বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৯ বছর পর কোনো বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্টে পাঁচ উইকেট পেলেন। আশা করি পরের পাঁচ উইকেটের জন্য এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না…

ইবাদত: এখন থেকে আমরা পেস বোলাররাই টেস্ট ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করব। এই টেস্ট ম্যাচে তো দেখেছেন, ফাস্ট বোলাররাই বেশির ভাগ উইকেট নিয়েছে। শুধু যে দেশের বাইরের কন্ডিশনে তা কিন্তু নয়, আমরা দেশের কন্ডিশনেও ম্যাচ জেতাব। সেই দিনও বেশি দূরে নয়।

default-image

বাংলাদেশ টেস্ট দলে তো পেসার হিসেবে টিকে থাকা কঠিন। আপনার কী মনে হয়?

ইবাদত: টেস্ট ম্যাচের আগে একটা প্রস্তুতি থাকে। সেটা আপনাদের মাধ্যমে সবাই দেখতে পায়। কিন্তু এর বাইরেও সিলেটের এই কোনায়, ওই কোনায় সারা বছর প্রস্তুতি চলতে থাকে। গ্রামে, পাহাড়ে, জঙ্গলে দৌড়ঝাঁপ চলেই। এসব তো কখনো কেউ দেখে না। টেস্ট দলের যারা আছে, তাদের সবার সুশৃঙ্খল জীবনযাপন। বিশেষ করে আমরা সিলেটের যারা আছি, তারা নিজেরাই নিজেদের জেদটা তৈরি করে নিই। না হলে এই পর্যায়ে আসা সম্ভব নয়।

default-image

আপনার বোলিং গড়, ইকোনমি রেট নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আপনাকে কখনো এসবের জবাব দিতে শোনা যায়নি। এবার কিছু বলবেন?

ইবাদত: যারা এসব নিয়ে কথা বলে, তারা কতটা ক্রিকেট বোঝে, সেটা দেখতে হবে। আমি আমার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি, সেই সমালোচক করছেন না। তাঁর দায় নেই। আমার আছে। তাই আমি আমার দায়বদ্ধতা থেকে নীরবে কাজ করে যাই। কারণ, আমি আমার দেশকে খারাপ কিছু দিতে চাইব না। আমি তাই দেশের জন্য নিজেকে তৈরি করতে কষ্ট করে যাব। তবে এরপরও ভালো খেলার নিশ্চয়তা থাকে না। যেদিন আমি বাংলাদেশের হয়ে খারাপ খেলি, সেদিন রাতে আমার ঘুম হয় না। আমার কারণে যদি দল হারে, তাহলে আমার কী অবস্থা হয়, সেটা আমিই জানি। প্রথম ইনিংসে আমি খুব বাজে বোলিং করেছি। আমাকে সবাই সমর্থন দিলেও আমি নিজেকে বোঝাতে পারছিলাম না। সে রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। ভাবছিলাম যদি ৩০ রান কম দিতাম, তাহলে তো ওদের ৩০০ রান হয় না! এটা বাইরের কেউ বুঝবে না।

default-image

ক্যারিয়ারের শুরুর তুলনায় গত তিন টেস্টে গতির সঙ্গে কিছুটা নিয়ন্ত্রণও এসেছে আপনার বোলিংয়ে। নিজেকে বদলানোর এই সংগ্রাম কতটা কঠিন?

ইবাদত: আমি মাত্র ১২টা ম্যাচ খেলেছি। আমি চাইব না অন্য কারও ক্যারিয়ারের শুরুটা আমার মতো হোক। বাংলাদেশে যে ফাস্ট বোলারই আসুক, সে যেন অভিষেকেই পাঁচ উইকেট পায়। না হলে টিকে থাকা মুশকিল। আমি আজ (গতকাল) কোচের সঙ্গে বলছিলাম। ২০১৯ সালে বিরাট কোহলির উইকেট বাদে প্রতিটা উইকেটের জন্য আমাকে কষ্ট করতে হয়েছে। কোচ এ ব্যাপারে বলছিলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট এত সহজ নয়।’ আসলেই তাই। বল করেছি আর উইকেট পেয়ে গিয়েছি, এমন কিন্তু হয় না। আমাদের সবার লক্ষ্য টেস্ট বোলার হিসেবে একটু একটু করে উন্নতি করে যাওয়া। শেষ ছয়টা টেস্ট যদি দেখেন, প্রতিটি ম্যাচে চেষ্টা করেছি ধারাবাহিক হতে। ২-১ ওভার ভালো করছি, কিন্তু পরের ওভারে এসে দেখা যাচ্ছে বাউন্ডারি হয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান সিরিজ থেকেই বিষয়টি বুঝতে পারলাম। অধিনায়ক আমাকে বলছিলেন যে তাঁর উইকেটের দরকার নেই, আমি যেন মেডেন ওভার দিই। কোচরাও একই কথা বলছিলেন। দুই দিক থেকে যদি ৫টি মেডেন ওভার হয়, সুযোগ সৃষ্টি হবেই। আমি এখন এটাই চেষ্টা করছি। কোয়ারেন্টিনে বসে বসে অ্যাশেজ দেখছিলাম। দেখলাম জিমি অ্যান্ডারসন সারা দিন বল করে উইকেট পেল মাত্র ১টি, কিন্তু রান দিল ওভারপ্রতি ১.৫ করে। দিন শেষে সেও কিন্তু একটা দায়িত্ব পালন করেছে। আমি এই জিনিসটাই চেষ্টা করেছি। রান কম দিলে এক-দুইটা উইকেট চলেই আসে।

এই টেস্টে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া স্পেলটা বলুন। এমন গতিতে রিভার্স সুইংয়ের স্পেল বাংলাদেশ পেসারদের হাত থেকে কমই দেখা যায়...

ইবাদত: ভালো বোলিংয়ের পেছনে অনেক কারণ আছে। আমি শুধু আমার বোলিংয়েই উইকেট পাইনি। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সাহায্য ছিল। সবাই বলটা খুব ভালো দেখাশোনা করেছে। বিশেষ করে শান্ত (নাজমুল), সৌরভ ভাই (মুমিনুল) ও মুশি ভাই (মুশফিক) বলটা খুব ভালো বানিয়ে দিয়েছেন। আর শুধু মাঠের খেলোয়াড়েরাই কিন্তু দল নয়। বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁরাও অনেক সাহায্য করেছেন। কোচদের সাহায্যটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মিরাজ যেমন উৎসাহ দিচ্ছিল, আমি এ পাশ থেকে মেডেন দেব, তুই ওই পাশ থেকে।

default-image

শুনেছি ম্যাচের পর নিউজিল্যান্ডের পেসার নিল ওয়েগনার আপনাকে ডেকে নিয়ে কিছু বলেছেন...

ইবাদত: ওয়াগনার বলছিল, ‘তুমি অনেক কষ্ট করে বল করেছ। তুমি আরও কিছু উইকেট পেতে পারতে।’ আরও একটা জিনিস বলেছিল, ‘তুমি যে লম্বা স্পেলে বল করেছ, সেটা অভাবনীয়। একটা ৯ ওভার, একটা ৭ ওভারের স্পেলে টানা ১৪০ কিমি গতিতে কীভাবে বল করে গেলে?’ ব্যাটিংয়ের সময় রস টেলরও আমার বোলিং নিয়ে কথা বলছিলেন। ওভারের ফাঁকে ফাঁকে আমি তাঁকে মেরে খেলতে বলছিলাম। তিনি হেসে বলছিলেন, ‘তুমি যেভাবে বল করছ, আমি কীভাবে মারব!’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন