আউট হয়ে মাথা নাড়তে নাড়তে ডাগআউটে ফিরছেন কোহলি—এবারের আইপিএলে যেন নিয়মিত দৃশ্যই হয়ে উঠেছে এটি। গতকালও অভিন্ন চিত্রই দেখা গেল। আউটের পর কোহলির প্রতিক্রিয়াও তো টিভি ক্যামেরার কাছে ‘সেলিং পয়েন্ট’, প্রতিদিনই তাই কোহলি আউট হওয়ার পর তাঁর দিকে ক্যামেরা তাক করা থাকেই।

কাল দেখা গেল, ড্রেসিংরুমে ফেরার পর হতাশ কোহলি একটা সময় ওপরে তাকিয়ে আছেন; যেন অদৃশ্যের কাছে আর্তনাদ! ড্রেসিংরুমে একটা সময় বেঙ্গালুরু কোচ সঞ্জয় বাঙ্গার এসে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন কোহলিকে।

একসময়ে ২২ গজে ব্যাট হাতে শাসন করা কোহলির এই অসহায় অবস্থায় তাঁকে বুদ্ধি-পরামর্শ দেওয়ার মানুষের অবশ্য অভাব পড়ছে না।

default-image

কদিন আগে রবি শাস্ত্রী প্রথম পরামর্শ দিয়েছিলেন, কোহলির উচিত কিছুদিন বিশ্রামে থাকা। আর বিশ্রামের জন্য এই মুহূর্তে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোই তাঁর জন্য সবচেয়ে ভালো হবে বলে জানিয়েছিলেন শাস্ত্রী। ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচক এম এস কে প্রসাদও দিন দুয়েক আগে বলেছিলেন, এশিয়া কাপের আগে কোহলির বিশ্রামের দরকার।

কাল কোহলির গোল্ডেন ডাকের পর আবারও তাঁর বিশ্রামের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে সাবেকদের আলোচনায়। টুইটারে সরব সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন কোহলি আউট হতেই টুইট করেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের জন্য মাঝেমধ্যে খেলাটা থেকে কিছুদিন বিশ্রামে থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই খেলোয়াড়দের যে পরিমাণ ক্রিকেট খেলতে হয়, তাতে বিশ্রাম অন্য যেকোনো কিছুর মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে ভারতের সাবেক অধিনায়ক দিলীপ ভেংসরকারের বিশ্লেষণ বলছে উল্টোটা। তাঁর মতে, বিশ্রাম নেওয়া কোহলির জন্য এখন আরও খারাপ হবে। কারণ, ফর্মহীন অবস্থায় বিশ্রাম নেওয়া কোহলির মনে আরও বেশি সংশয়ের জন্ম দেবে।

default-image

‘আমার মতে ওর খেলতে থাকা উচিত। আপনি খেলতে খেলতেই ফর্ম ফিরে পাবেন, বিশ্রাম নিয়ে নয়,’ ভারতের ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজে বলেছেন ভেংসরকার।

এ অবস্থায় কোহলির বিশ্রাম নেওয়ায় ঝুঁকি কী, সেটিও বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন ভেংসরকার, ‘আপনি ক্রিজে থাকলেই শুধু ফর্ম ফিরে পাওয়া সম্ভব। ও যদি আইপিএলে শেষ কয়েকটা ম্যাচে কিছু রান পায়, তখন ও চাইলে বিশ্রাম নিতে পারে। আমার যেটা মনে হয়, ও যদি এভাবে ব্যর্থ হতে থাকা অবস্থায় বিশ্রাম নেয়, তাহলে ওর মনে সংশয় বাসা বাঁধতে থাকবে। সেটা ঠিক হবে না।’

টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ব্যাটসম্যানের জন্য ফর্ম খুঁজে পাওয়া কঠিন জানিয়ে কোহলির প্রতি ভেংসরকারের পরামর্শ, ‘আমি বলব, মাঠে থাকলেই শুধু ফর্ম ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বিরাটের ব্যাটিংয়ে আমি কোনো সমস্যা দেখছি না। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটাই এমন, এখানে আপনি গুছিয়ে নেওয়ার সময় পাবেন না। কারণ, শুরু থেকেই শট খেলতে হয়। কেউ ভালো ছন্দে না থাকলে তার জন্য সবকিছু আরও কঠিন হয়ে যায়।’

কোহলির চেয়ে ভালো তা আর কে জানে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন