বিজ্ঞাপন

শেষ পর্যন্ত মুশফিকের ইনিংসটি ‘ম্যাচজয়ী’ হিসেবে প্রমাণিত। বাংলাদেশের ২৫৭ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা ২২৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে হেরেছে ৩৩ রানে। ওয়ানডে লিগে এ জয়ে ১০টি মূল্যবান পয়েন্টও পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। মুশফিক তাঁর এ ইনিংসের বিশ্লেষণটা করেছেন নিজেই, ‘আমি বিশালদেহী কেউ না। পোলার্ড বা রাসেলও নই। সহজে বাউন্ডারি মারতে পারি না। নিজের শক্তির জায়গায় থাকার চেষ্টা করি। কন্ডিশনও সুযোগ দেয়নি খুব বেশি বাউন্ডারি মারার। তাই সময় নিয়েছি, আস্তে আস্তে রান বাড়িয়েছি।’

default-image

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড কিংবা আন্দ্রে রাসেলের মতো বিশালদেহী কিংবা সহজে ছক্কা মারতে পারার ক্ষমতা না থাকলেও মুশফিকের রেকর্ড বলছে সবশেষ পাঁচ বছরে ওয়ানডের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ওয়ানডেতে চার নম্বরে যে ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিং করতে নামেন, তাঁদের মধ্যে মুশফিক ‘তৃতীয় সেরা’। তাঁর আগের দুটি জায়গা নিউজিল্যান্ডের রস টেলর ও ইংল্যান্ডের সীমিত ওভার দলের অধিনায়ক এউইন মরগান। টেলর আছেন শীর্ষে, মরগান মুশফিকের ঠিক আগে। মুশফিক এ সময় ৫১.২৯ গড়ে করেছেন ২ হাজার ৬১৬ রান, স্ট্রাইকরেট ৮৬.৬৭। টেলরের রান ৬০ গড়ে ৪ হাজার ১। মরগানের রান ৩ হাজার ১৬৪।

default-image

ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের চার নম্বর জায়গাটির দায়িত্ব একেক সময় একেক রকম। অননুমেয় এ দায়িত্ব পালন করতে হয় যাকে, তিনি কখনোই ঠাওর করতে পারেন না, তাঁকে কখন মাঠে নামতে হবে। অনেক সময় প্যাডট্যাড পরে ড্রেসিংরুমে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয়, কখনো–বা আবার টপ অর্ডার ভেঙে পড়লে অনেক আগেই নেমে যেতে হয়। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনই আসলে চার নম্বর ব্যাটসম্যানের আসল পরীক্ষা। তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ব্যাটিংয়ে সামলাতে হয় শুরুর ধাক্কা। চোখ রাখতে হয় স্কোরবোর্ডের দিকেও। দলের সংগ্রহটাকে চলনসই করার দায়িত্বটাও যে তখন তাঁর।

একটা সময় ছিল মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের স্পিনের বিপক্ষে দুর্দান্ত হতে হতো। এখন তো ফাস্ট বোলারদের মাঝের ওভারগুলোতেও ব্যবহার করার চল শুরু হয়েছে। মোট কথা, এখন চার নম্বর ব্যাটসম্যানদের স্পিন-ফাস্ট বোলিং দুইয়ের বিপক্ষেই পটু হতে হয়। সাদা বলের ক্রিকেটে লেগ স্পিনারদের ব্যবহারও বেড়েছে। মোট কথা ব্যাটিং অর্ডারের এ জায়গা অনেক গুরুদায়িত্বের।

এমন দায়িত্ব সামলাতে পোলার্ড-রাসেলরা নন, মুশফিকদেরই যে বেশি প্রয়োজন।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন