কাল ফিফটির পর বাবাকে স্মরণ করছেন মানদীপ।
কাল ফিফটির পর বাবাকে স্মরণ করছেন মানদীপ। ছবি: আইপিএল

আইপিএলে শুরুটা খুব বাজে হয়েছিল মানদীপ সিং। ৩ ম্যাচে মাত্র ৩৩ রান করে বাদ পড়েছিলেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব একাদশ থেকে। দুই সপ্তাহ পর যখন দলে ফিরলেন, তখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে শনিবার মাঠে নামার আগেই পেয়েছেন বাবার মৃত্যুর খবর। সে শোক চেপেই মাঠে নেমেছিলেন মানদীপ।

শনিবার অমন অবস্থায় ভালো করতে পারেননি মানদীপ। কঠিন পরিস্থিতিতে মাত্র ১৭ রান করে আউট হয়েছিলেন। কিন্তু এবার আর তাঁর ওপর আস্থা হারায়নি দল। গতকালও একাদশে ছিলেন এই ব্যাটসম্যান। ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস খেলে তবেই মাঠ ছেড়েছেন। জয় এনে দেওয়া ইনিংসের পর বাবাকে সেটা উৎসর্গ করেছেন মানদীপ। আর জানিয়েছেন, তাঁর বাবা চাইতেন ছেলে যেন প্রতিদিন অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ে।

বিজ্ঞাপন

কাল কলকাতা নাইটরাইডার্সের বিপক্ষে ১৫০ রানের লক্ষ্যে নেমেছিল পাঞ্জাব। শুরুটা ধীরেসুস্থে করেছে পাঞ্জাব। অধিনায়ক লোকেশ রাহুলকে সঙ্গী করে প্রথম আট ওভারে ৪৭ রান তুলেছেন মানদীপ। রাহুল আউট হওয়ার পর নেমেছিলেন ক্রিস গেইল। এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ২৯ বলের এক ঝড়ে ম্যাচটা সহজ করে দিয়েছেন। গেইলের দুই চার ও পাঁচ ছক্কার ৫১ রানের ইনিংসের পাশে মানদীপের ইনিংসটা অনুজ্জ্বল ঠেকছিল। কিন্তু মানদীপের কাজ ছিল আরও গুরুত্বপূর্ণ। দল যেন পথ না হারায় সেটা নিশ্চিত করেছেন কোনো ঝুঁকি না নিয়ে প্রান্ত বদল করার কাজটি নিয়মিত করে।

গেইল আউট হওয়ার পর দলকে জয় এনে দেওয়ার কাজটি করেছেন মানদীপই। ৫৬ বলে ৬৬ রান তোলার পথে আটটি চার মেরেছেন, সাবধানী ইনিংসে দুটি ছক্কাও ছিল। ৪৯ বলে যখন ফিফটি পেরোলেন, তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে বাবাকে স্মরণ করেছে। হাজার মেইল দূরে থাকে চণ্ডীগড়ে যাওয়া হচ্ছে না। ফলে শোকের সময়টায় পরিবারকে কাছে পাননি। পেশাদারি মনোভাব দেখিয়ে দলের সঙ্গে রয়ে গেছেন। এখন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই বাবার স্মৃতিকে সম্মান জানাচ্ছেন।

default-image

কাল ম্যাচ শেষে মানদীপ জানিয়েছেন, ‘গতকালের ইনিংস দেখলে কত খুশি হতেন তাঁর বাবা, বাবা সব সময় আমাকে বলতেন অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে। আমাকে সব সময় বলতেন, ১০০ কর বা ২০০ কর, আউট হওয়া ঠিক না তোমার।’ বাবাকে খুশি করার এক ইনিংসের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছেন মানদীপ। অবশেষে যে জায়গা নিয়ে কিছুদিন আর ভাবতে হবে না তাঁকে। আইপিএলে অবশেষে বড় স্কোর করতে পারার পেছনে অধিনায়ক রাহুলের অবদান দেখছেন মানদীপ।

অযথা আক্রমণাত্মক না হয়ে নিজস্ব ঢংয়ে খেলেছেন বলেই অবশেষে সাফল্য মিলেছে, ‘ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে আমি রাহুলের সঙ্গে কথা বলেছি। গত ম্যাচে আমি দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেছি এবং আমি ওতে স্বস্তি পাইনি। আমি রাহুলকে বলেছি যদি আমার স্বাভাবিক খেলা খেলি, তাহলেই ম্যাচ জেতাতে পারব এবং আমার সে বিশ্বাস ছিল। সে আমাকে বলেছে নিজের ওপর আস্থা রাখতে এবং যেভাবে চাই সেভাবেই খেলতে। জয় পেয়ে খুব খুশি আমি। গেইলও বলছিলেন ব্যাটিং চালিয়ে যেতে এবং শেষ পর্যন্ত খেলতে।’

বিজ্ঞাপন

মানদীপের এমন পারফরম্যান্স সাড়া ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শিখর ধাওয়ান ইনস্টাগ্রামে মানদীপের ব্যাটিংয়ের একটি মুহূর্ত পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ভালো খেলেছ, যোদ্ধা।’ আইপিএলও তাঁর বাবাকে শ্রদ্ধা জানানোর মুহূর্তটা শেয়ার করেছে ইনস্টাগ্রামে।

মন্তব্য পড়ুন 0