ক্রিকেটের অচেনা 'শব্দকোষ'

বিজ্ঞাপন
default-image

আর্ম বল থেকে ইয়র্কার—ক্রিকেটে কত ধরণের শব্দ আর শব্দগুচ্ছই না আছে! ক্রিকেটীয় পরিভাষায় কিছু শব্দ আছে, যে গুলো খুব চেনা। আমার এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলো একটু কমই ব্যবহৃত হয়।তা কী বোঝায় সে সব শব্দ দিয়ে? তা জানতেই এই ক্রিকেট 'শব্দকোষ'—

বেল্টার: যে উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুই থাকে না। যাকে আমরা বলি ব্যাটিংবান্ধব উইকেট।

ব্লব: '০' রান বা ডাক

বোসি: অস্ট্রেলীয়রা এক সময় গুগলিকে এই নামে চিনত। গুগলির জনক বার্নার্ড বোসানকোয়েটের নামে বোসি বলা হতো।

বানি: দলের যে সদস্য ব্যাট করতে পারেন না, কিন্তু বিশেষজ্ঞ বোলার কিংবা উইকেটকিপার হিসেবে একাদশে সুযোগ পান। এরা সাধারণত ১১ নম্বরে ব্যাটিং করেন। এ ছাড়া কোনো এক বোলারের কাছে বারবার আউট হওয়া ব্যাটসম্যানকেও বানি বলে। যেমন, গ্লেন ম্যাকগ্রার বানি মাইক আথারটন।

বুনসেন: স্লো বোলাররা সাহায্য পান যে উইকেট থেকে। ইংরেজি টার্নার শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে বুনসেন বার্নার, সেখান থেকে শুধু বার্নার।

চায়নাম্যান: বাঁহাতি স্পিনারদের লেগ স্পিন। চাইনিজ বংশোদ্ভূত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান লেগ স্পিনার পুস আচংয়ের সম্মানে এই নামকরণ। টেস্ট ইতিহাসের প্রথম বাঁহাতি লেগ স্পিনার আচং।

চিন মিউজিক: ব্যাটসম্যানদের মাথা লক্ষ্য করে বল করা ফাস্ট বোলার। এই শব্দ যুগলের উৎপত্তি ক্যারিবিয়ানে।

করিডর অব আনসার্টেনটি: অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরের একটি জায়গা। যে জায়গার বল খেলবেন কি খেলবেন না বুঝে উঠে পারেন না ব্যাটসম্যান।

কাউ কর্নার: মিডউইকেট ও লং অনের মাঝামাঝি একটি ফিল্ডিং পজিশন। ইংল্যান্ডের ডলউইচ কলেজ এই নামকরণের মূলে। কলেজটির ক্রিকেট মাঠের এই অংশটায় গরু চরে বেড়াত।

ক্রিকেট ম্যাক্স: স্বল্প দৈর্ঘ্যের এক ধরণের ক্রিকেট ম্যাচ, যেখানে রান গোনা হতো অপ্রথাগত উপায়ে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে প্রয়াত মার্টিন ক্রোর উদ্যোগে নিউজিল্যান্ডে চালু হয়েছিল এটি।

ডিবলি–ডবলি বোলারস: মিডিয়াম পেসার যারা ওয়ানডেতে রান আটকাতে পটু। ১৯৯২ বিশ্বকাপে রড ল্যাথাম, গ্যাভিন লারসেন, ক্রিস হ্যারিসের মতো ডিবলি–ডবলি বোলাররা সেমিফাইনালে তুলেছিলেন নিউজিল্যান্ডকে।

ডলি: সহজ ক্যাচ।

গার্ডেনিং: ব্যাটসম্যানদের পিচের ক্ষত মেরামত।

গ্রাবার: যে বল খুব কম বাউন্স করে।

হেভি বল: প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গতিতে আসা বল।

হিট দ্য ডেক: বলটাকে বেশ উঁচু থেকে ছেড়ে পিচ থেকে অতিরিক্ত বাউন্স আদায় করা।

হোয়েক: স্লগের সমার্থক, তবে অন সাইডের জন্য বেশি প্রযোজ্য।

ইন ডাকার: যে ইনসুইং ডেলিভারি শেষ মুহূর্তে ব্যাটসম্যানের দিকে যায়। পুরোনো বলে ওয়াসিম আকরাম ভালো ইন ডাকার দিতেন।

জ্যাফা: যে বলে ব্যাটসম্যানদের কিছুই করার থাকে না।

কিং পেয়ার: দুই ইনিংসেই প্রথম বলে শূন্য রানে আউট।

মিলিটারি মিডিয়াম: যে পেসারের বলে গতি নেই বললেই চলে।

নেলসন: ১১১ কিংবা এর গুণিতক স্কোর। সাবেক জেনারেল লর্ড নেলসন এক যুদ্ধে এক চোখ, এক হাত ও শরীরের অন্য একটি প্রত্যঙ্গ হারিয়েছিলেন। সেটির স্মরণেই এই নামকরণ।

অন দ্য আপ: বল পিচে পড়ে ওঠার পথেই শট খেলা। ভিভ রিচার্ডস খুভ ভালো খেলতেন এই শট।

পুডিং: মন্থর উইকেট। যেখানে দ্রুত রান তোলা কঠিন।

default-image

স্যান্ডশু ক্রাশার: ইয়র্কারের সমার্থক শব্দ।

শোল্ডার আর্মস: কাঁধের ওপরে ব্যাট উঠিয়ে বল ছেড়ে দেওয়া।

শার্টফ্রন্ট: নির্জীব পাটা উইকেট।

স্টোনওয়াল: যেকোনো মূল্যে উইকেট বাঁচিয়ে খেলা।

সানড্রিস: অতিরিক্ত রানের অস্ট্রেলীয় নাম।

সুপারসাব বদলী খেলোয়াড়। ২০০৫ সালে আইসিসি ওয়ানডেতে একজন খেলোয়াড় বদলের নিয়ম চালু করেছিল। নিয়মটি টেকেনি বেশি দিন।

টিপট: দুই হাত কোমরে রেখে ফাস্ট বোলারদের দাঁড়ানোর ভঙ্গি। সাধারণ ক্যাচ বা ফিল্ডিং মিস হলেই এমনটা দেখা যায়।

টন: সেঞ্চুরি।

টঙ্ক: বলকে জোরে পেটানো।

ট্রান্ডলার: এক সময়ের দ্রুত গতির যে বোলার সময়ের সঙ্গে গতি হারিয়ে স্লো বল করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন