ঘড়ি ধরে লিটনের ব্যাটিং দেখছিলেন প্রিন্স

সেঞ্চুরির সুবাস পেয়েও তিন অঙ্কের দেখা পাননি লিটন।ছবি: রয়টার্স

ওপরের সারির ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে রান পেয়েছেন শুধু অধিনায়ক মুমিনুল হক। তাঁর ৭০ রানের ঝলমলে ইনিংসটি বাদ দিলে হারারে টেস্টে প্রথম দিনের প্রথম দুই সেশনে বাংলাদেশের গর্ব করে বলার মতো কিছুই ছিল না।

বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুরু হয় এরপর। সেই গল্পের নায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও লিটন দাস। দুজনে সপ্তম উইকেটে ২৫৬ বলে ১৩৮ রানের জুটি গড়ায় বাংলাদেশ প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৯৪ রান করেছে।

দলের ব্যাটিং পরামর্শক অ্যাশওয়েল প্রিন্স লিটন-মাহমুদউল্লাহর জুটির প্রশংসা করলেন। মাহমুদউল্লাহর অভিজ্ঞতা আর লিটনের সহজাত ব্যাটিংয়ের মিশেল পছন্দ হয়েছে নতুন ব্যাটিং পরামর্শকের, ‘মাহমুদউল্লাহ সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস খেলেছে। ইনিংসের ওই সময়ে আমাদের অভিজ্ঞতার দরকার ছিল, সম্ভবত সে সঠিক ব্যক্তি হিসেবে অভাবটা পূরণ করেছে। লিটন ওই সময় চাপমুক্ত ইনিংস খেলছিল, মাহমুদউল্লাহ যোগ দিয়ে নিজেদের মধ্যে চাপহীন খেলার ব্যাপারে সাহায্য করেছে, একে অপরকে রান করার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে।’

উইকেটে থাকতে সহজাত ব্যাটিংয়ে দারুণ কিছু শট খেলেন লিটন।
ছবি: জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট টুইটার

লিটনের সুযোগ ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটা রাঙানোর। কিন্তু নিজের ভুলে তা হয়নি। শেষ বেলায় সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে থাকতে ডোনাল্ড তিরিপানোকে পুল করে ছক্কা মারার খেসারত দেন লিটন। নিজের ভুলে দিন শেষে নামের পাশে অপরাজিত সেঞ্চুরিতে মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়া হলো না লিটনের।

তবে যতক্ষণ ব্যাটিং করেছেন, ততক্ষণ নাকি লিটনের ব্যাটিং ঘড়ি ধরে দেখছিলেন প্রিন্স, ‘এই দলে খুব দক্ষ কিছু ক্রিকেটার আছে। লিটন তাদের একজন। ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, সে আমাকে বলেছে যে ৩০-৪০ রানে থাকার সময় সে উইকেট ছুড়ে আসে, মনঃসংযোগ হারিয়ে ফেলে। আমি তাকে বলেছি, কত রান বা অন্য কিছু ভুলে তুমি যদি তিন ঘণ্টা ব্যাটিং কর, তাহলে দেখবে সেঞ্চুরির কাছে চলে গেছ। এমনকি আজ সে ব্যাট করছিল, আমি ঘড়ি দেখছিলাম। সে আজ তিন ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ক্রিজে ছিল, দুর্ভাগ্য যে সে সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও সুযোগ হারাল কিন্তু এটা থেকে সে ভালো কিছু শিখবে।’

বাজে শট খেলে নিজেকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন লিটন।
ছবি: এএফপি

টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুলের ৯২ বলে ৭০ রানের ইনিংসের প্রশংসাও করেছেন ব্যাটিং কোচ। বিশেষ করে দলের বিপদের সময় মুমিনুলের শরীরী ভাষা নাকি ড্রেসিংরুমের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল, ‘মুমিনুল যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, তা দারুণ ছিল। শান্তভাবেই সে দলকে এগিয়ে নিয়েছে। তার এই শান্ত থাকাটা বা ক্রিজে তার অবস্থান ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। যেকোনো ব্যাটসম্যানের এমন শরীরী ভাষা থাকলে তাকে দেখে দলের জন্য কাজটা সহজ হয়।’

টপ অর্ডারে ধসের পর মুমিনুল-সাদমানের ৬০ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু মিডল অর্ডারে দ্রুত মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের সঙ্গে উইকেটে থিতু হওয়া মুমিনুলকে হারিয়ে অল্প রানে অলআউটের শঙ্কা তৈরি হয়।

সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মাহমুদউল্লাহ-লিটনের জুটিকে ধন্যবাদ দেন তিনি। দিন শেষে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকা মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে আগামীকাল আরও কিছু রান পাবে বাংলাদেশ, ব্যাটিং কোচের আশা এমনই, ‘আমরা এখনো মাহমুদউল্লাহকে ক্রিজে পাচ্ছি। এখন তাসকিন ও ইবাদতকে যতটা সম্ভব মাহমুদউল্লাহকে সমর্থন দিতে হবে। কেউ–ই কিন্তু জানি না কত রান এখানে নিরাপদ। আমরা চাই যত বেশি সম্ভব রান তুলতে।’