default-image

দুই আম্পায়ারের পথ আটকে অন্তত মিনিট পাঁচেক ধরে হাত নেড়ে নেড়ে তামিম তাঁদের এমন কিছু বলছিলেন, প্রেসবক্স থেকে দেখেই মনে হচ্ছিল যেটার জবাব এরাসমাস ও হোল্ডস্টকের কাছে নেই। তাঁরা অনেকটা নীরব শ্রোতা হয়েই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামিমের কথা শুনছিলেন। পরে মাঠ ছেড়ে বেরিয়েছেন তামিমের সঙ্গেই।

কিন্তু তামিম আম্পায়ারদের কী বলেছেন? কাল ডারবান টেস্টের চতুর্থ দিনে আম্পায়ারদের অনেক ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। আম্পায়ারদের সঙ্গে তামিমের কথায় সে প্রসঙ্গ এলেও তিনি মূলত কথা বলেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের আচরণ নিয়ে।

খেলার মাঠে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে কথার লড়াই নতুন কিছু নয়। সেটি যখন বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়, আম্পায়ারদেরই দায়িত্ব পরিস্থিতি শান্ত করা। বাংলাদেশ দলের অভিযোগ, কিংসমিডে আম্পায়াররা সে দায়িত্বও ঠিকমতো পালন করছেন না। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কিছু বললেই তাঁরা শাসাচ্ছেন, অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের আক্রমণাত্মক স্লেজিংয়ে সেই তাঁরাই নির্বিকার!

default-image

বাংলাদেশ দল সূত্রে জানা গেছে, কাল দিন শেষে এ বিষয়েই আম্পায়ারদের ধরেছেন তামিম। তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছেন, কেন দুই দলের জন্য দুই রকম নীতি! বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা কিছু বললেই যখন তাঁদের বকাঝকা করে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নিজেদের দেশের খেলোয়াড়দের ঠিক অমন আচরণে সেই আম্পায়াররাই কেন চুপ, তামিম জবাব চেয়েছেন সেটার।

এরাসমাস ও স্টকহোল্ডকে নাকি তামিম এ-ও বলেছেন, এই টেস্টে তিনি খেলছেন না বলে কিছু করতে পারছেন না। তবে পোর্ট এলিজাবেথে তো খেলবেন। সেখানে পাল্টা কিছু হলে তখন দেখবেন আম্পাযাররা কী করেন।

আম্পায়ারদের এমন সতর্কবার্তা দিয়ে তামিম হয়তো নিজের ঝুঁকিটাই বাড়ালেন। তবে ব্যাট-বলের পারফরম্যান্সে যখন সব কাজ হয় না, তখন কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে এসে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই হবে। এরাসমাস-হোল্ডস্টকের পথ আটকে তামিম কাল সেটাই করেছেন।

এবারের সিরিজে বাংলাদেশকে দক্ষিণ আফ্রিকা একটু নতুনভাবেই দেখছে। আম্পায়ারদের দেওয়া তামিমের সতর্কবার্তাটাও তাঁদের জন্য সে রকমই এক নতুন অভিজ্ঞতা।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন