ব্রেন্ডন টেলর ও তাকুজোয়ানশি কাইতানোর জুটি প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টায় ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ। ইবাদত হোসেন মেডেন দিয়ে দিন শুরু করলেও টেলরের তোপে পড়েছিলেন। টেলর ক্রিজে থাকার সময় বেশ আক্রমণাত্মকই ছিল স্বাগতিকেরা। দিনের ষষ্ঠ ওভারে বোলিং করতে আসা সাকিবকে টেলর স্বাগত জানিয়েছিলেন ছয় মেরে, জিম্বাবুয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের ফিফটিও এসেছে সে শটে। মাত্র ৫৮ বলেই বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ও ক্যারিয়ারে ১১তম ফিফটি হয়ে গেছে তাঁর।

ক্যারিয়ারে এর আগে ছয় সেঞ্চুরির পাঁচটিই টেলর করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে, ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দিকেও এগোচ্ছিলেন। তবে মিরাজকে আড়াআড়ি খেলে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। ৯২ বলে ৮১ রান করে স্কয়ার লেগে বদলি ফিল্ডার ইয়াসির আলীর হাতে ধরা পড়েছেন তিনি, ভেঙেছে কাইতানোর সঙ্গে তাঁর ১১৫ রানের জুটি।

টেলর ফিরলেও জিম্বাবুয়েকে এরপর টেনেছেন কাইতানো ও মায়ার্স। অভিষেকে ফিফটি করামাত্র ষষ্ঠ জিম্বাবুইয়ান ওপেনার হয়ে গেছেন কাইতানো। এরপর অভিষেকে ওপেনার হিসেবে সর্বোচ্চ স্কোর গড়েছেন তিনি, টপকে গেছেন জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে প্রথম টেস্টে গ্রান্ট ফ্লাওয়ারের ৮২ রানের ইনিংস।

তবে এর আগেই চাপে পড়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। ৪৫ বলের মধ্যে ৪ রান তুলতেই হারিয়েছে ৩ উইকেট। দ্বিতীয় নতুন বলে আশাজাগানিয়া বোলিং করেছিলেন তাসকিন আহমেদ, মুভমেন্ট তেমন না মিললেও তাঁর লাইন-লেংথ ছিল দারুণ। আর সাকিবের ওপর চড়াও হওয়ার মাশুল গুনেছে জিম্বাবুয়ে।

দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার আগেই সাকিবকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে মেহেদী হাসান মিরাজকে ক্যাচ দিয়েছেন ডিওন মায়ার্স, কাইতানোর সঙ্গে তাঁর ৪৯ রানের জুটি ভেঙেছে তাতে। তবে পরের উইকেটটিও নিয়েছেন সাকিব, এবার টিমাইসেন মারুমা সুইপ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন, ফিরেছেন এলবিডব্লু হয়ে। ১৭ বল খেলেও শূন্য পেরোতে পারেননি মারুমা। সাকিবের প্রথম তিন উইকেটই এসেছে ব্যাটসম্যানের ব্যর্থ সুইপের চেষ্টায়। পরের ওভারে তাসকিন আঘাত করেছেন, টানা ভালো বোলিংয়ের পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তাঁর গুড লেংথের বলে দোটানায় ভুগে খোঁচা দিয়েছেন রয় কাইয়া, তিনিও ফিরেছেন কোনো রান না করেই।

রেজিস চাকাভা ও কাইতানো সাকিবদের তোপ একটু সামলে নিয়েছিলেন সে সময়। এবার হাজির হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের লেগসাইডের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হয়েছেন কাইতানো, থেমেছেন মাত্র তৃতীয় জিম্বাবুইয়ান হিসেবে অভিষেকেই সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরেই। অবশ্য তাঁর ইনিংস জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানদের অভিষেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এরপর তিরিপানোকেও বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মিরাজ। তাঁর নিচু হওয়া বলে এলবিডব্লু হয়েছেন তিরিপানো। আর মুজারাবানি লাইন মিস করে হয়েছেন বোল্ড।

মুজারাবানির উইকেট দিয়েই পাঁচ উইকেট পূর্ণ হয়েছে মিরাজের। ক্যারিয়ারে এ নিয়ে অষ্টমবার পাঁচ উইকেট পেলেন এই অফস্পিনার, দেশের বাইরে পেলেন দ্বিতীয়বারের মতো। তাঁর মাইলফলকের পর সাকিব এসে নিয়েছেন চতুর্থ উইকেট—রিচার্ড এনগারাভা ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে।