বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ম্যাথু ওয়েডের ১৭ বলে ৪১ রানের ইনিংসটিই মূলত অস্ট্রেলিয়াকে এনে দিয়েছে অসাধারণ এই জয়। শাহিন শাহ আফ্রিদির করা ১৯তম ওভারে ওয়েড তিনটি ছক্কা মারলেন। ম্যাচ এখানেই শেষ। শুধু তা-ই নয়, হারিস রউফের করা ১৮তম ওভারে অস্ট্রেলিয়া নিয়েছে ১৫ আর হাসান আলীর ১৭তম ওভারে ১৩। যে বোলিং আক্রমণের ওপর পাকিস্তানের এত আস্থা। শেষ পর্যন্ত সেই বোলিংই ডুবিয়েছে পাকিস্তানকে। ওয়েডের সঙ্গে ছিলেন মার্কাস স্টয়নিস। এ দুজন দলের বিপর্যস্তকর পরিস্থিতির মধ্যেও ৪১ বলে ৮১ রানের জুটি গড়েছেন। স্টয়নিস করেছেন ৩০ বলে ৪১। জীবনের সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংসটিই খেললেন ওয়েড। স্ট্রাইকরেট ছিল ২৪১.১৮। এমন স্ট্রাইকরেট আর কখনোই দেখা যায়নি অস্ট্রেলিয়ার এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের ব্যাটে।

default-image

গতকালকের ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনালের সঙ্গে আজকের ম্যাচের আছে অদ্ভুত মিল। গতকাল নিউজিল্যান্ড একপর্যায়ে হার দেখছিল নিজেদের। কিন্তু জিমি নিশাম নেমেই উল্টে দিয়েছিলেন পাশার দান। আজ ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে যখন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফিরলেন, তার একটু আগে রিভিউ না নিয়ে ফিরলেন ডেভিড ওয়ার্নার। লেগ স্পিনার শাদাব খানের ঘূর্ণিতে দিশেহারা দেখাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়াকে, তখন কে ভেবেছিল ম্যাথু ওয়েড জিমি নিশামের ভূমিকায় থাকবেন। এমনিতেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মেরে খেলা ব্যাটসম্যান হিসেবে খুব একটা সুনাম নেই ওয়েডের। কিন্তু সেই ওয়েডই আজ ভূমিকা নিলেন ফিনিশারের! নিজের ইনিংসে ২টি চার মেরেছেন তিনি। কিন্তু চারটি ছক্কাই তো অস্ট্রেলিয়াকে এনে দিয়েছেন জয়। কালকের মতো আজও কঠিন লক্ষ্যও বিজয়ী দল পেরিয়ে গেছে এক ওভার বাকি থাকতেই।

default-image

মার্শকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের হাতে আবারও লাগাম তুলে দেন শাদাব খান। পাকিস্তানি লেগ স্পিনারকে তুলে মারতে গিয়ে আসিফ আলীর হাতে ক্যাচ হন মার্শ। তবে একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ঠিকই আক্রমণাত্মক ছিলেন ওয়ার্নার। ৩০ বলে ৪৯ রান করে ফেলেছিলেন তিনি। ৩টি চার আর ৩টি ছক্কায় পাকিস্তানের বিপদে কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু শাদাবের বলেই বড় ভুল করে বসলেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে বলে খোঁচা দিতে গেলেন। কিন্তু খোঁচাটা যে আদৌ তাঁর ব্যাট স্পর্শ করেনি, সেটি বেমালুম ভুলে গেলেন। রিজওয়ান শাদাবদের আবেদনে আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলেন। ওয়ার্নারও রিভিউ না নিয়ে সোজা হাঁটা দেন ডাগআউটের দিকে। আজ অস্ট্রেলিয়া না জিতলে হয়তো নিজের এই বোকামিটা কখনোই ক্ষমা করতে পারতেন না এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান।

default-image

ওয়ার্নারের পর উইকেটে এসে বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না ম্যাক্সওয়েল। তিনিও ১০ বলে ৭ রান করে শাদাবের বলে হারিস রউফের ক্যাচ। ঠিক ওই সময়টা জয় দেখছিল পাকিস্তান। ৪৬ বলে তখনো ৮১ রান দরকার অস্ট্রেলিয়ার। মার্কাস স্টয়নিস আর ম্যাথু ওয়েডের যে ধুমধাম মেরে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার খ্যাতি নেই।

কিন্তু সেই স্টয়নিস আর ওয়েডই ম্যাচটা আসলে কেড়ে নিলেন পাকিস্তানিদের হাত থেকে। দারুণ এক জুটি গড়লেন। প্রথমে বোঝা যাচ্ছিল না, কী অপেক্ষা করছে পাকিস্তানি বোলারদের ভাগ্যে। শেষ ৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৬২। স্টয়নিস আর ওয়েড দারুণ ব্যাটিং তো করলেনই, পাকিস্তানি বোলাররাও হয়ে উঠলেন খরচে। আসলে ঠিক ওই সময় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের চাপটাই চেপে বসেছিল পাকিস্তানি বোলারদের মাথার ওপর। একমাত্র ১৫তম ওভারটিতেই এসেছিল মাত্র ৬। বাকি চার ওভারে প্রতিটিতেই দারুণ আক্রমণাত্মক দুই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান। ১৯ তম ওভারেই ডিপ মিড উইকেটে আফ্রিদির বলে ক্যাচ ছেড়ে দেন হাসান আলী। এর পরের তিন বলেই তিন ছক্কা ওয়েডের।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের রাজা অস্ট্রেলিয়া এখনো একটিও শিরোপা জিততে পারেনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ২০১০ সালের পর এই প্রথম ২০ ওভারের বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। শিরোপা যার ঘরেই যাক, ট্রান্স তাসমান লড়াইয়ে এবার টি-টোয়েন্টির নতুন চ্যাম্পিয়নই পেতে যাচ্ছে ক্রিকেট দুনিয়া।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন