আজ ওয়ানডের রেকর্ডটা বুঝে নিয়েছেন আলিম দার।
আজ ওয়ানডের রেকর্ডটা বুঝে নিয়েছেন আলিম দার। ছবি: এএফপি

রেকর্ডটা তাঁর আগে থেকেই ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ আম্পায়ারিং করার বিশ্ব রেকর্ড আলিম দারেরই ছিল। টেস্টেও রেকর্ডটা পাকিস্তানি আম্পায়ারের। গত বছরই দীর্ঘ সংস্করণের রেকর্ডটা বুঝে নিয়েছেন। করোনা সংক্রমণের কারণে ওয়ানডের রেকর্ডটা কোনোভাবে তাঁর নাগালে আসছিল না। আজ জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দায়িত্ব পালন করতে নেমে অবশেষে অর্জনটা বুঝে নিয়েছেন আলিম দার।

রেকর্ডটা তাঁর অপেক্ষাতেই ছিল। ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করার রেকর্ডটি ছিল রুডি কোয়ের্টজেনের। ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ২০৯টি ওয়ানডেতে আম্পায়ারিং করেছিলেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। কোয়ের্টজেনের রেকর্ডটা ১০ বছর টিকল। ২০১০ সালে অবসর নিয়ে ফেলা এই আম্পায়ারের ৮ বছর পর অভিষিক্ত আলিম দার আজ তাঁকে পেছনে ফেলে দিলেন।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তান-জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে কোয়ের্টজেনের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন আলিম দার। গত পরশু সিরিজের প্রথম ম্যাচেই কোয়ের্টজেনকে ছুঁয়েছিলেন খেলোয়াড় হিসেবে ১৭টি প্রথম শ্রেণির ও ১৮টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলা দার। আর আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একেবারে চূড়াতেই উঠে গেছেন ২০০০ সালে ওয়ানডেতে প্রথম আম্পায়ারিং করা দার। ৫২ বছর বয়সী আম্পায়ার গত বছর পেছনে ফেলেছিলেন আরেক কিংবদন্তি আম্পায়ারকে।

টেস্টে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করার রেকর্ড ছিল স্টিভ বাকনরের। ২০০৯ সালে অবসর নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানের রেকর্ডটি ছিল ১২৮ টেস্টের। ২০০৩ সালে টেস্টে প্রথম আম্পায়ারিং করা দার এখন পর্যন্ত ১৩২ টেস্টে মাঠে ছিলেন। টেস্টে বাকনরের পরেই আছেন কোয়ের্টজেন (১০৮ ম্যাচ)। সব সংস্করণ মিলিয়ে সবচেয়ে ম্যাচে দায়িত্ব পালন করার রেকর্ডটা তাই দারেরই (৩৮৮ ম্যাচ)। ক্রিকেটের দুই সংস্করণে রেকর্ডটা আলিম দার নিজের কাছে নিয়ে নিয়েছেন।

শুধু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ডটা হাতের নাগালে আসছে না কোনোভাবেই। ৪৬টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করা দারের চেয়ে এগিয়ে আছেন একজন। তিনিও অবশ্য পাকিস্তানি। ৪৯টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি দায়িত্ব পালন করে আপাতত শীর্ষে আছেন এহসান রাজা।

ওয়ানডেতে রেকর্ডটা যে হচ্ছে, সেটা আগেই জানা ছিল সবার। নিজের এ অর্জনের অনুভূতি জানিয়েছেন দার, ‘টেস্ট ও ওয়ানডে আম্পায়ারদের তালিকার চূড়ায় উঠতে পারা আমার জন্য খুবই সম্মানের ব্যাপার। যখন শুরু করেছিলাম...কখনো কল্পনা করতে পারিনি এত দূর আসতে পারব। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, মাঠে যতক্ষণ ছিলাম প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। যাত্রার পুরো সময়টা আমি শিখেছি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

আইসিসির এলিট আম্পায়ারদের প্যানেলে ১৬ বছর ছিলেন দার। নিজের এ সাফল্য ভরা ক্যারিয়ারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির অবদান স্বীকার করেছেন, ‘আমি আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য, এত দিন ধরে আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞ। এ সময়টায় যতজনকে সহকর্মী হিসেবে পেয়েছি তাদের সবাইকেও ধন্যবাদ।’

রাওয়ালপিন্ডিতে দারের রেকর্ড গড়া ম্যাচে সিরিজ জেতার পথে পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বিপর্যয়ে পড়া সফরকারীরা পুরো ইনিংসজুড়ে ধুঁকেছে। শন উইলিয়ামস একাই লড়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। ৭০ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৭৫ রান করেছেন। তবু ৪৬তম ওভারের প্রথম বলে অলআউট হয়েছে জিম্বাবুয়ে। পাকিস্তানকে ২০৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে দলটি।

মন্তব্য পড়ুন 0