বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিরিজের ৫ ম্যাচে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩ নম্বরে খেলতে এলেন এ ম্যাচেই প্রথমবার নামা সৌম্য। ফেরাটা সুখকর হয়নি তাঁর। কোল ম্যাকনকিকে কাট করতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলে ক্যাচ তুলেছেন, পয়েন্টের সামনে ডাইভ দিয়ে সেটা দারুণভাবে নিয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র। পরের ওভারে বেন সিয়ার্সের গতির কাছে হার মেনে কট বিহাইন্ড হয়েছেন ২৩ বলে ২১ রান করা নাঈম। হতাশার সিরিজের শেষটাও এরপর হতাশা দিয়েই শেষ হয়েছে মুশফিকের, ৮ বলে ৩ রান করে রবীন্দ্রকে তুলে মারতে গিয়ে লং-অফে ধরা পড়েছেন তিনি। সিরিজে ৫ ইনিংসে মুশফিক দুই শূন্যসহ করলেন মাত্র ৩৯ রান। খেলেছেন ৭৫ বল। টি-টোয়েন্টিতে এতটা বাজে স্ট্রাইকরেট নিয়ে একাধিক ম্যাচের সিরিজ শেষ করেননি মুশফিক।

default-image

নবম ওভারে ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে এরপর উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ। শেষ ৯ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১০৮ রান, এরপরের ৪ ওভারে উঠল ৫০ রান। সিয়ার্স, রবীন্দ্র, ম্যাকনকি, প্যাটেল—সবার ওপরই চড়াও হয়েছিলেন আফিফ ও মাহমুদউল্লাহ।

তবে ১৬তম ওভারের শেষ বলে স্কট কুগালাইনের বলে কাভারে মাহমুদউল্লাহ ক্যাচ তোলার পরই মূলত লড়াই থেকে অনেকটা ছিটকে গেছে বাংলাদেশ।

এরপর নুরুল হাসান বা শামীম হোসেনও তেমন কিছু করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন আফিফ, ২টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ৩টি ছয়। অন্যদিকে ৬ কিউই বোলারের সবাই পেয়েছেন উইকেটের দেখা।

চতুর্থ ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করার পর আজ সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশের সঙ্গে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটেও আসে বড় পরিবর্তন। সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে ছাড়াই নেমেছিল বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ হয়ে যায় কার্যত তিন বোলারকেন্দ্রিক।

default-image

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজের টানা ৯ ম্যাচ পর আজ পেস দিয়ে বোলিং শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ। নতুন বল হাতে পেয়ে তাসকিনও গতির ঝড় তোলেন। দুই ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ৭ রান দেন তিনি। এর মধ্যে স্পিডোমিটারে একবার ঘণ্টায় ৯০ মাইলও পেরোতে দেখা গেছে।

তবে একটু ব্যাটিং সহায়ক উইকেট বাংলাদেশের বাকি দুই বিশেষজ্ঞ বোলার খুব একটা পছন্দ করছিলেন না। শরীফুল ও নাসুম দুজনই ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ছিলেন খরুচে। কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেন আজ হাত খুলে খেলার স্বাধীনতা পেয়েই যেন তেতে ওঠেন। পাওয়ার প্লের প্রথম ৫.৩ ওভারেই নিউজিল্যান্ড তোলে ৫৮ রান।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে সাইফউদ্দিনের শর্ট বলে ক্যাচ তুলে আউট হন রবীন্দ্র। পরের বলে রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লুর হাত থেকে বাঁচলেও অবশ্য শেষ বলে গিয়ে ঠিকই বোল্ড হন অ্যালেন। সে জুটি অবশ্য ৫৬ রানই বাড়তি পেয়েছে। নাসুমের প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়েছিলেন রবীন্দ্র, তবে শামীম মিড উইকেট বাউন্ডারিতে ছেড়েছিলেন সহজ ক্যাচ।

default-image

অ্যালেন-রবীন্দ্রর উইকেটের পর মাঝের ওভারে অবশ্য নিউজিল্যান্ডের রানের গতি কমাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ দল। অনিয়মিত বোলাররাও এই সময়টা ভালো বোলিং করেন। মাহমুদউল্লাহ নিজের পর আনেন আফিফ, সৌম্য, শামীমকেও। উইল ইয়াংকে কট-বিহাইন্ড করে সফলও হন আফিফ। এরপর বোলিংয়ে ফিরে সিরিজে টানা চতুর্থবারের মতো কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে ফেরান নাসুম, ৮৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড।

এরপর সমানসংখ্যক বলে ৩৫ রানের জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে আরেক দফা ভালো স্কোরের ভিত এনে দেন অধিনায়ক ল্যাথাম ও হেনরি নিকোলস। ১৭তম ওভারে তাসকিনের ওয়াইড ইয়র্কারে নিকোলস নুরুল হাসানের দারুণ ক্যাচে পরিণত হলে ভাঙে সে জুটি। অবশ্য শেষ দিকে গিয়ারটা ভালোভাবে বদলেছেন ল্যাথাম। তাসকিনের করা ১৯তম ওভারে দুটি ছয় ও একটি চার মেরে ১৮ রান তোলেন তিনি। শেষ ওভারে পূর্ণ করেন সিরিজে তাঁর দ্বিতীয় ফিফটিও। শেষ পর্যন্ত তাঁর ৩৭ বলে ৫০ রানের ইনিংসেই নিউজিল্যান্ড গড়ে সিরিজে সর্বোচ্চ স্কোর।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন