বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

২০১৯ বিশ্বকাপের পর গত রোববারই প্রথম দেখা হয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। সেই লড়াইয়ে একতরফা জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে শুরু হয়েছে তাদের বিশ্বকাপ। এখন আরেকটি ভারত–পাকিস্তান লড়াই দেখার অপেক্ষা শুরু হয়ে গেছে ক্রিকেট বিশ্বের। সেটা তো এই বিশ্বকাপেও হতে পারে। যদি সেটাই হয়, তাহলে কোন পর্বে আবার দেখা হবে ভারত–পাকিস্তানের? যেহেতু একই গ্রুপে পড়েছে, তাই দুই দলই যদি সুপার টুয়েলভ পার করে সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে নিজেদের মধ্যে দেখা হবে না। দুই দলের আবার দেখা হতে পারে কেবল ফাইনালেই।

বিশ্বকাপের ফাইনালে যদি মুখোমুখি হয় ভারত–পাকিস্তান, বিশ্বজোড়া ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সেটা হবে স্বপ্নের এক ফাইনাল! শুধু বিশ্বজোড়া ক্রিকেটপ্রেমীরাই কেন, এমন একটি ফাইনালের অপেক্ষায় আছেন এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত কোচ সাকলায়েন মুশতাকও। ভারত–পাকিস্তান যত বেশি ম্যাচে মুখোমুখি হবে, দুই দেশের মধ্যে তত বেশি করে ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করেন সাকলায়েন।

default-image

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগামীকালের ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে সাকলায়েন বলেছেন, ‘ভারত যদি ফাইনালে ওঠে, সেটি হবে দারুণ এক ব্যাপার। অন্তত আমার কাছে এটাই মনে হয়। এটা আমি তাদের সুপার টুয়েলভে হারিয়েছি বলে বলছি না। তারা শক্তিশালী এক দল। সবাই এবারের বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে তাদের ফেবারিট মনে করে। তাদের সঙ্গে আরেকটা ম্যাচ খেলতে পারলে আমাদের সম্পর্কটা আরও ভালো হবে বলেই আমি এটা চাইছি।’

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড় আর কোচ–কর্মকর্তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য দেখে ভালো লেগেছে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত কোচ সাকলায়েনের, ‘আগের ম্যাচে বিরাট কোহলি আর এম এস ধোনি এবং আমাদের খেলোয়াড়েরা যে সম্পর্ক দেখিয়েছে, এটা দুর্দান্ত একটি বার্তাই দিয়েছে সবাইকে যে আমরা সবাই মানুষ। আমরা সবাই একে অপরকে ভালোবাসি। আর মাঠে যে ক্রিকেট লড়াইটা হয়েছে, সেটা শুধুই একটা খেলা।’ সাকলায়েন এরপর যোগ করেন, ‘এমন একটি বার্তা দেওয়ার জন্য দুই দলের খেলোয়াড়দেরই অভিনন্দন। বন্ধুত্বেই সাফল্য, শত্রুতায় লুকিয়ে ব্যর্থতা।’

default-image

সাকলায়েন ভারতের ফাইনালে ওঠার কথাগুলো যেভাবে বলেছেন, শুনে মনে হবে যে পাকিস্তানের ফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন তারা ভারতের ফাইনালে ওঠার অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। পাকিস্তান শুধুমাত্র সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতেছে। এখনো লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে দলটিকে। কিন্তু সাকলায়েনকে ফাইনাল খেলার ভরসা জোগাচ্ছে তাঁর দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা, ‘দলের সবার মানসিকতাটা এ রকম যে তারা চ্যাম্পিয়ন হবে। তবে এখানে আমরা সবাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতেই এসেছি।’

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কী করতে হবে, সেই বার্তাও তিনি নিজের খেলোয়াড়দের দিয়ে রেখেছেন, ‘প্রতিপক্ষ কে, সেটা দেখার দরকার নেই। নিজেদের খেলার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। ইংল্যান্ড শিরোপা জয়ে ফেবারিট, অস্ট্রেলিয়া তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে, দক্ষিণ আফ্রিকাও তাই। আমি মনে করি, আত্মনিবেদন, মানসিকতা ও দৃঢ়তায় আর কী উপায়ে খেলবেন, সেটা আপনার হাতে। ফল অবশ্য কারও হাতে নয়। প্রতিপক্ষ কে, সেটা কোনো বিষয় নয়, আসল বিষয় হচ্ছে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারার সামর্থ্য।’

এরপর সাকলায়েন বলেছেন, ‘ভারত ফাইনালে উঠলে আইসিসি খুশি হবে। ক্রিকেটপ্রেমীরাও খুশি হবে।’ পাকিস্তানের কোচ, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা আর সমর্থকেরাও খুশি হবে! চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে তারা। আর সেই স্বপ্ন পূরণ যদি হয় ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে, তাহলে তো খুশির বন্যাই বইবে পাকিস্তানে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন