বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ও সাকিব আল হাসান।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ও সাকিব আল হাসান। ছবি: বিসিবির সৌজন্যে

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ২০ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু টেস্টে এখনো হাঁটি হাঁটি পা পা অবস্থা বাংলাদেশের। কালেভদ্রে কিছু সাফল্য ধরা দেয়। আর সে স্মৃতি রোমন্থন করে কাটিয়ে দিতে হয় আরও বেশ কিছুদিন।

প্রথম টেস্ট জয়ের স্মৃতি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সিরিজ জয়, ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে হারানো, শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার মাটিতে জয়—টেস্ট ক্রিকেটে দলীয় অর্জন বলতে বাংলাদেশের ভান্ডারে এসবই আছে।

শুরুতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অনভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণ বলে মানা হতো। দেশের ক্রিকেটের কাঠামো তো বরাবরই টেস্ট মানসিকতা বিকাশে বাধার কারণ ছিল। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অভাব। টেস্ট স্ট্যাটাস যখন পেয়েছে দল, তখন একঝাঁক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই বারবার তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশ।

তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহরা সে ধারার ব্যতিক্রম। প্রায় এক যুগ ধরেই দলের সঙ্গে আছেন এই ক্রিকেটাররা। একসঙ্গে এত দিন ধরে খেলছেন, এমন চারজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার খুব কম দলেই আছে। টেস্টে ভালো করার শ্রেষ্ঠ সময় তো এখনই। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের কথা মানলে, সে আশা না করাই ভালো। কারণ, সভাপতির চোখে টেস্টে বাংলাদেশ খুব বেশি কিছু পাবে না অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে।

বিজ্ঞাপন

ক্ষীণ শক্তির এক ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বাংলাদেশে এসেছিল। বাংলাদেশের স্পিনিং কন্ডিশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পূর্ণ শক্তির দলই দুই বছর আগে ধবলধোলাই হয়েছিল, এবার তাই সিরিজের ফল নিয়ে কারও মনে কোনো সন্দেহ ছিল না—আরেকটি ধবলধোলাই।

এতগুলো ম্যাচ হারার পর খেলোয়াড়দের—বিশেষ করে অভিজ্ঞদের চিন্তা থাকবে যে “না, আমরা পরের টেস্ট ম্যাচ জিতব।” এটা না হয়ে যদি বলে, “আমি খেলব না!”
আইপিএল খেলার জন্য সাকিবের ছুটি চাওয়া পছন্দ হয়নি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের

হলোও তা-ই। কিন্তু দুই টেস্ট সিরিজের বিজয়ী দলের নাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যে দল মূল অধিনায়ক ও সেরা দুই অলরাউন্ডার এবং মূল ব্যাটসম্যানদের দুজনকে রেখে এসেছে দেশে। সিরিজ হারের পরই তাই হুংকার ছেড়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। বলেছিলেন, এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। দলে বদল দরকার।

দলের সংস্কৃতি, মানসিকতায় বদলের কথা বলেছিলেন বোর্ড সভাপতি। এরই মধ্যে ঝড় হয়ে এসেছে আইপিএল। পারিবারিক কারণে আগেই নিউজিল্যান্ড সফরের দল থেকে সরে যেতে হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। এরপর আইপিএলের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নিয়েছে বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে। আইপিএলের শুরুর ও শেষ দিকটায় বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হবে। সাকিব আগেই সিরিজের সময়টায় আইপিএলের জন্য ছুটি চেয়ে নিয়েছিলেন। বোর্ডও ছুটি দিয়েছে। কিন্তু সেটা যে খুশিমনে দেওয়া হয়নি, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি।

ক্রিকেটারদের এভাবে সিরিজের কিছুদিন আগে ছুটি চাওয়া বা খেলতে না চাওয়ার পথ বন্ধ করার উপায় খুঁজতে নেমেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ বোর্ডে এ নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে আগে থেকেই চুক্তি করে রাখা হবে। যাঁরা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে চান, তাঁদের আগেই বলে রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে ফরম্যাট ধরে ধরে চুক্তি করবে বিসিবি।

default-image

কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য ছুটি নিয়ে পরের সিরিজে দলে যোগ দিতে পারা যে সম্ভব হবে না, সে ইঙ্গিত দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি, ‘একদম দীর্ঘমেয়াদি (চুক্তি) হবে। কোনো সিরিজের সঙ্গে কিছু না। কারণ, এটা আমাদের চিন্তাতেই আসেনি কখনো। আপনারা আমাদের দিকটা ভেবে দেখেন। আমি তো এগুলোর অনুমতি দিইনি কখনো।’

বোর্ড সভাপতি এরপরই জানিয়েছেন দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর আশা হারিয়ে ফেলার কথা। সাকিবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘আমি যখন চিন্তা করে দেখি যে এ রকম এতগুলো ম্যাচ হারার পর খেলোয়াড়দের—বিশেষ করে অভিজ্ঞদের চিন্তা থাকবে যে “না, আমরা পরের টেস্ট ম্যাচ জিতব।” এটা না হয়ে যদি বলে, “আমি খেলব না!” সেটাও ব্যক্তিগত কোনো কারণে না, আরেকটা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলার জন্য। তখন এটা পরিষ্কার যে আসলে এদের দিয়ে খুব একটা বেশি কিছু করা যাবে বলে আমার মনে হয় না, অন্তত টেস্টে।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন