বিজ্ঞাপন

মাত্র ২৮ বছর বয়সেই গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানের জার্সিকে বিদায় বলে দেওয়া আমির জানালেন সে কথা। রোহিত-কোহলি দুজনের কারও বিপক্ষে বোলিং করাই নাকি তেমন কঠিন মনে হতো না আমিরের, এর মধ্যে রোহিতকে বোলিং করা বেশি সহজ মনে হতো।

তাঁর অবসরের মতোই আমিরের ক্যারিয়ারের গল্পটা দারুণ কিছুর আশা জাগিয়ে সেটির গলা টিপে ধরার মতো। ক্যারিয়ারের শুরুতে যাঁকে কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামের যোগ্য উত্তরসূরি মনে করা হতো, সেই আমির স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ২০১০ সালে নিষিদ্ধ হলেন পাঁচ বছরের জন্য।

default-image

এরপর আগের ধার ছিল না, তবু মাঝে মাঝে ঝলক ঠিকই দেখিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের জার্সিতে আমিরের ৩৬ টেস্টে ১১৯ উইকেট, ৬১ ওয়ানডেতে ৮১ উইকেট আর ৫০ টি-টোয়েন্টিতে ৫৯ উইকেট আফসোসই বেশি জাগায়।

সে আফসোস হয়তো আমিরকেও ছুঁয়ে যায়। তবে বাধাবিঘ্ন সওয়া ছোট্ট ক্যারিয়ারে স্মৃতিও কম নয়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচগুলো যেমন। হয়তো বিরল বলেই সেই স্মৃতিগুলো বেশি তাজা। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ তো দ্বিপক্ষীয় রাজনীতির কাছে মার খেয়েছে অনেক দিন হলো, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচই আমির খেলেছেন হাতে গোনা কয়েকটি।

২০১৬ এশিয়া কাপ, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আর ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের স্মৃতিগুলো হয়তো তাই চাইলেই ছুঁয়ে দেখতে পারেন আমির, অনুভব করতে পারেন।

default-image

কোহলি-রোহিতদের সঙ্গে দ্বৈরথের ব্যাপারে প্রশ্নে উত্তর দিতে তাই তাঁর কষ্ট হয় না। বললেন, ‘ওদের দুজনের কারও বিপক্ষেই বোলিং করা আমার খুব একটা কঠিন মনে হয়নি। সত্যি বলতে ওর (রোহিত) বিপক্ষে বোলিং করতে বরং বেশি সহজ লেগেছে। মনে হতো বল যেদিকেই সুইং করাই না কেন, ওকে আউট করতে পারব। বাঁহাতি বোলারের ইনসুইঙ্গারে ও ঝামেলায় পড়ে, যে বলগুলো অফ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যায় সেগুলোতেও খাবি খায়। বিরাটকে বোলিং করতে তুলনায় একটু বেশি কষ্ট হতো, কারণ ও চাপের মুহূর্তে জ্বলে ওঠে। এ ছাড়া এ দুজনের কারও বিপক্ষেই বোলিং করতে বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়নি আমাকে।’

কোহলির প্রতি মুগ্ধতা অবশ্য আমিরের অনেক বেশি। তাঁর সঙ্গে কোহলির লড়াই নিয়ে চারপাশের মানুষের আগ্রহ আমিরকে বেশ উজ্জীবিতই করত, ‘আমার চাপের মুহূর্তে বোলিং করতে ভালো লাগে। বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্যই উন্মুখ থাকি আমি। কোহলির পারফরম্যান্সই ওর হয়ে কথা বলে, এ নিয়ে আমাদের আর কিছু বলার নেই। সব সংস্করণে নিজেকে প্রমাণ করেছে, দেখিয়েছে কেন ওকে কিং কোহলি বলা হয়। সে-ও চাপের মুহূর্তে জিতে বেরিয়ে যায় সব সময়। ওকে বোলিং করতে আমার ভালো লাগত সব সময়। বোলাররা তো সব সময়ই ব্যাটসম্যানের উইকেট পাবে, তবে এটা আমাকে ভীষণ তৃপ্তি দেয় যে মানুষ আমার সঙ্গে কোহলির লড়াই দেখতে পছন্দ করে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন