default-image

আইপিএলে কাল পাঞ্জাবের কাছে হারের পর চেন্নাইয়ের প্লে-অফে যাওয়া নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠে গেছে। তিন ম্যাচ খেলেছে চেন্নাই, তিনটিতেই হেরেছে। ১০ দলের আইপিএলে প্লে-অফে উঠতে ১৪ ম্যাচের মধ্যে ৮টি জিততে হবে বলে ধারণা করা হয়, তার মানে বাকি ১১ ম্যাচের ৮টিই জিততে হবে চেন্নাইকে।

টুর্নামেন্ট শুরু হতে না–হতেই নিজেদের দলকে এমন কঠিন সমীকরণে পড়তে দেখা চেন্নাই–সমর্থকদের খুব একটা ভালো লাগেনি নিশ্চয়ই। আর ব্যর্থতার ক্ষেত্রে কাউকে ‘দোষী’ খুঁজে বের করে রাগ উগরে দেওয়া তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এ যুগে ‘রীতি’। কাল পাঞ্জাবের কাছে ৫৪ রানের হারের পথে ধোনির ব্যাটিংয়ের পর ‘দোষী’ খুঁজে পেতে কষ্ট হয়নি চেন্নাই–সমর্থকদের।

শুধু রানের হিসাব বলবে, চেন্নাইয়ের অন্যরা যেখানে ব্যর্থ, ধোনি অন্তত সেখানে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। পাঞ্জাবের ১৮০ রানের জবাবে অষ্টম ওভারেই ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা চেন্নাইকে পথে ফেরানোর স্বপ্ন দেখায় ষষ্ঠ উইকেটে শিবম দুবের সঙ্গে ধোনির জুটি।

কিন্তু ৪৪ বলে ৬২ রানের জুটিতে ধোনির অবদান তেমন নেই বললেই চলে। ধোনি নামার সময়ে দুবের রান ছিল ৫ বলে ৮, জুটি ভেঙেছে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে দুবে ৩০ বলে ৫৭ রান করে ফেরায়। সে সময়ে ধোনির রান ২১ বলে ১১। অর্থাৎ জুটিতে ৪৯ রানই দুবের। জুটিতে চারটি চার ও তিনটি ছক্কার একটিও ধোনির নয়।

default-image

শেষ পর্যন্ত ধোনি নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন ২৮ বলে ২৩ রান করে। ইনিংসে চার একটি, ছক্কা একটি। অন্য সময়ের মতো ইনিংসটাকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে শেষ দিকে ঝড় তুলে কিছু করার পরিকল্পনা হয়তো ছিল, কিন্তু স্পিনে ধোনির দুর্বলতা চোখে পড়েছে। শেষ দিকে রান-বলের হিসাবও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। দুবে আউট হওয়ার পর ব্রাভো-প্রিটোরিয়াসরাও সঙ্গ দিতে পারেননি। কিন্তু সব ছাপিয়ে ধোনির ঠুকঠুক ব্যাটিং নিয়েই যত সমালোচনা।

অদিতি নামের এক ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকের টুইট, ‘সর্বকালের সেরা ফিনিশার ধোনি। নিজের দলকেই ফিনিশ করেছেন।’ এই মৌসুমে চেন্নাইয়ের দলে খেলোয়াড় হিসেবে ধোনির তেমন ভূমিকাই নেই বোঝাতে আনাভিত নায়েক নামের এক সমর্থকের টুইট, ‘ধোনি আসলে মাঠে আছেন শুধু তরুণ খেলোয়াড়দের বুদ্ধি-পরামর্শ দেওয়ার জন্য, আর নিজে ব্যাটিংয়ের সময় মূলত নেট প্র্যাকটিস করার জন্য।’

অথচ চেন্নাইয়ের ধসের এই দিনের আগের দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে দারুণ আগ্রাসী ছিলেন ধোনি। এবারের আইপিএল শুরুই করেছেন কলকাতার বিপক্ষে ৩৮ বলে ৫০ রানের দারুণ এক ইনিংস দিয়ে, দ্বিতীয় ম্যাচে লক্ষ্ণৌয়ের বিপক্ষে খেলেছে ৬ বলে ১৬ রানের ছোট্ট ক্যামিও।

কালও ব্যাটিংয়ের আগে উইকেট কিপিংয়ে ধোনির ক্ষিপ্রতা নজর কেড়েছে। পাঞ্জাবের শ্রীলঙ্কান আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ভানুকা রাজাপক্ষেকে যেভাবে দারুণ ক্ষিপ্রতায় আর উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োগে রানআউট করেছেন, সেটি পুরোনো দিনের ধোনির কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।

নজর কেড়েছে ধোনির সততাও। পাঞ্জাবের ইনিংসের অষ্টম ওভারে দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে লিয়াম লিভিংস্টোনের ক্যাচ ধরেছিলেন ধোনি। কিন্তু ক্যাচ ধরার সময়েই তাঁর মনে হয়েছে, বল মাটিতে লেগেছে। নিজেই স্কয়ার লেগের আম্পায়ারকে অনুরোধ করেন রিভিউ করে দেখতে। তাতে দেখা যায়, আসলেই বল মাটিতে লেগেছে। সে সময়ে ১৯ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত লিভিংস্টোন পরে ৩২ বলে ৬০ রান করে আউট হয়েছেন।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন