default-image

‘টু বি অনেস্ট’ নামের একটি ইউটিউব শোতে আকরাম বলেছেন, ‘তখন বয়স অল্প ছিল। ২৪–২৫ বছর বয়স আমাদের। আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ শীতল ছিল, এটা অস্বীকার করব না। কিন্তু তারপরও আমরা কিন্তু কেউই একে অন্যের মন্দ কামনা করতাম না। চাইতাম দুজনই যেন ভালো করি। একজন ৫ উইকেট পেলে অন্যজনও ৫ উইকেট পেতে চাইতাম। একে অন্যকে পারফরম্যান্স দিয়ে ছাড়িয়ে যেতে চাইতাম। প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা সব সময়ই স্বাস্থ্যকর ছিল। কিন্তু মুড এদিক–ওদিক হতো।’

default-image

ওয়াসিম আর ওয়াকারের সম্পর্কটা সবচেয়ে খারাপ জায়গায় পৌঁছেছিল ১৯৯৯ সালের দিকে। সেটির কথা নিজের আত্মজীবনী ‘কন্ট্রোভার্সিয়ালি ইয়োরস’–এ বর্ণনা করেছিলেন শোয়েব আখতার। তিনি লিখেছিলেন, ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে দিল্লি টেস্টে হারের পর (অনিল কুম্বলে যে টেস্টে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন) ড্রেসিংরুমে ওয়াসিম আর ওয়াকারের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। ব্যাপারটা এত বাজে রূপ নিয়েছিল যে গুঞ্জন উঠেছিল, ভারত সফর থেকে ওয়াকারকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর ছিল এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, যেটি অনুষ্ঠিত হয় কলকাতায়। তখনো পাকিস্তানের ড্রেসিংরুম ছিল থমথমে। তরুণ, উদীয়মান ক্রিকেটার হিসেবে শোয়েব সে সময়কার বাজে পরিস্থিতিতে যে অসহায় বোধ করতেন, সেটিও বইয়ে লিখেছিলেন।

তবে এত বছর পর ওয়াসিম–ওয়াকার সম্পর্কে আর সেই তিক্ততা নেই। দুজন এক সঙ্গে অনেক ধরনের কার্যক্রমে অংশ নেন। এই তো গত বছরের নভেম্বরেই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় দুজন পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। দুজন পাশাপাশি বসে বিভিন্ন পণ্যের দূত হিসেবেও কাজ করেছেন। অংশ নিয়েছেন বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে। কিছুদিন আগে ওয়াসিম আকরামকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ‘হল অব ফেমে’ জায়গা করে নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সন্তুষ্টি জানিয়েছিলেন ওয়াকার। অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তাঁর এক সময়ের বোলিং সঙ্গীকে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার কিংবা ক্রিকেটীয় আলাপচারিতায়ও ওয়াসিম আকরামের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন