বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কিংসমিডে কাল টেস্টের চতুর্থ দিনে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনাই দেখুন। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসের ২৬তম ওভারে খালেদ আহমেদের বলে কিগান পিটারসেনের বিরুদ্ধে এলবিডব্লুর জোরালো আবেদন তোলে বাংলাদেশ। এরাসমাস যথারীতি হাসিমুখে সেটি নাকচ করে দেন। তার চেয়েও বিস্ময়কর, বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলাতে রিভিউ নেওয়ার প্রয়োজনই মনে করেননি! এমনকি খেলোয়াড়দেরও কেউ এগিয়ে এসে অধিনায়ককে বলেননি রিভিউ নিতে।

বোলার খালেদের শরীরী ভাষায় অবশ্য মনে হচ্ছিল, তিনি মোটামুটি নিশ্চিত ওটা আউট। কিন্তু অধিনায়কের সে রকম মনে না হওয়ায় বেঁচে যান পিটারসেন। পরে হক আইতে দেখা গেছে, বল নিশ্চিতভাবেই আঘাত করত স্টাম্পে। মাঠের বড় পর্দায় সেটি দেখে এরাসমাস শুধু স্মিত হেসেছেন।

প্রযুক্তির সুবাদে কাল আম্পায়ারের ভুল ধরা পড়েছে আরও। এর মধ্যে একবার রিভিউ নিয়ে বাংলাদেশ সফলও হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ১৯তম ওভারে সারেল এরউয়ির বিরুদ্ধে ইবাদত হোসেনের এলবিডব্লুর আবেদনে এরাসমাস প্রথমে সাড়া দেননি। পরে রিভিউ নিয়ে দেখা গেছে, বল ব্যাটে স্পর্শ না করে সরাসরি আঘাত করেছে এরউয়ির প্যাডে, নইলে ভেঙে দিত স্টাম্পই। এবার আর সিদ্ধান্ত না বদলে পারেননি আম্পায়াররা।

default-image

তবে ‘আম্পায়ারস কল’ নামের ঢাল একবার বাঁচিয়েও দিয়েছে এরাসমাসকে। কাল দিনের দ্বিতীয় ওভারেই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ডিন এলগারের বিরুদ্ধে এলবিডব্লুর কড়া আবেদন তুলেছিল বাংলাদেশ। এরাসমাস আউট না দেওয়ায় রিভিউ চান মুমিনুল। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেছে, প্রায় অফ স্টাম্প বরাবর পিচ করে বাঁক খাওয়া বলটা এলগারের প্যাডে না লাগলে ছুঁয়ে যেত লেগ স্টাম্প। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ‘আম্পায়ারস কল’ই যেহেতু শিরোধার্য, বাংলাদেশকে এরাসমাসের ভুল সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হয়েছে।

প্রথম ইনিংসে তো ঘটেছে আরও মারাত্মক ঘটনা। ইবাদত যে জন্য মাঠে মেজাজও হারিয়েছিলেন। তাঁর বলে লিজাড উইলিয়ামসকে এলবিডব্লু দিয়েও পরে সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এরাসমাস। উইলিয়ামস রিভিউ নিলেও বল ট্র্যাকিং দেখে থার্ড আম্পায়ার তাঁকে আউটই ঘোষণা করেন। কিন্তু এর পরপরই ধরা পড়েছে মহা এক ভুল। বল ট্র্যাকিংয়ের কম্পিউটারে তথ্য দেওয়া ছিল উইলিয়ামস ডানহাতি ব্যাটসম্যান। বাস্তবে ডান হাতে বল করলেও ব্যাটিংটা তিনি করেন বাঁ হাতে। ওই ভুলের কারণেই উইলিয়ামসের লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলটাকে দেখানো হয়েছিল অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করেছে।

default-image

সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ডিন এলগারের এলবিডব্লুর আউট পর্যন্ত ডারবানে রিভিউয়ের পর সাতটি সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে অন-ফিল্ডের দুই আম্পায়ারকে। ব্যর্থ হয়েছে দুই দলের নেওয়া ১০টি রিভিউ, এর মধ্যে চারটিতে ছিল আম্পায়ারস কল।

অতীতের কিছু অভিজ্ঞতার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় এলেই ‘ষড়যন্ত্রে’র গন্ধ পায় বাংলাদেশ দল। এবার টেস্টের আগে কিংসমিডের মাঝ উইকেটে অনুশীলনের সুযোগও সেই সন্দেহ দূর করতে পারছে না। ডারবান টেস্টের ‘ভুলে’র ধারাবাহিকতা বরং সেটিকে এমনই জোরালোই করছে যে পারিবারিক সমস্যায় দল ছেড়ে যাওয়া সাকিব আল হাসানও ‘ডাল মে কুছ কালা’ দেখতে পাচ্ছেন। নইলে কি আর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটেই পরিবর্তনের ডাক দেন তিনি!

ডারবানে আম্পায়ারদের একের পর এক ‘ভুল’ দেখে কাল সাকিবের টুইট, ‘ক্রিকেট খেলুড়ে বেশির ভাগ দেশেই যেহেতু এখন কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক, আমার মনে হয়, আইসিসির উচিত আবার নিরপেক্ষ আম্পায়ারে ফিরে যাওয়া।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন