default-image

মাঠে দাঁড়িয়ে থেকেই দেখেছেন কাইল মেয়ার্স-এনক্রুমা বোনাররা কীভাবে তিলে তিলে জয়ের সৌধ নির্মাণ করেছেন। ৩৯৫ রানের অসম্ভব লক্ষ্য অর্জন করে জিতে নিয়েছেন চট্টগ্রাম টেস্ট। তবু শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও মুমিনুল হকের বিশ্বাস হচ্ছিল না এ রকম কিছু হতে পারে। টেস্টটা জিতে যেতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজও।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কাল ৩ উইকেটের হারের পর মুমিনুল বলেছেন, ‘আসলেই অবিশ্বাস্য। কিন্তু এটাই গোল বলের খেলা। ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য অনেক কিছুই হয়ে যায়। প্রত্যাশায় ছিল না এমন কিছু হবে।’

কাল প্রথম দুই সেশনেও যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো উইকেট ফেলা গেল না, তখনো মুমিনুল ভেবেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতবে না, ‘কোনো সময়ই আমার মনে হয়নি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতবে)। চার দিন আমরাই দাপট দেখিয়েছি। আজ (গতকাল) শেষের দিকে ম্যাচটা হেরে গেছি। আমি চিন্তাও করিনি শেষ দিকে ম্যাচটা হেরে যাব।’

বিজ্ঞাপন

এমন হারের দুটি কারণ ধরা পড়েছে বাংলাদেশ অধিনায়কের চোখে, ‘আমার কাছে মনে হয় বোলাররা ভালো জায়গায় বল করতে পারেনি। ওদের দুই ব্যাটসম্যান খুব ভালো ব্যাটিং করেছে।’ যদিও পরে আবার বলেছেন, ‘আসলে যখন দল হারবে তখন নির্দিষ্ট করে কাউকে দোষ দিতে পারবেন না। দল হারা মানে সবাই হারা, দল জেতা মানে সবাই জেতা। দল যখন হেরেছে, সবাই একসঙ্গেই হেরেছি।’

তবে ক্যারিবীয়দের ৩৯৫ রানের লক্ষ্য দিয়েও জিততে না পারার পেছনে চোটে ম্যাচের বাইরে চলে যাওয়া সাকিবের অনুপস্থিতির একটা ভূমিকা দেখেন মুমিনুল, ‘সাকিব ভাই থাকলে বোলিং অনেক গোছানো হতো। যেহেতু সিনিয়র বোলার, সিনিয়র ব্যাটসম্যান, সবাইকে আগলে রাখতে পারতেন। ওনাকে মিস করেছি, বিশেষ করে বোলিংয়ে।’

এর আগে চারটি টেস্টে অধিনায়কত্ব করলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে সাকিবকে দলে পাননি মুমিনুল। এবার যা–ও পেলেন, সেটিও না পাওয়ার মতোই। তারপরও অধিনায়ক যেন খুঁজে নিতে চাইলেন সান্ত্বনা, ‘সাকিব ভাই না থাকলেও স্পিনাররা ভালো করেছে। তাইজুল, নাঈম, মিরাজ ভালো বল করেছে। যে বোলিং আক্রমণ ছিল, একটু ভালো লেংথে বল করলে ওরা ম্যাচ জেতানোর যোগ্য। আমরা একটু দুর্ভাগা ছিলাম, ভালো জায়গায় বল করতে পারিনি।’

default-image

টেস্টে পঞ্চম দিনের উইকেট যে রকম হওয়ার কথা, কাল সে রকম ছিল না জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট। তবে উইকেটে যেটুকুই সুবিধা ছিল, মুমিনুলের কথায় ফুটে উঠেছে সেটুকুও কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ, ‘উইকেটে সুযোগ ছিল। কিন্তু আমরা আমাদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি।’ তাঁর আক্ষেপ ফিল্ডিং নিয়েও, ‘দুই ব্যাটসম্যানের দুইটা সুযোগ ছিল। কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচ বদলে যেত। এই উইকেটে সেট হয়ে গেলে আউট করা কঠিন।’

মেয়ার্সকে যেমন আউটই করতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের প্রশংসায় ভিজলেন অভিষেকেই ডাবল সেঞ্চুরি করা ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যানও, ‘অসাধারণ ব্যাটিং করেছে (মেয়ার্স)। সহজ না তো! দ্বিতীয় ইনিংসে প্রায় ৪০০ রান তাড়া করা, নিজে ২০০ করা অসাধারণ!’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন