নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ফিফটি তুলে নেন তামিম ইকবাল।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ফিফটি তুলে নেন তামিম ইকবাল।ছবি: টুইটার

এবারের আইপিএলের নিলামের সবচেয়ে বড় চমক কাইল জেমিসন। চারটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে মাত্র ৩ উইকেট পাওয়া এই কিউই পেসারকে ১৫ কোটি রুপিতে কিনেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বিরাট কোহলির দল তাঁকে কিনে ভুল করেছে কি না, সেটা আগামী দুই মাসেই টের পাওয়া যাবে। তবে এখন পর্যন্ত যা ইঙ্গিত, তাতে হতাশা উপহার পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

নিলামের পরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছেন জেমিসন। তাতে নিজেকে প্রমাণ করতে তো পারেনইনি, বরং নিউজিল্যান্ড দলে নিজের অন্তর্ভুক্তিই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। চার ম্যাচে পুরো ১৬ ওভার বল করতে পারেননি, অথচ রান দিয়েছে ১৭৫টি। এত রানবন্যার বিনিময়ে উইকেট পেলেও হয়তো প্রশ্ন উঠত না, কিন্তু চার ম্যাচে মাত্র একজন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানকে আউট করতে পেরেছেন জেমিসন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেও ভাগ্য বদলাতে পারেননি পৌনে সাত ফুট উচ্চতার ফাস্ট বোলার। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভয়ংকর ব্যর্থতার ফায়দা প্রায় সব কিউই বোলার তুলে নিলেও জেমিসন ছিলেন উইকেটশূন্য। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য এক উইকেট পেয়েছেন। এর সঙ্গে জরিমানাও জুটিয়ে নিয়েছেন!

বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছেন কাইল জেমিসন। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি শরীর নিয়েও নিজের বলে ক্যাচ ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, প্রায় শুয়ে পড়ে ধরেছিলেন তামিম ইকবালের ব্যাট ছুঁয়ে আসা বল। দারুণ সে ক্যাচে আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউন প্রথমে আউট দিয়েও দিয়েছিলেন। নিশ্চিত হতে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে গেলেও মাঠ থেকে সফট সিগন্যাল আউটই দেওয়া হয়েছিল।

default-image

৩৪ রানে থাকা তামিম ইকবালকে তবু ফেরাতে পারেননি জেমিসন। তৃতীয় আম্পায়ার দেখেছেন, ক্যাচ ধরলেও শেষ পর্যন্ত বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি জেমিসন। ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী একটি ক্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় ফিল্ডারদের। তাই তৃতীয় আম্পায়ার ওয়েইন নাইটস আউট দেননি তামিমকে।

এত দারুণ চেষ্টার ফল না পাওয়ায় খেপে উঠেছিলেন জেমিসন। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগ নেই জেনে রাগ আটকাতে পারেননি। প্রকাশ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দুই হাত ওপরে ছুড়ে এভাবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা তাঁকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। আইসিসির আচরণবিধির ২.৮ ধারা ভাঙার অভিযোগ তোলা হয়েছে জেমিসনের বিরুদ্ধে।

এই ধারায় আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন জেমিসন। প্রথম মাত্রার অপরাধ হিসেবে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট বসেছে এই পেসারের নামের পাশে। এ ছাড়া ম্যাচ ফির ৫০ ভাগ পর্যন্ত কাটার বিধান রয়েছে এই আইনে।

মাত্র তিন মাসে দুই ডিমেরিট পয়েন্ট জোগাড় হয়ে গেছে জেমিসনের। দুই বছরের মধ্যে চার ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে এক টেস্ট অথবা দুটি সীমিত ওভারে ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা জোটে।

তবে ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো অতটা কড়া শাস্তি দেননি। ম্যাচ ফির ১৫ ভাগ জরিমানা দিয়েই আপাতত পার পাচ্ছেন কিউই পেসার। কোনো আপত্তি ছাড়া শাস্তি মেনে নিয়েছেন জেমিসন, তাই আনুষ্ঠানিক কোনো শুনানিও হয়নি।

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষেও ফিল্ডিংয়ের এক ঘটনায় এক ডিমেরিট পয়েন্ট জুটেছিল জেমিসনের। সে সঙ্গে ম্যাচ ফির ২৫ ভাগ জরিমানা দিয়েছিলেন। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে গত ডিসেম্বরে ফাহিম আশরাফের দিকে বল ছুড়ে মেরেছিলেন জেমিসন। অথচ তখন আশরাফ স্টাম্প থেকে দূরে ছিলেন এবং রান নেওয়ার চেষ্টাও করছিলেন না।

মাত্র তিন মাসে দুই ডিমেরিট পয়েন্ট জোগাড় হয়ে গেছে জেমিসনের। দুই বছরের মধ্যে চার ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে সেটা সাসপেনশন পয়েন্টে রূপান্তরিত হয় এবং এক টেস্ট অথবা দুটি সীমিত ওভারে ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা জোটে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন