দিনটাতে পেছনে ফিরে দেখলে ব্যাটসম্যানদের ভুলগুলোই চোখে পড়ে তামিমের।
দিনটাতে পেছনে ফিরে দেখলে ব্যাটসম্যানদের ভুলগুলোই চোখে পড়ে তামিমের। ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম টেস্টে শেষ দিনে অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো খেলে জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ঢাকা টেস্টের ব্যাপারটা সে রকম নয়। প্রথম দুদিন শেষে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে আছে সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করে ৪০৯ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর বল হাতেও ভালো করেছে। ৭১ রানে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশের ৪ উইকেট। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে মিরপুর টেস্টে ভালো কিছু পেতে হলে কঠিন লড়াই করতে হবে বাংলাদেশকে।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ১০৫। দুই দিনের খেলা শেষে দল যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে, এর দায় কাদের—বোলার না ব্যাটসম্যানদের? ব্যাটসম্যানরা যেভাবে আক্রমণাত্মক শট খেলে অকাতরে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন, সেটার খুব সমালোচনা হচ্ছে ক্রিকেট মহলে। বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবালও দায় নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের নিজেদেরই দোষ এই অবস্থার জন্য। ভুলগুলো না করলে আমরা আরও ভালো অবস্থায় থাকতাম।’

বিজ্ঞাপন

তামিম যে ভুলগুলোর কথা বললেন, সেগুলো কী? ভালো ব্যাটিংয়ের আশা নিয়ে নামার পর এভাবে ভেঙে পড়ার পেছনের ভুলগুলোর কথা উঠে এসেছে তামিমের কণ্ঠেই, ‘উইকেট অসম্ভব ভালো ছিল। আমরা যখন ব্যাটিংয়ে নামি, তখনো অনেক ভালো ছিল। উইকেট থেকে বোলাররা তেমন কোনো সুবিধা পাচ্ছিল না। আমাদের যে চারটা উইকেট পড়েছে, কোনোটা যে খুব ভালো বলে বা উইকেটের কারণে পড়েছে, তা নয়। আপনি যদি দেখেন, চারটাই ব্যাটসম্যানদের ভুল ছিল।’

default-image

এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটা কঠিন বলেই মনে করেন তামিম, ‘আমাদের যদি ২টি উইকেট কম পড়ত এবং এই রানই স্কোরবোর্ডে থাকত, তাহলে আমাদের অবস্থান আরও ভালো হতো। যেহেতু ৪টা উইকেট পড়ে গেছে, তাই বলতেই হবে ওরাই এগিয়ে আছে।’ তবে এখনো হাল ছাড়ছেন না বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘আমরা যদি কাল বড় জুটি গড়তে পারি, ১০০ থেকে ১৫০ রানের জুটি গড়তে পারি, তাহলে আবার ম্যাচে ফিরতে পারব।’

তবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশের হাতে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান এখন আর খুব বেশি নেই। ২৭ রান নিয়ে মুশফিকুর রহিম উইকেটে আছেন। তাঁর সঙ্গী মোহাম্মদ মিঠুনের রান ৬। এ দুজনের বাইরে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলতে লিটন দাস আর অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্টে ভালো করতে না পারা লিটন, কিংবা চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরি করা মিরাজ কি এবারও পারবেন লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে? তামিমের অবশ্য সে বিশ্বাস আছে, ‘বিশ্বাস তো করতেই হবে। এমন না যে ওরা আগে কখনো ভালো করেনি। লিটনের সামর্থ্য আছে। মিরাজ প্রথম ম্যাচে দারুণ খেলেছে।’

মিরপুরের উইকেটও ভরসা জোগাচ্ছে তামিমকে, ‘উইকেট এখন পর্যন্ত এমন কোনো আচরণ করেনি, যেটা নিয়ে চিন্তার কিছু আছে। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কালকের প্রথম সেশনটা।’ প্রথম সেশনে কী করতে হবে, সেটাও বললেন তামিম, ‘আমাদের উইকেট হারানো চলবে না। কারণ, এরই মধ্যে আমাদের ৪টা উইকেট পড়ে গেছে। খুব বেশি ব্যাটসম্যান বাকি নেই। এখন যে জুটিটা আছে, সেই জুটির ওপরেই অনেক কিছু নির্ভর করবে। আশা করছি তাদের একটা ভালো পার্টনারশিপ হবে।’

default-image

আজ দিনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ই ছিল বাংলাদেশের আগ্রাসী মনোভাবের ব্যাটিং। সেটা নিয়েও প্রশ্ন ছুটে গিয়েছিল তামিমের দিকে। তামিমও বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন, এত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে যাওয়াটাই ছিল বড় ভুল, ‘আমার কাছেও মনে হয়, আমি একটু আক্রমণাত্মক খেলেছি।’ তবে এ দায়টা তামিম শুধু নিজের কাঁধেই নিয়েছেন, ‘আমি ছাড়া আর কেউ এমন খেলেছে বলে মনে হয় না আমার। তবে আউট হওয়ার বলটা ছাড়া সে রকম কোনো ভুল শটও খেলিনি। একটা হয়তো স্লিপের পাশ দিয়ে গিয়েছিল। তবে মারার বল হলে আমি চেষ্টা করেছি মেরে রান তুলে নেওয়ার।’

কেন এমন ব্যাটিং করেছেন, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তামিম, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, খুব বেশি রক্ষণাত্মক মনোভাব নিয়ে ব্যাটিং করা উচিত হবে না। আপনি যদি বাজে শট খেলে আউট না হন, আর বলের মেধা অনুযায়ী খেলেন, তাহলে এটা ঠিক আছে। দুর্ভাগ্যবশত আমি যে বলটায় আউট হলাম, সেটা ঠিক ছিল না।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন