বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নাসুমের বিপদটা হলো এখানেই। আর কাউকে না পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই দলের সব ব্যর্থতার ব্যাখ্যা সাংবাদিকেরা তাঁর কাছেই জানতে চাওয়া শুরু করলেন। ব্যাটিং কেন খারাপ হলো, দলের মধ্যে এ রকম ব্যর্থতা নিয়ে কী আলোচনা হয়, বিশ্বকাপের বাকি তিন ম্যাচে কী হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। বেচারা নাসুম! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে এখনো এক বছরও হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে সাজিয়ে-গুছিয়ে কথা বলায় অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি এখনো। তাঁকেই কিনা জর্জরিত হতে হচ্ছে এমন প্রশ্নবাণে!

বাঁকা-ত্যাড়া প্রশ্নে তবু সোজা ব্যাটেই খেলে যাচ্ছিলেন নাসুম। কিন্তু তাঁরও তো ধৈর্যের একটা সীমা আছে। সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সেটিও যখন প্রায় পেরিয়ে যাচ্ছিলেন, এক প্রশ্নে নাসুম বলে বসলেন, ‘আমরা তো আসলে চেষ্টা করতেছি, ভাই। আপনারা বারবার একই প্রশ্ন করছেন, আমিও একই উত্তরই দিচ্ছি। চেষ্টা তো করছিই।’

default-image

নাসুমের এমন ধৈর্যহারা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তার চেয়ে এই প্রশ্নটাই বরং করা উচিত—ব্যর্থতার দিনে দলের প্রতিনিধি হিসেবে নাসুমের মতো একজনকেই কেন সংবাদ সম্মেলনে পাঠানো হলো? একজন অনুজ ক্রিকেটার হিসেবে দলের নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলোর সঙ্গে তো তাঁর তেমন কোনো যোগাযোগই থাকার কথা নয়!

এ-জাতীয় ক্রিকেটাররা সাধারণত সংবাদ সম্মেলনে আসেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলে, ভালো খেলে দলকে জেতালে বা অন্য বড় কিছু করলে। দলের ব্যর্থতার দিনগুলোতে যখন সংবাদ সম্মেলনে গেমপ্ল্যান আর ভুলভ্রান্তি নিয়েই বেশি কথা বলতে হয়, সেসব দিনে সাধারণত অধিনায়ক, কোচ অথবা অন্য কোনো সিনিয়র ক্রিকেটারই সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন। দলের হয়ে তাঁরাই সব প্রশ্নের উত্তর দেন।

default-image

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্য দলগুলো বরাবর এই প্রথা অনুসরণ করে এলেও বাংলাদেশ দলে চলটা অনেক দিন ধরেই নেই। মাঠের খেলায় যেমন কোনো পরিকল্পনার ছাপ খুঁজে পাওয়া যায় না, তেমনি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠানোর ক্ষেত্রেও দলটার কোনো পরিকল্পনা থাকে বলে মনে হয় না। নাসুমের মতো ‘মাছুম’ ক্রিকেটারকেও তাই ঠেলে দেওয়া হয় ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দিতে। অথচ দায়িত্বটা নেওয়া উচিত দলের দায়িত্বশীল কারোরই।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলেও তার আগপর্যন্ত নাসুম তাঁর মতো করে চেষ্টা করেছেন সব প্রশ্নের গোছানো উত্তর দিতে। আবুধাবির উইকেটে ১২৪ রান করে ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে জেতা কঠিন, তবু নাসুম বোলিং নিয়ে একটা ব্যাখ্যা দিতে চাইলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম এই রানে যদি লড়াই করতে পারি। কিন্তু আমাদের দিয়ে সেটা হয়নি।’

ভুলভ্রান্তি নিয়ে দলের আত্মবিশ্লেষণের কথাও জানালেন নাসুম, ‘আমরা প্রথম ছয় ওভারে রান তুলতে পারছি না। এই জন্য আমরা পিছিয়ে পড়ছি। রানও তুলতে পারছি না, উইকেটও পড়ছে। এটা নিয়ে সবাই আলোচনা করেছি।’

দল খারাপ খেলতে থাকলে সমালোচকের সংখ্যা বেড়ে যায়। ক্রিকেটাররা ইদানীং সেসব সমালোচনায় প্রতিক্রিয়াশীলও হয়ে উঠছেন। তবে নাসুম একজন পরিণত ক্রিকেটারের মতোই বলেছেন, ‘বাইরে কী হচ্ছে না হচ্ছে, সেসব নিয়ে ভাবছি না। কীভাবে ভালো করতে হবে, আমরা সেটা নিয়েই ভাবছি। জিততে পারছি না, সে জন্য খারাপ লাগে।’

বিশ্বকাপে এখনো তিন ম্যাচ বাকি বাংলাদেশের। ২৯ অক্টোবর শারজায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরের ম্যাচ। এরপর খেলা বাকি থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। নাসুমের বিশ্বাস, এই তিন ম্যাচের যেকোনো একটাতে ভালো করতে পারলেই দলের মধ্যে হারানো আত্মবিশ্বাসটা ফিরে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে একটা কথা বারবারই বলেছেন নাসুম, ‘আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু পারছি না। আমাদের দিয়ে হচ্ছে না।’ এটুকু শুনলে মনে হতে পারে, নাসুমরা বুঝি হালই ছেড়ে দিচ্ছেন! কিন্তু এরপরই যখন তিনি বললেন, ‘ভয় থাকলে ক্রিকেট হয় না। আমাদের কারও মনে ভয় নেই,’ তখন আশার সলতে কিছুটা হলেও জ্বলতে থাকে।

কিন্তু এমন দিনে সে আশার সলতে জ্বালানোর দায়িত্বটা নাসুমের মতো কারও কি না, সেটাই প্রশ্ন।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন