বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি রিচার্ড ফ্রডেনস্টেইন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘টিম মনে করেছে, নিজের পরিবার ও অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের ভালোর জন্য অধিনায়কত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত তাঁর। বোর্ড পেইনের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে, এখন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পেইনের উত্তরসূরি নির্বাচন করা হবে।’


সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন পেইন। জানিয়েছেন, ‘আজ আমি অস্ট্রেলিয়ার ছেলেদের জাতীয় দলের অধিনায়কের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা বেশ কঠিন এক সিদ্ধান্ত, কিন্তু আমার, আমার পরিবার ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটাই সঠিক।’

পেইন জানিয়েছেন, তাঁর এই ‘অপরাধের’ কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগেই জানত, ‘প্রায় চার বছর আগে আমি এক সহকর্মীর সঙ্গে কিছু বার্তা আদান-প্রদান করেছিলাম, যা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ন্যায়বিষয়ক কমিটি তদন্ত করেছিল। যে প্রক্রিয়ায় আমি সম্পূর্ণভাবে সাহায্য করেছিলাম। সেই তদন্ত ও ক্রিকেট তাসমানিয়ার মানবসম্পদ বিভাগের তদন্তে ন্যায়বহির্ভূত কিছু উঠে আসেনি। তা সত্ত্বেও আমি তখন এ কাজ করে অনেক অনুশোচনা করেছিলাম। এখনো করি। সে সময় আমার স্ত্রী ও পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আমি কৃতিজ্ঞ, তারা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে।’


কিন্তু এখন আবার সেসব সামনে আসায় বিব্রত পেইন, ‘আমি ভেবেছিলাম, ব্যাপারটা ওখানেই শেষ। আমি এখন দলের ওপর পূর্ণ মনোনিবেশ করতে পারব, যা আমি তিন-চার বছর ধরে করে আসছি। কিন্তু এখন আমি জেনেছি, ওই কথা এখন প্রকাশিত হয়ে গেছে সবার সামনে। ২০১৭ সালের আমার ওই কীর্তি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কসুলভ ছিল না। আমি আমার পরিবার, স্ত্রী ও অন্যান্য পক্ষকে যেভাবে কষ্ট দিয়েছি, সে ব্যাপারে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

default-image

অধিনায়ক না থাকলেও দলের সক্রিয় সদস্য থাকবেন পেইন, ‘আমার এ কাজের জন্য খেলার যে মর্যাদাহানি ঘটেছে, তাঁর জন্য আমি দুঃখিত। আমি বিশ্বাস করি, এমন সময়ে আমার অধিনাকত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই উচিত। অ্যাশেজের আগে আমি চাই না, এ কারণে দলের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটুক।’


সতীর্থসহ সবার কাছেই ক্ষমা চাইলেন পেইন, ‘অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে আমি আমার ভূমিকা পুরোপুরি উপভোগ করেছি। আমার ক্রীড়াজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন অস্ট্রেলিয়ার ছেলেদের দলকে নেতৃত্ব দেওয়া। আমার সতীর্থরা আমাকে যেভাবে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি তাদের কাছেও ক্ষমা চাইছি। এত বড় একটা সিরিজের আগে আমার অতীতের এক কীর্তির জন্য দলের ওপর প্রভাব পড়েছে, যে কারণে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ খেলোয়াড় হিসেবেই খেলে যাব আমি। সবাইকে ধন্যবাদ।’

default-image

এদিকে হেরাল্ড সান জানিয়েছে, ২০১৭ সালে ব্রিসবেনের গ্যাবায় অনুষ্ঠিত হওয়া অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের ঠিক আগেই এ বার্তা-চালাচালি কাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন পেইন। ক্রিকেট তাসমানিয়ার হয়ে কাজ করা নারীকে এমন কিছু অশ্লীল বার্তা পাঠিয়েছিলেন পেইন, যা প্রকাশযোগ্য নয়। পেইনের এ আচরণের বিহিত চেয়ে ২০১৮ সালেই সেই নারী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আর ক্রিকেট তাসমানিয়ার কাছে অভিযোগ পাঠান। ২০১৭ সালে ক্রিকেট তাসমানিয়ায় নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন সেই নারী। শুধু তা-ই নয়, অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার সংস্থার কাছেও অভিযোগ দিয়েছিলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৩ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন পেইন। জাতীয় দলগুলোর মধ্যে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর চেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন শুধু ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি (৬০) আর বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম (২৮)।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন