default-image

টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে আমি উপভোগ করছি সবকিছু। সবকিছু মানে স..ব..কি..ছু! বিশ্বকাপের বিশেষ তোয়ালে থেকে শুরু করে লোকের মুখে হাসি, সবকিছু। বিশ্বকাপ নিয়ে লোকের যা উচ্ছ্বাস ও রোমাঞ্চ, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে দারুণ লাগছে এ মুহূর্তে।
সংবাদমাধ্যমে বিশ্বকাপ উত্তেজনা অবশ্য শুরু হয়ে গেছে বেশ আগেই। সেটাই হওয়ার কথা, তাদের কাজের ধরনটা আমি বুঝি। অনুমান, ভবিষ্যদ্বাণী, ধারণা তাই শুরু হয়ে গেছে কোনো দলের বিপক্ষে কে কেমন করবে, ফেবারিট কারা, আন্ডারডগই বা কোন দল। এবং অতি অবশ্যই, বারবারই উঠে আসছে কোন দল চোকার্স!
অনেক দিন ধরেই এই ‘চোকার’ শব্দটি দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের সঙ্গী। আমার কাছে ব্যাপারটি হতাশার চেয়ে লাগে বিস্ময়কর, এমনকি আরও বেশি বিভ্রান্তিকর। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ওই দল কী করেছিল, সেটার ফল কেন এই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের বইতে হবে? আরও আগে, ১৯৯২ বিশ্বকাপের কথা না হয় না-ই বললাম! আমি তো মাত্র একটি বিশ্বকাপেই খেলেছি, গতবার। কোয়ার্টার ফাইনালে আমরা হেরেছিলাম আগ্রাসী, ক্ষুধার্ত ও তেতে থাকা এক নিউজিল্যান্ড দলের কাছে। ক্রিকেটে এটা হতেই পারে। ব্যস! যা-ই হোক, সংবাদমাধ্যম এই হাড্ডি বারবার চিবুতে ভালোবাসে এবং এটা আমাকে বিন্দুমাত্রও বিচলিত করে না। আর এই ভাবনা আমার টুর্নামেন্ট উপভোগে কোনো রকম প্রভাব ফেলবে না।
জানি, এর মধ্যেই ছোট-বড় সব দলকে নিয়ে অনেক পূর্বধারণা শুরু হয়ে গেছে। অনেক অনেক তত্ত্ব, মতবাদও উড়ে বেড়াচ্ছে বাতাসে। ভারতের কথাই ধরুন। সবাই বলাবলি করছে ভারত দুর্দান্ত ব্যাটিং দল, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে ওদের বোলিং নখদন্তহীন। এ ধারণার প্রথম ভাগ খুবই সত্যি, ভারতের ব্যাটিং দারুণ। কিন্তু বোলিং এত হেলা করার মতো নয় মোটেও। ওদের বোলাররাও নিজেদের দিনে যথেষ্ট কার্যকরী হতে পারে। এত সহজেই ভারত শিরোপা হাতছাড়া করবে না নিশ্চিতভাবেই।
অস্ট্রেলিয়া অন্যতম ফেবারিট, যদিও চোট ওদের খুব ভোগাচ্ছে। মাইকেল ক্লার্কের ফিটনেস আর নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনাটাও চলছে প্রতিদিন, যেটি ওদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আরও অনেকের মতো নিউজিল্যান্ড দলটিকে আমারও দারুণ মনে ধরেছে। সব দিক থেকে পরিপূর্ণ একটি দল। অনেকগুলো অলরাউন্ডার, জেনুইন ফাস্ট বোলার, তিন-চারজন অসাধারণ ব্যাটসম্যান। সঙ্গে স্পিনে ‘চিরতরুণ বুড়ো’ ড্যান ভেট্টোরি তো আছেই, যেকোনো সময়ের মতোই কার্যকর। নিউজিল্যান্ডকে হারাতে হলে, খুব ভালো খেলেই হারাতে হবে।
আমি সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে। নিউজিল্যান্ডের মতো আমরাও সব দিকে প্রায় পূর্ণ দল। হ্যাশ (হাশিম আমলা) ও এবি-কে (ডি ভিলিয়ার্স) নিয়ে নতুন করে আর কী বলব! শুধু ওদের রেকর্ডের দিকে তাকানোই যথেষ্ট। এই দুজনের সঙ্গে কুইন্টন ডি কক, ফাফ ডু প্লেসি, জেপি ডুমিনি ও ডেভিড মিলারকে নিয়ে অসাধারণ ব্যাটিং লাইনআপ আমাদের। মরনে মরকেল ও ভারনন ফিল্যান্ডারকে নিয়ে গড়া নতুন বলের আক্রমণ টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। এরপর আমি মনে হয় খুব একটা খারাপ নই! স্পিনে থাকবে ইমরান তাহির, প্রয়োজনে জেপি।
আমাদের হারাতে হলেও, খুব খুব ভালো খেলে হারাতে হবে!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন