বিজ্ঞাপন
default-image

৪ মে আইপিএল স্থগিত করে দেওয়া হয়। এরপরই সব ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে থাকা বিদেশিদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেয়। শুধু অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়েরা সরকারের বিধিনিষেধের কারণে সরাসরি দেশে ফিরতে পারেননি। বাকি খেলোয়াড়দের ভাড়া করা বিমানে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যবস্থায় একই দেশের খেলোয়াড়দের একই বিমানে করে পাঠানো হয়েছিল। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে যেমন কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রাজস্থান রয়্যালস এক জোট হয়েছিল।

নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রেও তা–ই হয়েছিল। বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলা সব কিউই ক্রিকেটারকে একসঙ্গে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সে বিমানে জায়গা হয়নি সেইফার্টের। ৭ মে করোনা ধরা পড়ে সেইফার্টের। এর মধ্যেই দিল্লি থেকে আহমেদাবাদ চলে গিয়েছিলেন সেইফার্ট। নিউজিল্যান্ডে যেতে বিমানে চড়ার জন্য তাঁর এ যাত্রা বৃথা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, বিমানে ওঠার আগেই আরটি-পিসিআর টেস্টে পজিটিভ ফল আসে তাঁর। ফলে ভারতেই থেকে যেতে হয় তাঁকে।

default-image

নিউজিল্যান্ডের স্টাফ পত্রিকার সঙ্গে ভিডিও কলে সে সময়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেছেন সেইফার্ট, ‘আমার হালকা কাশি ছিল, আমি ভেবেছিলাম, অ্যাজমার হালকা সমস্যা। সত্যি বলছি, বুক ভেঙে গিয়েছিল। সবকিছু যখন ঠিকঠাক করা হচ্ছিল, তখন আমি আমার রুমে চলে গেলাম। পৃথিবী যেন থমকে গিয়েছিল। আমি ভাবতে পারছিলাম না, কী হবে। এটাই সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার। বাজে সব কথা শুনছিলাম এবং ভেবেছি, আমার সঙ্গেও সেটা হবে।’

ভারতে ওই সময়ে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার চলছিল। হাসপাতালে চলছিল চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট। মৃত্যুর মিছিলে নিজেও যোগ দেবেন বলে ভয় পাচ্ছিলেন সেইফার্ট। চেন্নাইয়ের এক প্রাইভেট হাসপাতালে মাইক হাসির সঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সে সময়ের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছেন এই উইকেটকিপার, ‘খবরে সব সময় অক্সিজেনের অভাবের কথা বলা হচ্ছিল। আপনি জানেন না, আপনিও সে সংকটের মুখে পড়বেন কি না। কোভিড কী, কীভাবে এর প্রতিরোধ করবেন, কোনো কিছুই জানা ছিল না।’

default-image

ভাগ্য ভালো, করোনা খুব বেশি ভোগাতে পারেনি সেইফার্টকে। খুব দ্রুতই নেগেটিভ হয়ে ১৮ মে দেশে ফিরেছেন। দুই মাস পর বিয়ে করতে যাওয়া সেইফার্টকে এ সময় ভরসা দিয়েছেন কলকাতা ও চেন্নাইয়ের দুই কিউই কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও স্টিফেন ফ্লেমিং, ‘তাঁরা সবকিছু সহজ করে দিয়েছেন। তাঁরা নিশ্চিত করেছেন সবকিছু ঠিকঠাক হচ্ছে। চেন্নাইয়ের ম্যানেজমেন্ট ও কলকাতার প্রধান নির্বাহী “সবকিছু ঠিক আছে” জানিয়ে আমার জীবনটা সহজ করেছেন। বলেছেন, সময় হলে আমার নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করবেন। এটা খুব কঠিন ছিল, কিন্তু কদিন চলে যাওয়ার পর আমি একটু শান্ত হয়েছি। আমি জানতাম, কোনোভাবে সময়টা কাটিয়ে দেওয়াটা এবং ইতিবাচক ভাবনাই এ থেকে উদ্ধারের উপায়।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন