লিটন-মিরাজের জুটিতে যোগ করেছে ১০০ রান।
লিটন-মিরাজের জুটিতে যোগ করেছে ১০০ রান। ছবি: প্রথম আলো

স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলতে যা বোঝায়, সে হিসাবে দলের শেষ দুই ব্যাটসম্যান তাঁরা। লিটন দাস আর মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর তাই প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল, বাংলাদেশকে ফলোঅন পার করিয়ে নেওয়া। সেই দায়িত্ব ঠিকঠাকভাবেই আপাতত পালন করেছেন লিটন-মিরাজ।

সপ্তম উইকেটে দুজনের জুটিতে ১০১ রান হয়ে গেছে এরই মধ্যে। তাতে বাংলাদেশও ফলোঅন এড়িয়ে ২৫০ রান পেরিয়ে গেছে। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের রানের যতটা সম্ভব কাছে যাওয়ার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ভরসা মানছে লিটন-মিরাজের ব্যাটকেই। লিটন টানা দ্বিতীয় ফিফটি পেয়েছেন আরও কিছুক্ষণ আগে, একটু আগে ফিফটি পেলেন মিরাজও।

চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করেছিলেন, মিরপুরে আজ আবার ফিফটি করেছেন লিটন। তাঁর ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয়। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া মিরাজের এটি টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয় ফিফটি।

বাংলাদেশের রান এখন ৮৫ ওভারে ৬ উইকেটে ২৬৮। লিটন অপরাজিত আছেন ৬৪ রানে, মিরাজ ৫১ রানে।

তবে খেলার কৌশলে এখন কিছুটা বদল আসতে পারে। ইনিংসে ৮০তম ওভারের পর নতুন বল পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরই মধ্যে পেসাররা আক্রমণে ফিরেছেন, ৮১তম ওভার দিয়ে নতুন বলে বোলিং শুরু করেছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

বিজ্ঞাপন
default-image

এই পিচে যে এখনো ব্যাটসম্যানদের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার মতো তেমন কিছু নেই, ব্যাটসম্যান ভুল না করলে কিংবা বোলার অসাধারণ কোনো বল না করলে আউট হওয়াই বরং কঠিন। লিটন-মিরাজের জুটি সেটি আরেকবার বুঝিয়েছে।

এখন পর্যন্ত লিটন বা মিরাজ কেউই অপ্রয়োজনীয় কোনো শট খেলেননি। কাল বিকেলে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু থেকেই তামিম, মুমিনুল কিংবা আজ সকালে প্রথম সেশনে মুশফিক যা করেছিলেন, লিটন-মিরাজ এখনো সেরকম অযথা আক্রমণাত্মক হওয়ার প্রবণতা দেখাননি।

এখন পর্যন্ত ৩৫ ওভারের বেশি খেলে ফেলেছেন দুজন। তবে বাজে বল পেলেই যে মারছেন, সেটির প্রমাণ দেয় লিটন ও মিরাজের ইনিংসে ৬টি করে চার। এনক্রুমা বোনারের বলে স্কয়ার কাট করে ইনিংসের ষষ্ঠ চার মেরেই ফিফটিতে পৌঁছেছেন লিটন। আর মিরাজ ফিফটিতে পৌঁছেছেন গ্যাব্রিয়েলের ফুল লেংথ বল লেগ গ্লান্স করে।

ফিফটির পথে লিটন একটা মাইলফলকও পেরিয়েছেন। ব্যক্তিগত ৩৪ রানের সময় টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন ২২তম টেস্ট খেলতে নামা লিটন।

অবশ্য চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টের পর মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালের সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং যা বলে, তাতে এতে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কিছু নেই। আনকোরাদের নিয়ে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেভাবে টেস্টের ব্যাটিংয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এখনো তা সেভাবে দেখাতে পারেননি সিরিজে। তাই ভালো খেলতে থাকা এই জুটি কতক্ষণ পর্যন্ত 'টেস্ট মানসিকতা' দেখিয়ে যেতে পারে, সেটি নিয়ে আগাম কিছু বলা ঝুঁকির!

এর আগে দিনের প্রথম সেশনেই আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুজনই কর্নওয়ালের কিছুটা বাড়তি বাউন্স পাওয়া বলের শিকার, এর মধ্যে ফিফটি পাওয়ার পর অযথা রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মুশফিকের আউটটা হতাশায় ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন