বিজ্ঞাপন

কিংবদন্তিদের স্বীকৃতি দিতে আইসিসি ‘হল অব ফেম’ রেখেছে, সেখানে একজন ওয়াকার। ‘মিট দ্য আইসিসি হল অব ফেমার্স: ওয়াকার ইউনিস, আ মাস্টার অব রিভার্স সুইং’ শিরোনামের সেই ভিডিওর থাম্বনেইলে ওয়াকারের বর্ণনায় লেখা ছিল, ‘ওয়াকার ইউনিস, ইন্ডিয়া, ১৯৯০-২০০৮।’ একসঙ্গে জোড়া ভুল!

সেটি নিয়ে মজা করে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ডেনিসের শ্লেষাত্মক টুইট, ‘দারুণ কাজ করেছ, আইসিসি!’ তাঁর টুইটের নিচে সমর্থকেরাও হাসি-তামাশায় মেতেছেন এ নিয়ে। অনেকেই লিখছেন, আইসিসি আসলে এখনো ভারত-পাকিস্তান ভাগাভাগি হওয়ার (১৯৪৭ সাল) আগের সময়ে বাস করে!

সমালোচনার মুখে ভিডিওর থাম্বনেইল অবশ্য বদলে দিয়েছে আইসিসি। তবে বদলের পর যা হয়েছে, সেটি নিয়েও একেবারে সমালোচনা উঠবে না, এমন বলা যায় না। হল অব ফেমে জায়গা পাওয়া অন্য সব কিংবদন্তিদের ভিডিওর থাম্বনেইলে তাঁদের ছবি ও ছোট্ট পরিচিতি আছে। আর ওয়াকারের ভিডিওতে থাম্বনেইলে ঘুরছে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারার ছবি।

ভিডিওতে অন্য অনেকের মতো সাঙ্গাকারাও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ওয়াকার ইউনিসকে, আপাতত কিছু না পেয়ে সেই সাঙ্গাকারার কথা বলার মুহূর্তের একটা ছবি থাম্বনেইলে দিয়ে রেখেছে আইসিসির ভিডিও সম্পাদনার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভাগ।

ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানের ‘টু ডব্লু’খ্যাত সেই ভয়ংকর আক্রমণভাগের হয়ে দুনিয়া কাঁপিয়েছিলেন ওয়াকার ইউনিস। তাঁর ইয়র্কারের জাদু ভোলে, সে সাধ্য কার! তাঁর রিভার্স সুইংয়ের পুরোনো ভিডিও এখনো মন ভরায়।

পাকিস্তানের জার্সিতে ৮৭ টেস্টে ৩৭৩ উইকেট ও ২৬২ ওয়ানডেতে ৪১৬ উইকেট নেওয়া ওয়াকার অবসরের পর ক্রিকেটেই জড়িয়ে আছেন। মাঝে পাকিস্তান জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। এখন অবশ্য একটু পদাবনতি হয়েছে বটে তাঁর। এই মুহূর্তে তিনি পাকিস্তানের প্রধান কোচ নন, সেই দায়িত্ব সাবেক আরেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের অধিকারে। ওয়াকার এখন বোলিং কোচ।

৪৯ বছর বয়সী ওয়াকার ১৭টি টেস্ট ও ৬২টি ওয়ানডেতে পাকিস্তানের অধিনায়কত্বও করেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২২৮ ম্যাচে ৯৫৬ উইকেট তাঁর। টেস্টে ২২ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন, ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন পাঁচবার।

ওয়ানডেতেও কম কী! এখন পর্যন্ত টানা তিন ওয়ানডেতে পাঁচটি করে উইকেট নেওয়া একমাত্র বোলার ওয়াকার (৪, ৬ ও ৯ নভেম্বর, ১৯৯০)। ওয়ানডেতে দ্রুততম ৪০০ উইকেটও তাঁর।

পাকিস্তানের হয়ে ১৯৯৬ আইসিসি বিশ্বকাপে খেলা ওয়াকার ছিলেন পরের দুই বিশ্বকাপেও। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে পাকিস্তান, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলেছে ফাইনাল। ২০০৩ বিশ্বকাপে তো পাকিস্তান গিয়েছিল ওয়াকারের নেতৃত্বেই।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন