প্রথম স্পেলে আজ দারুণ বল করেন তাসকিন আহমেদ।
প্রথম স্পেলে আজ দারুণ বল করেন তাসকিন আহমেদ।ছবি: টুইটার

আজ তাসকিন আহমেদের নামের আগে 'ফাস্ট বোলার' কথাটা বেশ মানাবে। 'পেসার' শব্দটা লিখলে বরং অন্যায়ই করা হবে। ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাসকিনের প্রথম স্পেলের পর তাসকিন উঁচু গলায় বলতেই পারেন, 'হ্যা, আমি ফিরেছি।'

চোট, বাজে ফর্মে গত দুই-আড়াই বছর ধুঁকতে হয়েছে তাসকিনকে। করোনার লম্বা বিরতিতে কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে গড়েছেন নতুন করে। ফিরে পেয়েছেন হারিয়ে যাওয়া গতি। যোগ করেন নিয়ন্ত্রণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে শেষ ওয়ানডে ম্যাচেই যার ঝলক দেখান তাসকিন।

ধারা বজায় ছিল নিউজিল্যান্ডে এসেও। ডানেডিন, ক্রাইস্টচার্চে তাসকিনই বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে ঝলক দেখাচ্ছিলেন। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা আর বাজে ফিল্ডিং চাপা পড়ে তাসকিনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।

বিজ্ঞাপন

আজ ওয়েলিংটনে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচটা ছিল নিজেকে সম্পূর্ণ মেলে ধরার আদর্শ মঞ্চ। বেসিন রিজার্ভের বাড়তি বাউন্সের উইকেট বাংলাদেশ টসে হেরে বোলিং করে।

দলে তাসকিন ছিলেন বলেই হয়তো অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলছিলেন, 'আমরা টসে জিতলে বোলিংই করতাম। দেখে মনে হচ্ছে বোলিংয়ের জন্য আদর্শ উইকেট।'

তবে এমন কন্ডিশন তো বাংলাদেশ এর আগেও পেয়েছে। কিন্তু পেসাররা খুব যে কাজে লাগাতে পেরেছে্ন, তা নয়। আজ তাসকিন সেটা করে দেখান, যা সচরাচর বাংলাদেশ ক্রিকেটে দেখা যায় না। ১৪০ কিলোমিটারের আশেপাশে গতির সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন, মুভমেন্ট, বাউন্স- বাংলাদেশি পেসারদের এসবের মিশেল খুব একটা দেখা যায় না।

৭ ওভারে ২৯ রান খরচায় ১ উইকেট - পরিসংখ্যান হয়তো তাসকিনের বোলিংয়ের আসল গল্পটা বলছে না। সাবেক কিউই ক্রিকেটার গ্রান্ট ইলিয়টও ধারাভাষ্যে বলছিলেন একই কথা, 'কি স্পেলটাই না করল তাসকিন। ২৯ রানে ১ উইকেট কিন্তু ব্যাখ্যা করে না সে কতো ভালো বোলিং করেছে। শুধু আজ নয়, তাসকিন পুরো সিরিজ জুড়েই ছিলেন দুর্ভাগা। দারুণ বোলিং করেছ সে।'

ইনিংসের শুরু থেকেই তাসকিনের বল গুলো উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমকে মাথার ওপর থেকে ধরতে হচ্ছিল। বল গ্লাভসবন্দী করতে যেন হিমসিম খাচ্ছিলেন মুশফিক। গতি ও সিম মুভমেন্টে কিউই ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে মুশফিকেও কাঁপিয়েছেন। ভালো লেংথ থেকে লাফিয়ে যাচ্ছিল ব্যাটসম্যানের নাক ঘেঁষে। সঙ্গে সিম মুভমেন্ট তো ছিলই। গতি ছিল ১৪০ কিলোমিটারের আশেপাশে।

কিউই ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল, হেনরি নিকলসদের ব্যাটের দুই পাশ দিয়েই বেশ কয়েকবার পরাস্ত করেন তাসকিন। যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ভুগিয়েছেন অভিজ্ঞ রস টেলরকেও। নিকলসকে স্লিপে থাকা লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করার আগেও একবার আউট করার সুযোগ সৃষ্টি করেন তাসকিন। উইকেটকিপার মুশফিকের ভু্লেই যা একটু দেরি।

তাসকিনের এমন উন্নতি চোখ এড়ায়নি কিউইদেরও। ইলিয়ট স্মরণ করলেন তাসকিনের প্রথম নিউজিল্যান্ড সফরের কথা। ২০১৬-১৭ মৌসুমের বাংলাদেশ দলের নিউজিল্যান্ড সফরে তাসকিনের গতি ও লাইন-লেংথে ছিল এলোমেলো। পাঁচ বছর পর গল্পটা ভিন্ন।

তাসকিনের সঙ্গে বিপিএল খেলার অভিজ্ঞতা আছে ইলিয়টের। দল ও নিজের পারফর‍ম্যান্স নিয়ে তাসকিন কতোটা আবেগপ্রবণ সেটা বোঝা গেল ইলিয়টের কথা, 'সে হার পছন্দ করে না। আমি তাঁকে দেখেছি চিটাগং ভাইকিংসে খেলার সময়। দল হারলে সে সময় চিন্তা করে সে কিভাবে আরেকটু ভালো করলে দলও ভালো করত। এই সিরিজে তাঁকে ভালো করতে দেখে ভালো লাগছে।'

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন