default-image

মুখে মাস্ক নেই। কোনো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারও তেমন বাধ্য বাধকতা নেই। নেই জনসমাগমে ঘুরে বেড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যেন করোনামুক্ত নিউজিল্যান্ডের স্বাদ নিচ্ছেন। এক বছর পর উপভোগ করছেন ‘মুক্ত’ জীবনযাপনের আনন্দও। ব্যাপারটি যেন বিশেষ কিছুই। ক্রিকেটাররা তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তির আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে।

তামিম ইকবাল তো স্বাভাবিক সময়ের মতো সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। নিউজিল্যান্ড থেকে পাঠানো এক ভিডিওতে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেল বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে। সেখানেই তামিম জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন-অভিজ্ঞতার কথা, ‘এটা আমাদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। আমরা জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকেছি, কিন্তু সঙ্গনিরোধ অবস্থায় থাকিনি। সত্যি বলতে কি, এখানে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা আমাদের দারুণ দেখভাল করেছেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট আমাদের যেভাবে দেখভাল করেছে, সে জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সময়টাকে আমাদের জন্য তারা যতটা সহজ করা যায়, করেছে।’

বিজ্ঞাপন

করোনাকালেই নিউজিল্যান্ড সফর করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। ক্রাইস্টচার্চের যে সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রে বাংলাদেশ ছিল, সেখানেই স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পাকিস্তান দল। বাংলাদেশকে নিয়ে সে ধরনের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে হওয়া চারটি কোভিড পরীক্ষার প্রতিটিতেই ‘নেগেটিভ’ হয়েছে গোটা দল। নিউজিল্যান্ড সরকার ও তাদের সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনাধীন কোয়ারেন্টিন শাখার প্রশংসাপত্রও পেয়েছে বাংলাদেশ দল।

তবে এভাবে যেকোনো বিদেশ সফরই যে কঠিন, সেটি লুকোননি তামিম। বিদেশ-বিভুঁইয়ে ১৪ দিনের কড়া কোয়ারেন্টিন। নির্জন-নিভৃতবাস যেকোনো মানুষের জন্যই কঠিন। সংবাদমাধ্যমকে সেটিই বলেছেন তামিম, ‘ব্যাপারটা খুবই কঠিন। বিরাট পার্থক্য তৈরি করে স্বাভাবিক সময়ের বিদেশ সফরের সঙ্গে। আমাদের এখানে ৪৫ দিন থাকতে হচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে হয়তো সফরটি ২০ থেকে ২৫ দিনেই শেষ হয়ে যেত। আমরা দেশে ফিরে যেতাম। কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমনই। আমাদের উচিত প্রতিটি দেশের নিজস্ব নিয়মকে সম্মান জানানো।’

default-image

কোয়ারেন্টিনমুক্ত হওয়ার অনুভূতিটাও জানিয়েছেন তামিম। এ যেন ওয়ানডে অধিনায়কের কাছে স্বাধীনতার আনন্দই, ‘এখন আমরা বাইরে বের হতে পারছি, এটা দারুণ ব্যাপার। মুক্ত বাতাসে আছি। খুব ভালো লাগছে।’

বাংলাদেশ দল আজ ক্রাইস্টচার্চের কোয়ারেন্টিন সেন্টার ছেড়ে যাবে কুইন্সটাউন। তার আগে সাময়িক বিশ্রামের জন্য ক্রাইস্টচার্চের নভোটেল হোটেলে উঠবে দল। সেখান থেকে সন্ধ্যায় কুইন্সটাউনের উড়োজাহাজ ধরার কথা। সেখানে পাঁচ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ। খেলবে প্রস্তুতি ম্যাচও। ১৬ মার্চ প্রথম ম্যাচের ভেন্যু ডানেডিনে যাবে দল। ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন