দলের ভেতর খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমে থাকা অনেক হতাশা থেকেই নাকি মাহমুদউল্লাহর এ সিদ্ধান্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের পর টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া হয় ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদউল্লাহকে। তাঁকে সাদা বলে মনোযোগ দিতে বলেছিলেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। এর ১৬ মাস পর জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলে ফিরে মাহমুদউল্লাহ তার জবাব দিয়েছেন ক্যারিয়ারসেরা ১৫০ রানের ইনিংস খেলে।

এর পরদিনই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ইচ্ছা প্রকাশের এ ঘটনা। সতীর্থদের মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ক্যারিয়ারসেরা এ ইনিংসই নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজটা সহজ করে দিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটটা যে তিনি খেলতে পারেন, সেটাই নাকি সবাইকে জানিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। হারারে টেস্টে দলের বিপদের মুহূর্তে করা অপরাজিত সেঞ্চুরি দিয়ে তা দেখানো হয়ে গেছে। এবার বিদায়ের পালা।

তখন ড্রেসিংরুমে ছিলেন—মাহমুদউল্লাহর তেমনই এক সতীর্থ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছে, ‘তিনি যে টেস্ট ক্রিকেটটা খেলতে পারেন, এটাই নাকি দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এখন আর তিনি টেস্ট খেলতে চান না। এ কথা শুনে দলের সবাই খুব অবাক হয়ে যায়। আসলে কেউই জানত না তিনি এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। গত তিন রাত নাকি তিনি ঘুমাতে পারেননি।’

মাহমুদউল্লাহর কথাটা আবেগের বশে বলা, নাকি সত্যিই তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে যেতে চান, সেটি জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলবে বিসিবি। টেস্ট চলাকালে ড্রেসিংরুমে তাঁর এমন কাণ্ড পছন্দ হয়নি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের। মাহমুদউল্লাহর এ সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। কারণ, মাহমুদউল্লাহ আগেই বিসিবিকে জানিয়েছিলেন, তিনি তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই খেলতে চান এবং সে কারণেই শেষ মুহূর্তে তাঁকে জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক কর্মকর্তা এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এটা যদি হয়, তাহলে খুবই খারাপ হবে। কারণ, তাকে টেস্ট খেলাতে অনেক কিছুই করতে হয়েছে আমাদের। তাকে নিয়ে কোচের চাওয়া না–চাওয়ার ব্যাপার ছিল। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি। এখন সে যদি শুধু নিজেরটাই ভাবে, তাহলে বিষয়টি ভালো দেখায় না।’