default-image

দুজনকে বাদ রেখেও অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজে দিন বদলের গানটা ঠিকমতো শোনাতে পারেনি রুটের ইংল্যান্ড, তিন টেস্টের সিরিজে প্রথম দুটিতে ড্র করার পর শেষ টেস্টে হেরে সিরিজ হেরেছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজে ভরাডুবির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজেও ব্যর্থতার জেরে পদত্যাগ করেন রুট, তাঁর জায়গায় স্টোকস পেয়েছেন টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব।

অ্যান্ডারসনের আবার দলে ফেরার স্বপ্নটাও এখন রঙিন, ‘স্টুয়ার্ট (ব্রড) ও আমি আশায় ছিলাম যে, আমাদের ক্যারিয়ারটা শেষ হয়ে যায়নি। এখন আবার (দলে ফেরার) সম্ভাবনা আছে জেনে ভালো লাগছে।’ টেস্টে ৬৪০ উইকেট অ্যান্ডারসনের, ব্রড ৫৩৭ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের খোলনলচেই বদলে গেছে। অ্যাশেজের পর কোচ ক্রিস সিলভারউডকে ছাঁটাই করে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি), উইন্ডিজে ব্যর্থতার জেরে দায়িত্ব ছেড়ে দেন বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাশলি জাইলসও। উইন্ডিজ সফরের পর রব কি পেয়েছেন বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব, এরপর স্টোকস হলেন টেস্ট অধিনায়ক। এখনো কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে স্টোকস ও কি—দুজনই জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ৩৯ বছর বয়সী অ্যান্ডারসন আর ৩৫ বছর বয়সী ব্রডকে দলে ফেরাতে চান।

সেটির প্রতিক্রিয়ায় বিবিসি রেডিও ল্যাঙ্কাশায়ারে অ্যান্ডারসন বললেন, ‘এটার মানে হচ্ছে আমাদেরকে নিজেদের কাউন্টির হয়ে ভালো খেলতে হবে, প্রমাণ করতে হবে যে আমরা এখনো টেস্ট দলে জায়গা পাওয়ার মতো ভালো খেলতে পারি।’ কি ও স্টোকসের ভূমিকায় তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা কেটেছে বলেও স্বস্তি জিমির, ‘পরিস্থিতি যেমন ছিল, এই দায়িত্বগুলোতে (বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কোচ, অধিনায়ক) কেউ না থাকায় আমরা নিশ্চিত হতে পারছিলাম না কী হতে যাচ্ছে। এখন এই ধোঁয়াশা কেটে যাওয়ায় ভালো লাগছে।’

অ্যাশেজের পর ক্যারিবিয়ানে ব্যর্থতার পর রুটের বদলে স্টোকসকেই অধিনায়ক হিসেবে চেয়েছেন প্রায় সবাই। নাসের হুসেইন, মাইকেল আথারটন, মাইকেল ভনের মতো ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কেরাও ৩০ বছর বয়সী স্টোকসকেই চাইছিলেন অধিনায়ক হিসেবে। যদিও ইংলিশ দৈনিক দ্য টাইমসে লেখা কলামে আথারটন লিখেছেন, স্টোকসকে অধিনায়ক করার জন্য এটিই সঠিক সময় হলেও তাঁকে দীর্ঘমেয়াদে অধিনায়ক করা উচিত হবে না ইংল্যান্ডের।

default-image

শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা পরে দেখা যাবে। তবে আপাতত স্টোকসের প্রশংসায় মেতেছেন অ্যান্ডারসনও। তাঁর চোখে স্টোকসকেই অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত, ‘স্বভাবে নেতা’ স্টোকসের প্রতি ‘পুরো দলের সম্মান আছে’, আর ‘দলকে কীভাবে খেলাবেন সে ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা আছে’ স্টোকসের।

সেই দলের অংশ হওয়ার ইচ্ছা জিমিরও, ‘এটির (স্টোকসের অধীন দলের) অংশ হতে খুব ভালো লাগবে আমার। খুব কঠিন কয়েকটা বছর কেটেছে আমাদের, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তলানিতে আছি আমরা। ইংলিশ ক্রিকেটের টেস্ট ম্যাচ জেতার ধারায় ফেরা উচিত।’

টেস্টে জেতার ধারা হোক বা অ্যান্ডারসনের টেস্ট দলে ফেরার সম্ভাবনা, সেটির সুযোগ আগামী জুনেই হয়ে যাচ্ছে। জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজ আছে ইংল্যান্ডের, এরপর আগস্ট-সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজও আছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড, যেটি আসলে করোনার কারণে স্থগিত হওয়ার সিরিজের বাকি থাকা টেস্ট।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন