২০১৯ সালের জুলাই থেকে মাস পাঁচেক বাংলাদেশের বোলিং কোচেরও দায়িত্ব পালন করা ল্যাঙ্গেভেল্টের জন্য সিরিজটা একদিক থেকে বিশেষই ছিল। বাংলাদেশে কাজ করতে থাকা অবস্থায়ই ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব পেয়ে চলে যান। এক দলে তিনি কাজ করেছেন কিছুদিন, তাসকিন-এবাদতদের তাঁর ভালোই চেনা। আরেক দল তো তাঁর সবকিছুই। সব মিলিয়ে সিরিজটা তাঁর জন্য বিশেষ হওয়ার কথা ছিল, সেটির শেষে এসেই এমন ভয়জাগানিয়া অভিজ্ঞতা হলো ল্যাঙ্গেভেল্টের!

জৈব সুরক্ষাবলয়ের বদলে করোনাসংক্রান্ত নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার কারণেই হয়তো, এই সিরিজে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচ-কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আজই যেমন, চতুর্থ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই খেলোয়াড় সারেল এরউয়ি ও উইয়ান মুল্ডার করোনা পজিটিভ হওয়া ইতিহাসে নাম লেখালেন খায়া জন্ডো। এরউয়ি ও মুল্ডারের বদলে মাঠে নামানো হয় জন্ডো ও গ্লেনটন স্টুরম্যানকে। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে ছয় ওয়ানডে খেলে ফেলা জন্ডোর হলো টেস্ট অভিষেক! ইতিহাসের প্রথম করোনা বদলি জন্ডো ও স্টুরম্যান।

শেষ পর্যন্ত চার দিনের মধ্যেই ৩৩৩ রানের জয় পেয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের উৎসবে শামিল হওয়া হয়নি ল্যাঙ্গেভেল্টের। অবশ্য এ মুহূর্তে ক্রিকেটের চেয়ে জীবনের উদ্‌যাপনই বেশি হওয়ার কথা তাঁর। দক্ষিণ আফ্রিকান ওয়েবসাইট আইওএলের সাংবাদিককে ল্যাঙ্গেভেল্টের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তা, ‘আমরা (ল্যাঙ্গেভেল্ট ও ওয়াদে) ঠিকঠাক আছি। ভালো আছি। কোনো চোট পাইনি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’

ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা এক বিবৃতিতে জানিয়ে ঘটনার বিস্তারিত। ল্যাঙ্গেভেল্ট ও ওয়াদে কেন বাড়ি ফিরে গেছেন, সেটির ব্যাখ্যা আছে বিবৃতিতে, ‘(দুজনের করোনা ধরা পড়ার পর) দলের চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গেই দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের মধ্যে সফরের শুরুতেই ঠিক করে রাখা নিয়ম জারি করেছেন। দুজনেরই হালকা উপসর্গ ছিল, দুজনই তাই গাড়িতে করে বাড়ি ফিরে সেখানে কোয়ারেন্টিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

দুর্ঘটনা কখন হলো, সেটিও জানিয়েছে সিএসএ, ‘দুর্ভাগ্যবশত যাত্রাপথে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর কিছু আগে তাঁরা গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছেন। দুজন নিরাপদ আর সুস্থই আছেন। নিজেদের ঘরে, নিজেদের পরিবারের সঙ্গেই আছেন।’