বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শচীন টেন্ডুলকার অবশ্যই বিশেষ একটি নাম। তাই বলে এত মানুষ রেখে একজনের নাম চলে আসবে সুনির্দিষ্টভাবে। কীভাবে সম্ভব?

সম্ভব হয়েছে এ কারণেই যে প্রশ্নটা যাঁকে করা হয়েছে, তাঁর নামটাই শচীনের নামের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা—শচীন বেবি। তাঁর কি আর শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিনে অন্য কারও জন্মদিন মনে থাকার কথা! শুধু নামে নয়, কাজেও কিছুটা মিল আছে আসল শচীনের সঙ্গে। শচীন বেবি নিজেও ভারতের প্রথম শ্রেণির একজন ক্রিকেটার। আইপিএলেও খেলেছেন শচীনের প্রতিপক্ষ হয়ে।

default-image

ভারতের জার্সিতে তখনো শচীন টেন্ডুলকারের অভিষেক হয়নি। তবে পাওয়া যাচ্ছিল এক বিস্ময় বালকের আগমনী বার্তা। কৈশোর পেরোনোর আগেই ঘরোয়া ক্রিকেটে যাঁর ব্যাট হয়ে উঠেছিল প্রতিপক্ষের বোলারদের কাছে ‘তলোয়ার’–এর মতো।

কেরালার এক দম্পতির মনে তখনই গেঁথে যায় নামটি। ব্যস, তাদের কোলজুড়ে পুত্রসন্তান আসার পর শচীনের নামের সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর নাম রাখা হয় ‘শচীন বেবি’। শেষের ‘বেবি’টা শিশু বোঝাতে নয়, তা আসলে পদবি।

যাঁর নামের সঙ্গেই ‘বেবি’, সেই শচীন বেবি নিজেই বাবা হয়েছেন পাঁচ বছর আগে। নিজের ছেলের নামেও রেখেছেন শচীনকে। তার নাম স্টিভ শচীন। এখানে ‘স্টিভ’ মানে স্টিভ ওয়াহ। শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে আরেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার, অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ ওয়াহকেও জড়িয়ে রেখেছেন নিজের ছেলের নামে।

১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর ভারতের জার্সিতে অভিষেক শচীন টেন্ডুলকারের। শচীন বেবির জন্ম এর প্রায় ১১ মাস আগে, ১৯৮৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর। শচীনের উত্থান–পরবর্তী যুগে অনেক ছেলেমেয়ের নামই হয়তো ‘শচীন’–এর নামে রাখা হয়েছে, তবে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেকের আগেই শচীনের নামে কারও নাম রাখা—এটাকে ব্যতিক্রমীই বলতে হবে।

শুধু নাম রেখেই ক্ষান্ত হননি মা–বাবা। ছেলের হাতে তুলে দিয়েছেন ব্যাটও। ভারতীয় জাতীয় দলে খেলা না হলেও তা খেলার মতো প্রতিশ্রুতিও জাগিয়েছিলেন শচীন বেবি। নইলে কি আর খেলতে পেরেছেন ভারত ‘এ’ দলের হয়ে! বেশ কয়েক বছর খেলেছেন আইপিএলেও।

২০১৩ সালে আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে গিয়ে শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে শচীন বেবির পরিচয়। টেন্ডুলকার সেবার খেলেছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে। শচীনের সতীর্থ দীনেশ কার্তিক পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

default-image

আজ শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিনের রাতে কেরালা থেকে ফোনে শচীন বেবি বলছিলেন, ‘দীনেশ কার্তিক আমার খুব ভালো বন্ধু। ও তো আমার সম্পর্কে সবই জানত।

ও–ই আমাকে নিয়ে শচীনের কাছে গিয়ে বলে “আমার নাম শচীন।” শচীন বলেন, “হ্যাঁ, আমি ওর নাম শুনেছি। ওর ব্যাপারে আমি জানি।” সেটা আমার জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত ছিল। সেদিন তিনি আমাকে অনেক পরামর্শও দিয়েছিলেন।’

সেদিনের ম্যাচেও অনেক রোমাঞ্চিত ছিলেন শচীন বেবি। ফিল্ডিংয়ের সময়ের গল্প শোনালেন তিনি, ‘আমি সে ম্যাচে কাভারে ফিল্ডিং করছিলাম। সেদিন শচীন ও দিক দিয়ে খেলতে গিয়ে আমার হাতে বারবার আটকা পড়ছিলেন। বিষয়টি আমি খুব উপভোগ করেছি।’

ফোনে কণ্ঠ শুনেই বোঝা গেল, শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করাটাও একই রকম উপভোগ করেছেন শচীন বেবি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন