বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আপনি বলেছিলেন, এবার বাংলাদেশ খুব ভালো কিছু করবে, অথবা খুব খারাপ করবে। মাঝামাঝি কিছু হবে না। দ্বিতীয়টাই কি হলো শেষ পর্যন্ত?

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হারার পরই আমরা ব্যাকফুটে চলে গেছি। কারণ, ওই ম্যাচটা আমাদের হারার কথা ছিল না। খেলোয়াড়েরা ধরে নিয়েছিল প্রথম পর্বের তিনটা ম্যাচ ওরা জিতবে। প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খাওয়ায় দলের ওপর অনেক চাপ চলে আসে। তারপরও আমরা ভালোভাবে ফিরে আসতে পেরেছিলাম পরের দুটি ম্যাচ জিতে। আর জিতলে যে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, তার প্রমাণ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং। কিন্তু ওরা যখন আমাদের ১৭১ রানও তাড়া করে জিতে গেল, তখন খেলোয়াড়েরা ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে তাদের অনেক সমালোচনাও শুনতে হয়েছে। বিশ্বকাপে খারাপ করার এটাও একটা কারণ।

ওমানের বিপক্ষে জয়টাও তো একেবারে সহজে আসেনি। পাপুয়া নিউগিনিকে হারানোর আগপর্যন্ত বাংলাদেশের সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত ছিল না...

দেখুন, জয় তো জয়ই। কেন আমরা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারিনি, পরের ম্যাচগুলো সহজে জেতা যায়নি বা সুপার টুয়েলভে আমরা কেন ম্যাচ জিতলাম না; এসবের উত্তর ক্রিকেট বোর্ড, কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়েরা একসঙ্গে বসলে বেরিয়ে আসবে। দলের থিঙ্কট্যাংক হয়তো এসবের উত্তর জানে। বাইরে থেকে তো দলের ভেতর কী চলছে বোঝা কঠিন। বাইরে থেকে শুধু এটাই মনে হয়েছে, বিশ্বকাপের শুরুটা আমরা ভালোভাবে করতে পারিনি। এ জন্য শুরুতেই চাপে পড়ে যেতে হয়েছ এবং সেই চাপ দলটা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে।

default-image

বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও তো প্রশ্ন ছিল। ঘরের মাঠে মন্থরগতির স্পিন–সহায়ক উইকেটে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে সিরিজ হারিয়ে মেকি আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যায় দল। সেটাই কি কাল হলো?

ওই দুই সিরিজের আগে আমরা জিম্বাবুয়েতেও খেলেছি। সেখানকার উইকেট কিন্তু প্রস্তুতির জন্য ভালো ছিল। কিন্তু হোম সিরিজগুলোতে আমরা জানতাম উইকেটে টার্ন থাকবে। খেলার মতো উইকেট ছিল না। মিরপুরের উইকেট এমনিই মন্থর, সঙ্গে বল টার্ন করেছে। তবে এটা সত্যি, ওই দুটি সিরিজ জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল। আমরা টি–টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের ছয়ে এসেছিলাম। কিন্তু খেলাধুলায় কখনো কখনো এ রকম হয়ে যায়, শুরুটা ভালো হলে পরের দিকেও ভালো হতে থাকে। প্রথম পর্বে না হলেও সুপার টুয়েলভে আমরা সেই সুযোগ পেয়েছিলাম, শ্রীলঙ্কার মতো দুর্বল দলকে আমরা পেয়েছিলাম। সে ম্যাচে ব্যাটিংও ভালো করেছিলাম। কিন্তু বোলিংয়ে আমরা ১৭১ রানের আগে ওদের আটকাতে পারিনি। এরপরই চাপটা চলে এল। দলের এবং ব্যক্তিগতভাবে কোনো কোনো খেলোয়াড়কেও সমালোচনার তোপে পড়তে হয়েছে। এমনকি ক্রিকেট বোর্ড থেকেও তাদের সমালোচনা করা হয়েছে। খেলোয়াড়েরা সেটা থেকে আর বের হতে পারেনি।

ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনার কথা বললেন। বোর্ডের শীর্ষ পর্যায় থেকে টুর্নামেন্ট চলাকালীন এ রকম সমালোচনা কতটা গ্রহণযোগ্য? তাদের তো অভিভাবক হিসেবে অন্তত বিশ্বকাপের সময়টায় দলের পাশে থাকা উচিত ছিল...

বোর্ডের এসব সমালোচনা দলের ওপর চাপ তৈরি করেছে এবং খেলোয়াড়েরাও চাপ নিয়েছে। ক্রিকেটাররা কিন্তু দুঃসময়ে ক্রিকেট বোর্ডের দিকেই তাকিয়ে থাকে। ক্রিকেট বোর্ডের আরও বেশি ধৈর্যশীল হওয়া উচিত ছিল। কোনো খেলোয়াড় ভালো না খেললে টুর্নামেন্টের পর তো তাকে বাদ দেওয়ার সুযোগ আছেই! যতক্ষণ দলটা টুর্নামেন্টে আছে, ততক্ষণ কথা না বলাই উচিত। কারণ, ক্রিকেট বোর্ডই এই দলটাকে বিশ্বকাপে পাঠিয়েছে। কেউ খারাপ খেললেও তো তাকে আর বদলানোর সুযোগ নেই। কাজেই আপনাকে ধৈর্য ধরতেই হবে। আর যদি আপনার সেই ধৈর্য না থাকে, তাহলে আপনার আরও আগেই চিন্তা করা উচিত ছিল এটা আপনার সেরা দল কি না। কোচ, অধিনায়ক, নির্বাচক এবং বোর্ড যখন একমত হবে এটাই তাদের সেরা দল, তখন কিন্তু সেই দলের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার জন্য ধৈর্য ধরতে হয়।

default-image

এরপর দল থেকেও যেভাবে সমালোচনার জবাব দেওয়া হয়েছে, ক্রিকেট বোর্ড এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়েও খেলোয়াড়েরা কথা বলেছেন। খেলার মধ্যে তাঁদেরও কি এসব থেকে মনোযোগ সরিয়ে রাখা উচিত ছিল না?

আগেই বললাম, খেলোয়াড়েরা চাপ নিয়ে নিয়েছে। খেলোয়াড়েরা যদি ভালো না খেলে, ওদের কোনো কথাই কেউ ভালোভাবে নেবে না, এটাই নিয়ম। খেলোয়াড়দের একটাই করণীয়—পরের ম্যাচে ভালো খেলা। সব দলের খেলোয়াড়েরা তাই করে। ভারত খারাপ খেলায় বিরাট কোহলির সংবাদ সম্মেলনেও দেখবেন কঠিন কঠিন প্রশ্ন করা হচ্ছে। সে সেসবের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে, খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়াচ্ছে। তাতেও কি লাভ হচ্ছে? এক যদি হতো পাকিস্তানের কাছে হারার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত জিতেছে, তাহলে হয়তো সব সমালোচনা থেমে যেত। কাজেই খেলোয়াড়দের খুব বেশি কথা বলে লাভ নেই। সেটা বিরাট কোহলিই হোক বা আমাদের কেউ। তাদের ভালো খেলেই খারাপ সময় থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সে জন্য ক্রিকেট বোর্ড এবং দলের মধ্যে সমন্বয় থাকাটা খুব জরুরি।

বিশ্বকাপে তো বাংলাদেশ ও বিসিবির মধ্যে সেই সমন্বয়ের খুবই অভাব ছিল বলে মনে হয়...

সেটাই...। বাইরের কে কী বলল, সেদিকে নজর না দিয়ে বোর্ড এবং দলের একতাবদ্ধ থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের দিকেই তাকান। এত কিছুর পরও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কিন্তু চুপ। বোর্ডের শীর্ষ মহল থেকে শুরু করে কেউ দলের বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে বাইরে কিছু বলছে না। সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সমর্থকেরা অনেক কিছু বললেও ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোনো কথা বাইরে আসছে না। কারণ, তারা জানে তাদের পরবর্তী করণীয় কী।

বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে এর আগেও সমালোচনা হয়েছে এবং খেলোয়াড়েরা মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই তার জবাব দিয়েছেন। এবার এমন কী হলো যে টুর্নামেন্টের মধ্যে তাঁরা এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়েও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখালেন?

আমার মনে হয় পরপর দুটো বড় সিরিজ জেতার পর ওদের নিজেদের ওপরও নিজেদের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। যখন সে প্রত্যাশা মিটছিল না, ওরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এ রকম হয় অনেক সময়। এটাকে ব্যক্তিগতভাবে না নেওয়াই ভালো। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড পূর্ণ শক্তির দল না পাঠালেও নাম দুটো তো অনেক বড় ছিল। ওদের বিপক্ষে জেতার পর দলের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়ে গিয়েছিল, একই সঙ্গে নিজেদের কাছে ওদের প্রত্যাশাও বেড়ে যায়। সে কারণেই হয়তো ভালো খেলতে না পেরে ওরা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে অনেক কিছু বলে ফেলেছে। আর জাতি হিসেবেই তো আমরা আবেগপ্রবণ। ক্রিকেটাররা যেসব কথা বলেছে, খেয়াল করলে দেখবেন সেগুলোও আবেগের কথা। সে জন্য সবার প্রতি অনুরোধ, এগুলো কেউ ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। একটা বিশ্বকাপ খারাপ গেছে মানে এই নয় যে এখানেই বাংলাদেশের ক্রিকেট শেষ। ২০১৯ বিশ্বকাপও আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ গেছে। তারপরও তো আমরা খেলেছি, জিতেছি। এবারও খারাপ হয়েছে, সামনে হয়তো আবার ভালো হবে। নিজেদের মধ্যে কাদা–ছোড়াছুড়ি না করে ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেটারদের উচিত ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো করা যাবে, সেটা খুঁজে বের করা। আর এখনো বিশ্বকাপে আমাদের একটা ম্যাচ বাকি। তাতেও ভালো কিছুই আশা করতে হবে। এরপর দেশে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ। সেখান থেকে নতুন করে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিশ্বকাপের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে থেকে লাভ নেই। যেটা চলে যাওয়ার, সেটা চলে গেছে। সামনে প্রচুর খেলা আছে। টেস্ট, ওয়ানডে, এক বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় আবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপও আছে। অস্ট্রেলিয়ায় চ্যালেঞ্জ কিন্তু এবারের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি হবে।

ব্যাটিং অর্ডারে নাড়াচাড়া নিয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লিখেছি। কিছু না কিছু ভুল তো ওরা করেছেই। না হলে তো ফলাফল আমাদের পক্ষেও আসত। তবে আবারও বলি, মাঠের বাইরের সিদ্ধান্তগুলো একা অধিনায়ক নেয় না।
মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাবেক অধিনায়ক

শুধু কি সমালোচনা আর চাপের কারণেই দলের এই অবস্থা? মাঠের খেলায় কি ক্রিকেটাররা ঠিক সময়ে ঠিক কাজটা করেছেন? দলের সিদ্ধান্তগুলো কি আপনার কাছে সব সময় ঠিক মনে হয়েছে?

এটাতে কোনো সন্দেহ নেই যে মাঠে আমরা আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি বলেই হেরেছি। সিদ্ধান্তের কথা যেটা বললেন, সেটা তো অধিনায়ক একা নেয় না। সিদ্ধান্ত নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। উইকেট বোঝা, দলের সমন্বয় ঠিক করা, ব্যাটিং অর্ডার ঠিক করা, এগুলো টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে তো সব দলে কোচই পরিকল্পনা করেন। কাজেই ব্যর্থ হলে ধরে নিতে হবে পুরো টিম ম্যানেজমেন্টই ব্যর্থ। ব্যাটিং অর্ডারে নাড়াচাড়া নিয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লিখেছি। কিছু না কিছু ভুল তো ওরা করেছেই। না হলে তো ফলাফল আমাদের পক্ষেও আসত। তবে আবারও বলি, মাঠের বাইরের সিদ্ধান্তগুলো একা অধিনায়ক নেয় না। এসব সিদ্ধান্তে টিম ম্যানেজমেন্টের ভূমিকাই বেশি থাকে। ১৫–২০ বছর ক্রিকেট খেলে আমি এটাই দেখে এসেছি যে প্রতিপক্ষ দেখে থিঙ্কট্যাংকই ম্যাচের পরিকল্পনা সাজায় এবং কোচই সেখানে মূল ভূমিকা রাখেন। পরিকল্পনায় গলদ যদি কিছু থেকে থাকে, ক্রিকেট বোর্ডের উচিত হবে কোচের সঙ্গে কথা বলা।

সম্প্রতি কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে চুক্তি দুই বছর বাড়িয়েছে বিসিবি এবং চুক্তির একটা শর্ত—মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে চুক্তি বাতিল করলে তাঁকে পরবর্তী ছয় মাসের টাকা দিয়ে দিতে হবে। কিন্তু বিশ্বকাপের এমন পারফরম্যান্সের পরও কি ডমিঙ্গোর ওপরই নির্ভর করা উচিত? ব্যর্থতায় কোচের দায় কতটা দেখেন?

কোচের দায় তো অবশ্যই আছে। বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছিল বলে আমার মনে হয় না। আমার প্রশ্ন, যিনিই কোচ হয়ে আসেন, তিনিই কেন আমাদের নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষায় নেমে যান? আর ক্রিকেট বোর্ডই বা কেন তা মেনে নিচ্ছে? এই জায়গায় কোচের লাগাম টেনে ধরা দরকার। একজন কোচকে অবশ্যই কাজের স্বাধীনতা দিতে হবে, কিন্তু সেটা তাঁকে জবাবদিহির মধ্যে রেখে। যখন জবাবদিহি থাকে না, পরের ছয় মাসের বেতন যখন আগেই নিশ্চিত হয়ে যায়, তখনই কোচরা কোনো কিছু পরোয়া না করে নিজেদের মতো ভাবতে শুরু করেন। কাউকে সে তখন থোড়াই কেয়ার করবে। কাজেই কোচকে নিয়ে ভাবারও সময় হয়েছে।

default-image

বিশ্বকাপে সিনিয়র ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?

সব সময় নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স দিয়ে আপনি জিতবেন, এটা আশা করা ঠিক নয়। যাদের আমরা তরুণ খেলোয়াড় বলি, জাতীয় দলে তারাও প্রায় ৫–৬ বছর করে খেলে ফেলেছে। এত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলার পর আপনি আর কত দিন বলবেন তারা সিনিয়র খেলোয়াড় নয়? ৫–৬ বছর এই পর্যায়ে খেলে ফেলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবকিছু তাদের মুখস্থ থাকার কথা। আমি আগেও আপনাকে একবার বলেছিলাম, দুই–তিনজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে আমরা সব সময় জিততে পারব না। জিততে হলে দলীয় পারফরম্যান্স লাগবে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেটাই আমরা পাইনি। শুধু সিনিয়রদের দিয়ে এত বড় টুর্নামেন্ট পার হওয়ার সুযোগ একেবারেই নেই।

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশের কি পরিকল্পনা নিয়ে এগোনো উচিত?

একটা তো বললামই, কোচিং স্টাফ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। আরেকটা হলো টুর্নামেন্ট খেলা। আইপিএলের মতো টুর্নামেন্ট আয়োজন করেও ভারত ভালো করতে পারছে না। এত বড় টুর্নামেন্ট, এত বড় বড় খেলোয়াড়েরা খেলে, তারপরও বিশ্বকাপে ভারতের অবস্থা দেখুন! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উচ্চতাটাই আসলে ভিন্ন। যখন সামনে একটা দেশ চলে আসে, পুরো জাতি তাকিয়ে থাকে—তখন এমনিতেই একটা চাপ তৈরি হয়। এটা পুরোই ভিন্ন এক জগৎ। কাজেই ওই পর্যায়ের প্রচুর ম্যাচ, প্রচুর টুর্নামেন্ট খেলতে হবে। তাহলেই হয়তো কিছু ভালো খেলোয়াড় পাওয়া যেতে পারে। একভাবে চলে যখন কিছু হচ্ছে না তখন ভিন্ন কিছু ভাবা, নতুন কিছু শুরু করা—এগুলো তো করতেই হবে। অন্য দেশগুলো এই সংস্করণে কীভাবে ভালো করছে, আমাদের দুর্বলতা কোথায়, এসব খুঁজে বের করতে হবে। গড়পড়তা চিন্তার আর সুযোগ নেই।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন