default-image

জিমি অ্যান্ডারসনের বলে ঋষভ পন্তের ওই রিভার্স সুইপ নিয়ে মেতেছে ক্রিকেট দুনিয়া। কী অসাধারণ স্পর্ধাই না পন্ত শুক্রবার আহমেদাবাদে দেখালেন। টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে প্রায় ৯০০ উইকেট পকেটে নেওয়া ইংলিশ ফাস্ট বোলারও ওই রিভার্স সুইপ খেয়ে হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। হয়তো মনে করার চেষ্টা করলেন শেষবার কে তাঁকে এভাবে ‘অপমান’ করেছে!

পন্ত আহমেদাবাদ টেস্টের দ্বিতীয় দিন সেঞ্চুরি করে খেলাটাই ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর সেই ইনিংসে ছিল বীরত্ব, তারুণ্যের স্পর্ধা। এই ‘স্পর্ধা’ শব্দটা ব্যবহৃত হবে ওই সময়ের পরিস্থিতি বিচারেই। খেলাটা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল, তাতে উইকেট হাতে রেখে, ধীরেসুস্থে খেলাটাই প্রত্যাশিত ছিল পন্তের কাছে। কিন্তু তিনি মাঠে গিয়ে প্রতি–আক্রমণকেই বেছে নিলেন। অ্যান্ডারসনকে মারা ওই রিভার্স সুইপটিই আসলে পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অনুষঙ্গ ছিল। যে পরিস্থিতিতে অন্য যেকোনো ব্যাটসম্যান নিজেকে কিছুটা খোলসে ভরে ফেলেন, সেখানে পন্ত করলেন উল্টোটা। এটাকে স্পর্ধা বলা হবে না তো কী বলা হবে।

পন্তের এই ব্যাটিং ক্রিকেট দুনিয়ায় প্রশংসা পেয়েছে। ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও হালে বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী তো বড় ধরনের সনদ দিয়ে দিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক–ব্যাটসম্যানকে, ‘আরও কয়েক বছর এভাবে চালিয়ে গেলে সেরাদের একজন হবে পন্ত।’

default-image
বিজ্ঞাপন

কেবল সৌরভই নন, পন্তের প্রশংসায় মেতেছেন সুনীল গাভাস্কারও। তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। অপ্রতিরোধ্য! ব্রিলিয়ান্ট—এমন কত শব্দ যে ব্যবহার করছেন তাঁরা। কিন্তু এই পন্তই যে কয়েক দিন আগে জাতীয় দল থেকেই বাদ পড়তে চলেছিলেন!

প্রতিভাবান বলে জাতীয় দলে নেওয়া হলেও সে অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারছিলেন না পন্ত। কেউ কেউ তো তাঁকে বাতিলের খাতাতেই ফেলে দিচ্ছিলেন প্রায়। কিপিংটা মোটেও ভালো হচ্ছিল না, ব্যাটিংয়ে সম্ভাবনা জাগিয়েও দ্রুত আউট হয়ে যাচ্ছিলেন। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছিল যে বিকল্পই ভাবা শুরু করে দিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কিছু দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজের শুরুতেই তো উইকেটরক্ষক হিসেবে ঋদ্ধিমান সাহা ছিলেন প্রথম পছন্দ। অ্যাডিলেডে দিনরাতের টেস্টে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ঋদ্ধিমানের জায়গায় ‘একটু ভালো’ ব্যাটসম্যান নেওয়ার ভাবনা থেকেই পন্তকে দলে নেওয়া। মেলবোর্নে পরের টেস্ট সুযোগ পেয়েই নিজেকে ‘ঋদ্ধিমানের চেয়ে ভালো’ প্রমাণ করলেন। পেছনেও ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক বিস্ময় উপহার দিয়ে চলেছেন। ব্রিসবেনে শেষ টেস্টে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ে পন্তের ইনিংসটি তো ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের স্মরণীয় ইনিংসের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

default-image

তবে পন্তের এই বদল কিন্তু রাতারাতি আসেনি। পরিশ্রম করেছেন। কিপিং, ব্যাটিং নিয়ে আলাদা কাজ করেছেন। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন, এর পরপরই এসেছে এই বদল। পরিশ্রম যে ভাগ্য গড়ে দেয়, পন্ত বোধ হয় এর সবচেয়ে দারুণ উদাহরণ।

পন্তকে রীতিমতো খাটিয়ে মেরেছেন কোচ রবি শাস্ত্রী। এটি তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আমি ওর প্রতি কঠোর হয়েছি। সোজাসাপ্টা বলে দিয়েছি, সাফল্য পেতে হলে খেলাটাকে শ্রদ্ধা করতে হবে। ওজন কমানোর কথা বলেছি, বলেছি, কোনো কিছুই সহজে আসে না। ওর প্রতিভা ছিল, প্রয়োজন ছিল কেবল প্রতিভাটাকে নিয়ে কাজ করা। এই কয়েক মাসে সে রীতিমতো পাগলের মতো পরিশ্রম করেছে। যে চ্যালেঞ্জ ওর দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল, তাতে দারুণ সাড়া দিয়েছে পন্ত।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন