বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এখনো আক্ষেপ করেন অনেকে। টিভি রিপ্লেতেও দেখা গেছে, সে ম্যাচের ৪০তম ওভারে রুবেল হোসেনের বলটা কোমরের নিচেই ছিল। ৯০ রানে অপরাজিত রোহিত শর্মা রুবেলের ফুলটস বলে ক্যাচ দেন। কিন্তু আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড সেটিকে নো বল ডাকেন।

বেঁচে গিয়ে রোহিত আরও ৪৬ রান করেছিলেন মাত্র ২৪ বলে। ভারত ৩০২ রান তোলায় ম্যাচটাও পরে বাংলাদেশের মুঠো ফসকে বেরিয়ে যায়। এ নিয়ে তখন তুমুল বিতর্ক হয়েছিল ভারত ও বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে।

অনলাইনে নিজেদের পক্ষে নানা প্রচারণায় মুখর ছিলেন দুই দলের সমর্থকেরা। অবস্থা এমন চরমে উঠেছিল যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মিছিল বের করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বেআইনি প্রভাব ফেলার অভিযোগ এনে আইসিসি থেকে পদত্যাগ করেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ছয় বছর আগের সেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতি কাল কিছুটা হলেও ফিরেছিল রে মিচেল ওভাল মাঠে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার নারীদের ম্যাচে। শেষ বলে ৩ রান দরকার, এমন মুহূর্তে ভারতের পেসার ঝুলন গোস্বামীর ফুলটস মিডউইকেট দিয়ে মারতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন নিকোলা ক্যারি। ভারত তখন জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা। কিন্তু ডেলিভারিটি বৈধ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তৃতীয় আম্পায়ার ফিলিপ গিলেস্পির দ্বারস্থ হন মাঠের দুই আম্পায়ার।

বিভিন্ন কোণ থেকে বারবার ভিডিও রিপ্লে দেখে তৃতীয় আম্পায়ার রায় দেন, নো বল, অর্থাৎ ভারত তো জেতেইনি, উল্টো অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সুযোগ আরও সহজ হলো।

ফ্রি হিট পেল অস্ট্রেলিয়া, তখন অস্ট্রেলিয়ার দরকার আর ২ রান। সেঞ্চুরি করা বেথ মুনি ও নিকোলা ক্যারি শেষ বলে ভারতের বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগে ২ রান তুলে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটের জয় এনে দেন।

নো বলের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয়রা মেনে নেয়নি। অস্ট্রেলিয়া নারী দলের টানা ২৬ জয়ের ধারা থামানোর খুব কাছে গিয়েও এভাবে ভারতীয়দের হৃদয় ভাঙতে দেখা মেনে নিতে পারেনি অনেকেই। কাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছেন দুই দলের সমর্থকেরা। সংবাদকর্মীরাও তাতে অংশ নেন।

https://www.foxsports.com.au/cricket/australia/australias-miraculous-comeback-victory-marred-by-controversial-umpiring-call/news-story/2d0a6b07d78939cc2454336f1b58e847

ক্রিকেট সংবাদকর্মী জিওফ লেমন টুইট করেন, ‘আমার মনে হয় না ওটা নো বল ছিল। ব্যাটার সামনে থেকে খেলেছে, (শট খেলার সময়) পেছনের পা ভাঙা ছিল। ক্রিজ পর্যন্ত যেতে যেতে বলটা কোমরের নিচে নেমে যেত।’ ক্রিকইনফোর ক্রিকেট লেখক শশাঙ্ক কিশোর অবশ্য নো বলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত, ‘নো বলে কোনো সমস্যাই নেই। চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত।’

ক্রিকেটের খ্যাতিমান সংবাদকর্মী ড্যানিয়েল ব্রেটিগের টুইট, ‘ওটা নো বল ছিল না। কে, কী বলল, তা পরোয়া করি না। সত্যি বলতে, ভারত জিতেছে। নো বলের সিদ্ধান্তটা বেশি বেশি হয়েছে। সত্যিটা হলো, সরাসরি ম্যাচ চলার সময় (নো) ডাকা হয়নি, এটাই সব বুঝিয়ে দেয়।’

ভারতের ক্রিকেট লেখক বোরিয়া মজুমদার টুইট করেন, ‘ব্যাটার ক্রিজের বাইরে ছিল। সে ভালোই কুঁজো হয়ে ছিল, তবু নো বল ডাকা। সত্যি বলতে, এটা আমাদের অনেক দিন তাড়া করবে। হজম করা খুব কঠিন।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সেই ম্যাচটা যেমন এখনো তাড়া করে ফেরে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন