ইনডিপেনডেন্স কাপে ভালো করার চিন্তাটাই আছে। পরেরটা পরে দেখা যাবে।

default-image

প্রশ্ন: সম্প্রতি আপনার ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে, নিজের ব্যাটিং সম্পর্কে পরিষ্কার একটা ধারণা হয়েছে আপনার, আগে যেটা ছিল না...

জাকির: ঠিক ধরেছেন। আমি বিশেষ কিছু অনুশীলন করে আগের জড়তাগুলো কাটিয়ে উঠেছি। যে কারণে আমি মজা পাচ্ছি। আর সেখান থেকে বিশ্বাসও তৈরি হয়েছে। যে কারণে এখন ব্যাটিংয়ে আর অস্থিরতায় ভুগি না। কোনো তাড়াহুড়া বোধ করি না। আমার আত্মবিশ্বাস আছে যে আমি সব ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব। একটা বছর মাসকোতে (একাডেমি) অনুশীলন করে আমার এই উন্নতি হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনাকে বলা হতো টি-টোয়েন্টি হিটার, সেখান থেকে আপনি হয়ে গেলেন প্রথম শ্রেণিতে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান। কীভাবে?

জাকির: কিছু অনুশীলনের কারণে আমার মনোযোগ বেড়েছে, যা আগে ছিল না। আগে আমি খুব অস্থির হয়ে যেতাম। ৩০ রান করেও উইকেটে স্বস্তি পেতাম না। কিন্তু এখন নামার পর ১-২টা বল খেলি, উইকেটের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করি। নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা সাজিয়ে নিই। রান পেলেও এই প্রক্রিয়ায় থাকি, না পেলেও থাকি।

প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টি হিটার, ৩৬০ ডিগ্রির ব্যাটসম্যান—এসব তকমা নিশ্চয়ই আপনার অনেক ক্ষতি করেছে?

জাকির: আমি বিষয়টা শুরুতে ধরতে পারিনি। দল থেকে বাদ পড়ার পর বুঝেছি। আমি টি-টোয়েন্টিতে একটা ম্যাচ খেলার পর প্রতি ম্যাচেই ১২০-১৫০ স্ট্রাইক রেটে খেলতে চাচ্ছিলাম। সব প্রক্রিয়া ভুলে এই চেষ্টাই করে গিয়েছি তখন। সংবাদমাধ্যমের ওই জিনিস বেশি কাজ করেছে আমার ভেতরে। হয়তো প্রকাশ্যে কখনো দেখাইনি। ভেতরে কাজ করেছে। পরে বুঝতে পেরেছি, আমি আসলে কে।

default-image

প্রশ্ন: পরিবর্তনটা নিশ্চয় সহজ ছিল না?

জাকির: সালাউদ্দিন স্যার (কোচ) আমাকে যা কাজ দিতেন, তা আমি করতাম না। নিজের ‘কমফোর্ট জোনেই’ অনুশীলন করতাম। কিন্তু স্যার কৌশলে আমাকে ‘কমফোর্ট জোনের’ বাইরে নিয়ে গেছেন। এসব আমি বুঝতে পারি এইচপি দল থেকে বাদ পড়ার পর। আমার আর কোনো উপায় ছিল না। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল।

স্যার আমাকে বলছিলেন, ‘তোর যে দক্ষতা, এতে হয়তো সর্বোচ্চ ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পারবি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে হলে দক্ষতা বাড়াতে হবে, নইলে তুই টিকতে পারবি না।’ এরপর মাসকোতে অনুশীলন শুরু করি। প্রথম এক-দুই দিন যখন হচ্ছিল না, তখন স্যারকে বলতাম যে এটা পারছি না। তখন স্যার আমাকে বলতেন, ‘এটা করতেই হবে।’

এরপর ধীরে ধীরে খেলায় পরিবর্তন আসতে থাকে। যেমন আমার সামনের পা কম এগোত। সব সময় পেছনের বলের আশায় থাকতাম। এসব সহজে ঠিক হয়নি।

প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন?

জাকির: আমি পারফরম্যান্সের জন্য এখন কোনো পুরস্কার আশা করি না। সেই চাপ নিতেও চাই না। এখন আর ভাবি না যে এবার ভালো করেছি বলে পরেরবারও তা–ই করতে হবে। ২০১৮ সালে যেমন ৫০০ করার পর ভেবেছি, পরেরবার ৮০০ রান করতে হবে। এবার ৯৯ গড়ে খেলেছি, পরেরবার সেটা না-ও হতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। আমি শুধু হাতে যা আছে, তা নিয়ে ভাবছি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন